রাজশাহীর জুয়েলার্সে বড় চুরিঃ খুলনা-ঢাকায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮
- আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর জুয়েলার্সে বড় চুরি: খুলনা-ঢাকায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮
এম এম মামুনঃ
রাজশাহীর সাহেববাজারের কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় সাতজনকে এবং চুরি করা মালামাল কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে একজনকে খুলনা থেকে এবং অপর ছয়জনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণ কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকেও ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রবিউল হাসান (৪৫) চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বড়নীখোলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোরের দল সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে কৌশলে সেখানে জটলা তৈরি করে। একপর্যায়ে চোরচক্রের সদস্যরা পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই দোকানের ভেতর দিয়ে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢোকে। এরপর সিন্দুক থেকে বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রূপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চক্রটির সদস্যরা অত্যন্ত কৌশলী। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করে না। ব্যবহৃত সিমকার্ডও অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত। এমনকি যাঁদের নামে সিম নিবন্ধিত, তাঁদের অনেকে নিজেদের নামে সিম থাকার বিষয়টিও জানেন না বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে না। বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে তারা। প্রতিটি চুরির আগে তিন থেকে চার মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে চুরির পাশাপাশি নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পথও নির্ধারণ করে।
কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রটির সদস্যরা রাজশাহীতে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে। ব্যবসার কথা বলে তারা দোকান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে যায় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে আরএমপির কয়েকটি চৌকস দল অভিযান শুরু করে। গত পরশু দিবাগত রাতে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে মো. রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২), একই গ্রামের মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের মোসাকের ছেলে আবু তালেব (৪৫), একই থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের শেখ ফজলু শেখের ছেলে মো. কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে ইউনুসকে (৪৫)।
পরে পুলিশি তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকেই চুরি যাওয়া স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আরএমপি জানিয়েছে, চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















