তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে উত্তেজনার পর বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক
- আপডেট সময় : ০৮:২১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ১৯১ বার পড়া হয়েছে

তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে উত্তেজনার পর বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক
বাঁশের খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান, সীমান্তে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিক অনুমতির দাবি বিজিবির
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম তিনবিঘা করিডোর সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিএসএফের বাঁশের খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডোর সড়কের পাশে বিএসএফের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ভারতীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় চলমান কাজ বন্ধ হবে না এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ডিএএমপি-৭ এর উপ-পিলার ১২ নম্বর সংলগ্ন ভারতীয় তিনবিঘা করিডোর এলাকায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু এবং ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান।
সূত্র জানায়, বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে ৩ ফুট উচ্চতার বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছিল। তারা আরও অভিযোগ করে, এ সময় বিজিবি সদস্যরা অস্ত্র কক করে ফায়ারিং পজিশনে অবস্থান নেয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
জবাবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। বিএসএফ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে খুঁটি স্থাপন করায় আত্মরক্ষামূলক ও প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয় বিজিবি।
বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগও তোলে। এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফসল নষ্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
বিজিবি আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে তা অবশ্যই ১৫০ গজের বাইরে করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের তিনবিঘা করিডোর এলাকায় শূন্যরেখার ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা মাপজোখ শুরু করেন। এ সময় তারা বাঁশের খুঁটি স্থাপনের কাজও চালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিজিবির পানবাড়ী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার সোলেমান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের আহ্বান জানান। তবে বিএসএফ কাজ চালিয়ে গেলে উভয় বাহিনী সীমান্তে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়, এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবিষ্যতে শূন্যরেখায় কোনো ধরনের কাজ শুরুর আগে দুই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বলে বিএসএফকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।


















