পুঠিয়ায় ফাতেমা ক্লিনিকে প্রসূতির মূত্রনালি কেটে ফেলার অভিযোগ!
- আপডেট সময় : ০১:০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৬৯ বার পড়া হয়েছে

পুঠিয়ায় ফাতেমা ক্লিনিকে প্রসূতির মূত্রনালি কেটে ফেলার অভিযোগ!
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:
পুঠিয়ায় ফাতেমা ক্লিনিকে প্রসূতির মূত্রনালি কেটে ফেলার অভিযোগ। রাজশাহীর পুঠিয়ায় ফাতেমা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপরেশন এর মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর সময় এক গর্ভবতী মূত্রনালি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। দিন দিন তার অবস্থার অবণতি হচ্ছে। পরে ভুক্তভোগী প্রসূতি নারীর স্বামী এই ঘটনার বিচার চেয়ে পুঠিয়া থানায় তিনজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ওই প্রসূতি নারীর নাম আসমা বেগম (২৫)। তিনি পুঠিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের তাসিব আলীর স্ত্রী। আর অভিযুক্তরা হলেন- ওই ক্লিনিকের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মেরিনা আকতার, ক্লিনিক মালিক রুবেল মন্ডল ও সহযোগী সাগর আহম্মেদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- তার স্ত্রী গর্ভবতী ছিল। হটাৎ গত ১০ আগস্ট প্রসব বেদনা উঠলে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানকার গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেরিনা আকতার ও ক্লিনিক মালিক রুবেল মন্ডল প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে বাচ্চার পজিশন ভালো নয়, জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করাতে হবে বলে জানান। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, ওইদিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। কিন্তু সিজারের পর থেকে তার প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে প্রস্রাব ঝরা শুরু হয়। বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে কিছু দিনের মধ্যে এই সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে বলেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী তাসিব আলী বলেন, ‘দিন দিন আমার স্ত্রীর অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার মূত্রনালি কাটা পড়েছে। বর্তমানে রামেক হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মূত্রনালি কেটে ফেলার বিষয়টি ক্লিনিক মালিককে অবহিত করা হয়। কিন্তু তিনি আমাকে বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে বলেন এবং এই ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করেন। কাউকে জানালে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুমকি দেন তিনি। কোনো উপায় না পেয়ে আমি সংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ দাখিল করেছি।’
জানতে চাইলে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মেরিনা আকতার বলেন, ‘সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ওই নারীর মূত্রনালি কেটে গেছে এটি সঠিক নয়। গর্ভাবস্থায় রোগী ও বাচ্চার পজিশন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি তাদের জানিয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চাটির মাথা মূত্রথলির দিকে ঢুকে যায়। এতে বাচ্চার মাথার সাথে মূত্রনালি ও সাথে পাজরের হাঁড়ে ঘর্ষণের ফলে সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। আমি তাদের বলেছি ,পরবর্তী অপারেশনে সেটা স্বাভাবিক হবে। তবে শুনেছি ওই পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।’
এদিকে ক্লিনিক মালিক রুবেল মন্ডলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মোঃ সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ‘সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মূত্রনালি কেটে ফেলা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




















