ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জলবায়ু ও যুব নেতৃত্বের পর এবার ইতালিতে উচ্চশিক্ষা, পূর্ণ স্কলারশিপ পেলেন আফরা ঝিনাইগাতীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর মানববন্ধন পঞ্চগড়কে মডেল জেলা গড়ার ঘোষণা, সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক গোদাগাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পুঠিয়ায় ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে ৩২০ বস্তা সার জব্দ ২৮৫ একর সম্পত্তি, তবু জরাজীর্ণ মসজিদ; আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে বিএসএফের ফাঁকা গুলি, নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৬৪ রাজশাহীর জুয়েলার্সে বড় চুরিঃ খুলনা-ঢাকায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮

রানীশংকৈলে সড়ক ও জনপথের অবহেলায় ১শ হেক্টর আমন ঝুকিতে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

রানীশংকৈলে ১শ হেক্টর আমন ঝুকিতে

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রানীশংকৈলে সড়ক ও জনপথের অবহেলায় ১শ হেক্টর আমন ঝুকিতে!

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁওঃ
রানীশংকৈলে সড়ক ও জনপথের অবহেলায় ১শ হেক্টর আমন ঝুকিতে! ঠাকুরগাঁওয়ের রানীসংকৈল উপজেলায় সড়ক ও জনপথের অবহেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর রোপা আমন ধান ঝুকিতে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, উপজেলার সড়ক ও জনপথের অধীনে সাগর বিল্ডার্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে নির্মানাধিন দুটি সেতুর সঠিক নিয়মে বিকল্প রাস্তা না করায় এ ক্ষতি সাধন হয়েছে। কৃষি অফিস বলছে, এ ব্যপারে সড়ক ও জনপদকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রানীসংকৈলের নেকমরদ-ধর্মগড়ের কাউন্সিল বাজারের নির্মানাধিন সেতুর বিকল্প সড়কটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় উত্তর ( আপ) দিকের কয়েক কিলোমিটার এলাকার ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে দক্ষিন( ডাউন) দিকের পানি পাচ ফুট নিচে অবস্থান করছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এই বিকল্প রাস্তা নির্মান করার সময় সড়ক ও জপথের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ারকে বার বার অনুরোধ করার পরেও আমাদের কথা শুনে নাই।

কাউন্সিল বাজার হাট কমিটির সভাপতি শাহ আলম বলেন, আমাদের জন্ম এই এলাকাতেই। আমরা জানি এই জায়গা দিয়ে বর্ষা কালে কি পরিমান পানি যায়। এই জায়গা থেকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছিল যে পানি যাওয়ার জন্য যে দুটি পাইপ দেওয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। কিন্তু তারা আমাদের বলে আমরা ইঞ্জিনিয়ার আমাদের চেয়ে কি আপনারা বেশি বুঝেন। এর পরে আমরা কৃষি অফিসকে জানিয়েছিলাম। তারাও বারবার বলার পরেও গায়ের জোরে এই কাজ করেছে।

তলিয়ে যাওয়া আমন ধান ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আলমগীর। তিনি বলেন, আমার তিন একর জমিতে আমন ধান আছে। তা এখন পুরোটাই পানির নিচে। এই ধান আদৌ বাড়ি নিয়ে যেতে পাড়ব কি না আল্লাহ জানে।

বিশ শতাংশ জায়গায় আমন ধান করা আকবর আলী কান্না কন্ঠে বলেন, সারা বছর সন্তারদের নিয়ে ভাত খাবো এই আশায় আমন ধান রোপন করেছিলাম। কিন্তু এই রাস্তার পানি ঠিক মত না যাওয়ায় আমার ফসলে এখন এক বুক পানি। এ ভাবে কয়েকদিন থাকলে সব ধান পচে যাবে।
তিনি বলেন, আমি এখন অপেক্ষায় আছি কখন এই রাস্তা ভাংবে ও আমার ফসল বাচবে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কাউন্সিল বাজার থেকে দক্ষিনে কাশিপুর ইউনিয়নের চার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা হয়েছে। এই এলাকার আমন ধান এখনো পানির নিচে। ঠিক কখন পানি নেমে যাবে তা সঠিক ভাবে বলতে পাড়ছে না। তবে এর পরিমান ১০০ হেক্টরের বেশি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি অফিসের একাধিক সুত্র। এ দিকে বুধবার বিকেলে কাউন্সিল বাজারের বিকল্প সড়কটির উপর দিয়ে পানি যাওয়া শুরু করলে এর আংশিক অংশ ভেংগে যায়। এতে দক্ষিনের (ডাউন) রোপা ধানে প্রবল বেগে পানি যাওয়ায় এই ফসলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাউন্সিল বাজারের ভুট্টার ব্যবসায়ী সুভান জানান, কাউন্সিল বাজার থেকে দৈনিক বিশ থেকে পচিশটি ভুট্টার ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। এ ভাবে রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকলে আমাদের লাখ টাকা ক্ষতি হবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা পাচ দিনের ভারি বর্ষণে রানীসংকৈল উপজেলার নদ ও নদীগুলোর পানির চাপ বাড়তে থাকে। সেই সাথে ভারতের পাহাড়ি ঢলের কারণে নাগর নাদীর পানি তীরবর্তী গ্রামগুলোতে প্রবেশ করেছে। এ সময় উপজেলায় রেকর্ড পরিমান ১২৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

