বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:২০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৩৮১ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন এক আনসার সদস্য। উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের এক নারী হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের স্বামীর বিরুদ্ধে তাকে বারবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম জানান, তিনি গত ১ জুলাই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, গত রোববার (১২ জুলাই) হাসপাতালের বহিঃবিভাগে দায়িত্ব পালনকালে রোগী ও যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গেটের সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেল নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে রাখতে বলেন তিনি। এ সময় বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন নিজেকে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি আনসার সদস্যকে মারতে উদ্যত হলে হাসপাতালের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে আলাউদ্দিন আবার হাসপাতালে এসে সোহানুর ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। বিষয়টি তিনি আনসার প্লাটুন কমান্ডার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরদিন সোমবার সকালেও হাসপাতালে এসে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুই সহযোগীকে নিয়ে আনসার ক্যাম্পে গিয়ে তাকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের বাইরে ডেকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোহানুর ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দায়িত্ব পালন ছাড়া ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছি না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সমাধানের আশ্বাস পেলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আনিসুর রহমান বলেন, রোববার এক আনসার সদস্যের সঙ্গে একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে ওই ব্যক্তি বারবার হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা কমান্ডারকে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, গেটের সামনে অন্যদের মোটরসাইকেল থাকলেও আমাকে বাধা দেওয়া হয়। পরে আনসার সদস্য আমাকে বেয়াদব বলে। এরপর আর তার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমাকে ফাঁসানোর জন্যই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনও দাবি করেন, আনসার সদস্যই প্রথমে তার স্বামীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। আমি বর্তমানে একটি সভায় আছি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















