ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জলবায়ু ও যুব নেতৃত্বের পর এবার ইতালিতে উচ্চশিক্ষা, পূর্ণ স্কলারশিপ পেলেন আফরা ঝিনাইগাতীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর মানববন্ধন পঞ্চগড়কে মডেল জেলা গড়ার ঘোষণা, সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক গোদাগাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পুঠিয়ায় ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে ৩২০ বস্তা সার জব্দ ২৮৫ একর সম্পত্তি, তবু জরাজীর্ণ মসজিদ; আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে বিএসএফের ফাঁকা গুলি, নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৬৪ রাজশাহীর জুয়েলার্সে বড় চুরিঃ খুলনা-ঢাকায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮

আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া, ৭৫০ বিঘা আম বাগান কর্তন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৮৪ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় কেটে ফেলা হচ্ছে আম গাছ

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া, ৭৫০ বিঘা আম বাগান কর্তন!

নিউজ ডেস্কঃ
গত কয়েক বছর থেকে আমের দাম ক্রমাগত কমে যাওয়ায় লোকসানে পরেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আম চাষিরা। অন্যদিকে জমি লিজ দিলে বা অন্য ফসল বা ফলের বাগান করলে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তাই এই লোকসানের কারণে উপজেলার প্রায় ৭৫০ বিঘা জমির আম বাগান কেটে ফেলেছেন আম চাষিরা। এভাবে আম বাগান সাবার হতে থাকলে অদূরভবিষ্যতে আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া উপজেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলও। স্থানীয় সচেতন মহল ও চাষিদের দাবি, আম বাগান কর্তনের এই পরিমাণ ১ হাজার বিঘা ছাড়িয়ে যাবে। তাই বাকি বাগান কর্তন বন্ধে আমচাষিরা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে আম সংরক্ষণাগার ও বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মোট ৯ হাজার ২০০ বিঘা আমবাগান বাগাতিপাড়া উপজেলায়। এর মধ্যে চলতি বছরে পুরোনো ও কম উৎপাদনশীল জাতের প্রায় ৭৫০ বিঘা আমবাগান কর্তন করা হয়েছে। তার বিপরীতে ৩৬৫ বিঘা জমিতে আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল জাতের আম গাছ পুনরায় লাগানো হয়েছে। আর বাকি জমি গুলোতে লাভজনক ফল-ফসল, কলা, ড্রাগন, কূল, পেয়ারা ও সবজি চাষ করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশি আম বাগান কর্তন করা হয়েছে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে। এছাড়া বাগাতিপাড়া সদর, জামনগর, ফাগুয়াড়দিয়াড়, দয়ারামপুর ইউনিয়ন এবং পৌরসভাতেও কম-বেশি আম বাগান কর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষণ ভোগ, ফজলি এবং লেংড়া জাতের আম বাগান বেশি কর্তন করা হচ্ছে বলেও অফিস সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় আমচাষিরা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শ্রমিকের মজুরিসহ সার ও কীটনাশকের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে বাগান ও আমের পরিচর্যা খরচও বেড়ে গেছে। অপরদিকে দিন দিন কমেছে আমের দাম। ১৪-১৫ বছর আগে যে আম প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে, ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। সেই আম গত কয়েক বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। তাই সমপরিমাণ জমিতে আমবাগানের চেয়ে অন্য যেকোনো ফসল চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তাই বাগানের জমিগুলো এখন ফসলের মাঠে পরিণত হচ্ছে।

গত কয়েক বছর থেকে আমের দাম ক্রমাগত কমে যাওয়ায় লোকসানে পরেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আম চাষিরা। অন্যদিকে জমি লিজ দিলে বা অন্য ফসল বা ফলের বাগান করলে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তাই এই লোকসানের কারণে উপজেলার প্রায় ৭৫০ বিঘা জমির আম বাগান কেটে ফেলেছেন আম চাষিরা। এভাবে আম বাগান সাবার হতে থাকলে অদূরভবিষ্যতে আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া উপজেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলও। স্থানীয় সচেতন মহল ও চাষিদের দাবি, আম বাগান কর্তনের এই পরিমাণ ১ হাজার বিঘা ছাড়িয়ে যাবে। তাই বাকি বাগান কর্তন বন্ধে আমচাষিরা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে আম সংরক্ষণাগার ও বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
বাগাতিপাড়ায় এভাবেই সাবার করা হচ্ছে আম বাগান

