বাগাতিপাড়ায় হত্যা-ডাকাতি মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন, একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৮৮৬ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় হত্যা-ডাকাতি মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন, একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বহুল আলোচিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শান্তকে হত্যা ও ডাকাতি মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নাটোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বেগুনিয়া গ্রামের আব্দুল হামেদের ছেলে শরিফুল, মকবুল হোসেনের ছেলে রানা ও খোদাবক্স মণ্ডলের ছেলে মাজেদুল ওরফে মাজদুল, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী চকপাড়া এলাকার খলিলের ছেলে রিপন, একই উপজেলার ঝিনা সরকারপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে শওকত আলী মণ্ডল, নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত লহর প্রামানিকের ছেলে হারুন অর রশিদ এবং কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার হাট মল্লিকবেগ বোঘলারপাড়ার মণ্ডলপাড়ার মোস্তফা মণ্ডলের ছেলে লিটন মণ্ডল ওরফে মিঠন মণ্ডল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেড়েরবাড়ি সরদারপাড়া গ্রামের মো. জিয়া সরদারের ছেলে শান্তকে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করে আসামিরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাগাতিপাড়া মডেল থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় আট বছর পর আদালত বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন।
রায়ে শরিফুল ইসলাম, লিটন মণ্ডল ওরফে মিঠন, মাজেদুল ওরফে মাজদুল এবং রানাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অপর একটি ধারায় ওই চার আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপর আসামি শওকত আলী মণ্ডলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। এছাড়া আদায়কৃত জরিমানার অর্থের মধ্যে ৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ মামলার এজাহারকারীকে প্রদান করা হবে। আসামিদের পূর্বে হাজতবাসের সময় সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায়ের পর নাটোর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাদীপক্ষও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।




















