ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জলবায়ু ও যুব নেতৃত্বের পর এবার ইতালিতে উচ্চশিক্ষা, পূর্ণ স্কলারশিপ পেলেন আফরা ঝিনাইগাতীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর মানববন্ধন পঞ্চগড়কে মডেল জেলা গড়ার ঘোষণা, সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক গোদাগাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পুঠিয়ায় ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে ৩২০ বস্তা সার জব্দ ২৮৫ একর সম্পত্তি, তবু জরাজীর্ণ মসজিদ; আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে বিএসএফের ফাঁকা গুলি, নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৬৪ রাজশাহীর জুয়েলার্সে বড় চুরিঃ খুলনা-ঢাকায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

Rajshahi news photo

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

এম এম মামুনঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য (গানার) তাসনিম রিফাতকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম থেকে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় জন্মস্থান পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

রিফাতের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আসাদুল ইসলামকে স্বজনদের কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ নিজেরাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসা স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্বজনরা জানান, তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রিফাতের মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে পরিবার যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছিল, তখনই আসে রিফাতের মৃত্যুর নির্মম খবর।

পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও হাজারো গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের সময় ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে রিফাতের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তাঁর পরিবার ও স্বজনরা। তিনি স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও শোকাহত পরিবারের সদস্যরা।

স্বজনরা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার অংশ ছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে পরিবারের গর্বের মানুষ হয়ে ওঠেন।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে স্ত্রী ও ছোট্ট কন্যাসন্তানকে নিয়ে থাকতেন রিফাত। কর্মস্থলের দায়িত্বের কারণে নিয়মিত বাড়িতে আসতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

আপডেট সময় : ১০:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

এম এম মামুনঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য (গানার) তাসনিম রিফাতকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম থেকে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় জন্মস্থান পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

রিফাতের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আসাদুল ইসলামকে স্বজনদের কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ নিজেরাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসা স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্বজনরা জানান, তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রিফাতের মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে পরিবার যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছিল, তখনই আসে রিফাতের মৃত্যুর নির্মম খবর।

পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও হাজারো গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের সময় ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে রিফাতের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তাঁর পরিবার ও স্বজনরা। তিনি স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও শোকাহত পরিবারের সদস্যরা।

স্বজনরা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার অংশ ছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে পরিবারের গর্বের মানুষ হয়ে ওঠেন।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে স্ত্রী ও ছোট্ট কন্যাসন্তানকে নিয়ে থাকতেন রিফাত। কর্মস্থলের দায়িত্বের কারণে নিয়মিত বাড়িতে আসতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।