পাঁকা ইউনিয়নের শালাইনগর গ্রামের মেহেদি হাসান বলেন, টানা কয়েক বছর থেকে আমের দাম কমতে থাকায় লোকসানে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। তাই তিনি বাধ্য হয়ে সম্প্রতি সাড়ে ১১ বিঘা জমির আম বাগান কেটে বিভিন্ন জাতের ফসল চাষ করেছেন। তাদের ইউনিয়নেই চলতি বছরে প্রায় ৩০০ বিঘার অধিক জমির আম বাগান কর্তন করেছেন চাষিরা বলে জানান তিনি।

একই ইউনিয়নের চকগোয়াস গ্রামের লিটন আলী বলেন, আম বাগানের পরিচর্যা খরচ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। পক্ষান্তরে আমের দাম কমেছে। ফলে বাগানের চেয়ে অন্য যেকোনো ফসল চাষ করলে বা জমি লিজ দিলে লাভ বেশি। তাই তিনি চার বিঘা জমির আম বাগান কেটে ফেলে জমি লিজ দিয়েছেন ২৭ হাজার টাকা বিঘা হারে।

তমালতলা এলাকার বানিজ্যিক ফল চাষী আব্দুল বারি বলেন, চলতি বছরে তিনি পাঁকা ইউনিয়নের চকতকিনগর মাঠে সদ্য আম বাগান কাটা প্রায় ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন ড্রাগন, পেয়ারা, কুল এবং কলাসহ উচ্চ ফলনশীল ফল চাষের জন্য।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভবসিন্ধু রায় এবিষয়ে বলেন, মূলত অনেক পুরাতন এবং কম উৎপাদনশীল জাতের আম বাগানে চাষিরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান না হওয়ায় সেগুলো কেটে ফেলছেন। পক্ষান্তরে ওই জমিগুলোতেই বানিজ্যিকভাবে লাভজনক ফল ড্রাগন, পেয়ারা, কুলসহ উচ্চ ফলনশীল ফল চাষ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া, ৭৫০ বিঘা আম বাগান কর্তন!

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া, ৭৫০ বিঘা আম বাগান কর্তন!

নিউজ ডেস্কঃ
গত কয়েক বছর থেকে আমের দাম ক্রমাগত কমে যাওয়ায় লোকসানে পরেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আম চাষিরা। অন্যদিকে জমি লিজ দিলে বা অন্য ফসল বা ফলের বাগান করলে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তাই এই লোকসানের কারণে উপজেলার প্রায় ৭৫০ বিঘা জমির আম বাগান কেটে ফেলেছেন আম চাষিরা। এভাবে আম বাগান সাবার হতে থাকলে অদূরভবিষ্যতে আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া উপজেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলও। স্থানীয় সচেতন মহল ও চাষিদের দাবি, আম বাগান কর্তনের এই পরিমাণ ১ হাজার বিঘা ছাড়িয়ে যাবে। তাই বাকি বাগান কর্তন বন্ধে আমচাষিরা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে আম সংরক্ষণাগার ও বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মোট ৯ হাজার ২০০ বিঘা আমবাগান বাগাতিপাড়া উপজেলায়। এর মধ্যে চলতি বছরে পুরোনো ও কম উৎপাদনশীল জাতের প্রায় ৭৫০ বিঘা আমবাগান কর্তন করা হয়েছে। তার বিপরীতে ৩৬৫ বিঘা জমিতে আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল জাতের আম গাছ পুনরায় লাগানো হয়েছে। আর বাকি জমি গুলোতে লাভজনক ফল-ফসল, কলা, ড্রাগন, কূল, পেয়ারা ও সবজি চাষ করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশি আম বাগান কর্তন করা হয়েছে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে। এছাড়া বাগাতিপাড়া সদর, জামনগর, ফাগুয়াড়দিয়াড়, দয়ারামপুর ইউনিয়ন এবং পৌরসভাতেও কম-বেশি আম বাগান কর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষণ ভোগ, ফজলি এবং লেংড়া জাতের আম বাগান বেশি কর্তন করা হচ্ছে বলেও অফিস সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় আমচাষিরা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শ্রমিকের মজুরিসহ সার ও কীটনাশকের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে বাগান ও আমের পরিচর্যা খরচও বেড়ে গেছে। অপরদিকে দিন দিন কমেছে আমের দাম। ১৪-১৫ বছর আগে যে আম প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে, ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। সেই আম গত কয়েক বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। তাই সমপরিমাণ জমিতে আমবাগানের চেয়ে অন্য যেকোনো ফসল চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তাই বাগানের জমিগুলো এখন ফসলের মাঠে পরিণত হচ্ছে।