ধর্মগড় ইউনিয়নে নাগর নদীর তীরে এক একর জায়গায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন মাসুদ। তুলনামূলক উচু জায়গায় চাষ করার কারনে ডুবে যাওয়া আশংকা ছিল না। গতবারো বেশ ভালো ফলন হয়েছিল একই জায়গায়। কিন্তু রাতে ভারত থেকে আসা ঢলে পানি বেড়ে গেলে তার ফুল কপির জমিতে এখন এক বুক পানি। তার আশে পাশের আরো অনেক চাষির সবজি ও ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
চাষি মাসুদ বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে যদি পানি নেমে যায় তবে ধানের ক্ষতি কম হবে। তবে সবজি বাচানো সম্ভব না।
আরেক মরিচ চাষি আল আমিন বলেন, ভালো দামের আশায় ৩০ শতাংশ জায়গায় মরিচ আবাদ করেছিলাম। কিন্তু সেই মরিচ ক্ষেতে এখন এক বুক পানি। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চাষিরা ফসলের পরিচর্যা করতে না পারায় তাদের ফসল ঝুকিতে আছে বলে জানিয়েছে চাষিরা।

রানীসংকৈল উপজেলার কৃষি অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আমরা এখনো নির্ধারন করতে পারি নাই। এ জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।
ঠাকুরগাঁও সহজ নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে এবং কৃষকেরা তাদের চাষাবাদকৃত ধান বাচানোর লক্ষে সড়কটি হয়তো বা কেটে দিয়েছে। পানি স্বাভাবিক হলেই সড়কটি পূণরায় সংস্কার করে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রানীশংকৈলে সড়ক ও জনপথের অবহেলায় ১শ হেক্টর আমন ঝুকিতে!

আপডেট সময় : ০৪:৫১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রানীশংকৈলে সড়ক ও জনপথের অবহেলায় ১শ হেক্টর আমন ঝুকিতে!

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁওঃ
রানীশংকৈলে সড়ক ও জনপথের অবহেলায় ১শ হেক্টর আমন ঝুকিতে! ঠাকুরগাঁওয়ের রানীসংকৈল উপজেলায় সড়ক ও জনপথের অবহেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর রোপা আমন ধান ঝুকিতে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, উপজেলার সড়ক ও জনপথের অধীনে সাগর বিল্ডার্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে নির্মানাধিন দুটি সেতুর সঠিক নিয়মে বিকল্প রাস্তা না করায় এ ক্ষতি সাধন হয়েছে। কৃষি অফিস বলছে, এ ব্যপারে সড়ক ও জনপদকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রানীসংকৈলের নেকমরদ-ধর্মগড়ের কাউন্সিল বাজারের নির্মানাধিন সেতুর বিকল্প সড়কটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় উত্তর ( আপ) দিকের কয়েক কিলোমিটার এলাকার ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে দক্ষিন( ডাউন) দিকের পানি পাচ ফুট নিচে অবস্থান করছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এই বিকল্প রাস্তা নির্মান করার সময় সড়ক ও জপথের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ারকে বার বার অনুরোধ করার পরেও আমাদের কথা শুনে নাই।