গত কয়েক বছর থেকে আমের দাম ক্রমাগত কমে যাওয়ায় লোকসানে পরেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আম চাষিরা। অন্যদিকে জমি লিজ দিলে বা অন্য ফসল বা ফলের বাগান করলে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তাই এই লোকসানের কারণে উপজেলার প্রায় ৭৫০ বিঘা জমির আম বাগান কেটে ফেলেছেন আম চাষিরা। এভাবে আম বাগান সাবার হতে থাকলে অদূরভবিষ্যতে আম সংকটে পরবে বাগাতিপাড়া উপজেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলও। স্থানীয় সচেতন মহল ও চাষিদের দাবি, আম বাগান কর্তনের এই পরিমাণ ১ হাজার বিঘা ছাড়িয়ে যাবে। তাই বাকি বাগান কর্তন বন্ধে আমচাষিরা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে আম সংরক্ষণাগার ও বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
বাগাতিপাড়ায় এভাবেই সাবার করা হচ্ছে আম বাগান

পাঁকা ইউনিয়নের শালাইনগর গ্রামের মেহেদি হাসান বলেন, টানা কয়েক বছর থেকে আমের দাম কমতে থাকায় লোকসানে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। তাই তিনি বাধ্য হয়ে সম্প্রতি সাড়ে ১১ বিঘা জমির আম বাগান কেটে বিভিন্ন জাতের ফসল চাষ করেছেন। তাদের ইউনিয়নেই চলতি বছরে প্রায় ৩০০ বিঘার অধিক জমির আম বাগান কর্তন করেছেন চাষিরা বলে জানান তিনি।

একই ইউনিয়নের চকগোয়াস গ্রামের লিটন আলী বলেন, আম বাগানের পরিচর্যা খরচ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। পক্ষান্তরে আমের দাম কমেছে। ফলে বাগানের চেয়ে অন্য যেকোনো ফসল চাষ করলে বা জমি লিজ দিলে লাভ বেশি। তাই তিনি চার বিঘা জমির আম বাগান কেটে ফেলে জমি লিজ দিয়েছেন ২৭ হাজার টাকা বিঘা হারে।

তমালতলা এলাকার বানিজ্যিক ফল চাষী আব্দুল বারি বলেন, চলতি বছরে তিনি পাঁকা ইউনিয়নের চকতকিনগর মাঠে সদ্য আম বাগান কাটা প্রায় ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন ড্রাগন, পেয়ারা, কুল এবং কলাসহ উচ্চ ফলনশীল ফল চাষের জন্য।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভবসিন্ধু রায় এবিষয়ে বলেন, মূলত অনেক পুরাতন এবং কম উৎপাদনশীল জাতের আম বাগানে চাষিরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান না হওয়ায় সেগুলো কেটে ফেলছেন। পক্ষান্তরে ওই জমিগুলোতেই বানিজ্যিকভাবে লাভজনক ফল ড্রাগন, পেয়ারা, কুলসহ উচ্চ ফলনশীল ফল চাষ করছেন।