কাউন্সিল বাজার হাট কমিটির সভাপতি শাহ আলম বলেন, আমাদের জন্ম এই এলাকাতেই। আমরা জানি এই জায়গা দিয়ে বর্ষা কালে কি পরিমান পানি যায়। এই জায়গা থেকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছিল যে পানি যাওয়ার জন্য যে দুটি পাইপ দেওয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। কিন্তু তারা আমাদের বলে আমরা ইঞ্জিনিয়ার আমাদের চেয়ে কি আপনারা বেশি বুঝেন। এর পরে আমরা কৃষি অফিসকে জানিয়েছিলাম। তারাও বারবার বলার পরেও গায়ের জোরে এই কাজ করেছে।

তলিয়ে যাওয়া আমন ধান ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আলমগীর। তিনি বলেন, আমার তিন একর জমিতে আমন ধান আছে। তা এখন পুরোটাই পানির নিচে। এই ধান আদৌ বাড়ি নিয়ে যেতে পাড়ব কি না আল্লাহ জানে।

বিশ শতাংশ জায়গায় আমন ধান করা আকবর আলী কান্না কন্ঠে বলেন, সারা বছর সন্তারদের নিয়ে ভাত খাবো এই আশায় আমন ধান রোপন করেছিলাম। কিন্তু এই রাস্তার পানি ঠিক মত না যাওয়ায় আমার ফসলে এখন এক বুক পানি। এ ভাবে কয়েকদিন থাকলে সব ধান পচে যাবে।
তিনি বলেন, আমি এখন অপেক্ষায় আছি কখন এই রাস্তা ভাংবে ও আমার ফসল বাচবে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কাউন্সিল বাজার থেকে দক্ষিনে কাশিপুর ইউনিয়নের চার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা হয়েছে। এই এলাকার আমন ধান এখনো পানির নিচে। ঠিক কখন পানি নেমে যাবে তা সঠিক ভাবে বলতে পাড়ছে না। তবে এর পরিমান ১০০ হেক্টরের বেশি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি অফিসের একাধিক সুত্র। এ দিকে বুধবার বিকেলে কাউন্সিল বাজারের বিকল্প সড়কটির উপর দিয়ে পানি যাওয়া শুরু করলে এর আংশিক অংশ ভেংগে যায়। এতে দক্ষিনের (ডাউন) রোপা ধানে প্রবল বেগে পানি যাওয়ায় এই ফসলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাউন্সিল বাজারের ভুট্টার ব্যবসায়ী সুভান জানান, কাউন্সিল বাজার থেকে দৈনিক বিশ থেকে পচিশটি ভুট্টার ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। এ ভাবে রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকলে আমাদের লাখ টাকা ক্ষতি হবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা পাচ দিনের ভারি বর্ষণে রানীসংকৈল উপজেলার নদ ও নদীগুলোর পানির চাপ বাড়তে থাকে। সেই সাথে ভারতের পাহাড়ি ঢলের কারণে নাগর নাদীর পানি তীরবর্তী গ্রামগুলোতে প্রবেশ করেছে। এ সময় উপজেলায় রেকর্ড পরিমান ১২৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

ধর্মগড় ইউনিয়নে নাগর নদীর তীরে এক একর জায়গায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন মাসুদ। তুলনামূলক উচু জায়গায় চাষ করার কারনে ডুবে যাওয়া আশংকা ছিল না। গতবারো বেশ ভালো ফলন হয়েছিল একই জায়গায়। কিন্তু রাতে ভারত থেকে আসা ঢলে পানি বেড়ে গেলে তার ফুল কপির জমিতে এখন এক বুক পানি। তার আশে পাশের আরো অনেক চাষির সবজি ও ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
চাষি মাসুদ বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে যদি পানি নেমে যায় তবে ধানের ক্ষতি কম হবে। তবে সবজি বাচানো সম্ভব না।
আরেক মরিচ চাষি আল আমিন বলেন, ভালো দামের আশায় ৩০ শতাংশ জায়গায় মরিচ আবাদ করেছিলাম। কিন্তু সেই মরিচ ক্ষেতে এখন এক বুক পানি। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চাষিরা ফসলের পরিচর্যা করতে না পারায় তাদের ফসল ঝুকিতে আছে বলে জানিয়েছে চাষিরা।

রানীসংকৈল উপজেলার কৃষি অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আমরা এখনো নির্ধারন করতে পারি নাই। এ জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।
ঠাকুরগাঁও সহজ নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে এবং কৃষকেরা তাদের চাষাবাদকৃত ধান বাচানোর লক্ষে সড়কটি হয়তো বা কেটে দিয়েছে। পানি স্বাভাবিক হলেই সড়কটি পূণরায় সংস্কার করে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।