রাণীনগরে ‘ভুয়া কাজী’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন, পাল্টা দাবি মোজাফ্ফরের
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

রাণীনগরে ‘ভুয়া কাজী’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন, পাল্টা দাবি মোজাফ্ফরের
মনোরঞ্জন চন্দ্র, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর রাণীনগরে মোজাফ্ফর হোসেনকে ‘ভুয়া কাজী’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) মো. বেলাল হুসাইন। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা সদরের এছাহক টাওয়ারের এমএস রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাজী মো. বেলাল হুসাইন অভিযোগ করেন, মোজাফ্ফর হোসেন কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার না হয়েও কথিত ‘ভুয়া ভলিউম’ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বেলাল হুসাইন দাবি করেন, অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোজাফ্ফর হোসেনের নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। পরে একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তাঁকে কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, মোজাফ্ফর হোসেন তার নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দুটি রিট মামলা করেন। ২০২১ সালের ২২ জুন হাইকোর্টের ২০ নম্বর আদালত মামলা দুটি খারিজ করে দেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হলেও ২০২৪ সালের ১২ মে সেটিও খারিজ হয় বলে জানান বেলাল।
বেলাল হুসাইনের অভিযোগ, লাইসেন্স বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকার পরও মোজাফ্ফর হোসেন সেগুলো জমা দেননি। এরপর থেকে তিনি কথিত ভলিউম ব্যবহার করে বিবাহ ও তালাকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া এসব কার্যক্রমের প্রতিবাদ করায় তাঁর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বেলাল হুসাইন। তাঁর দাবি, মোজাফ্ফরের কথিত কার্যক্রমের কারণে নির্ধারিত এলাকার মানুষ বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত কাজে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
বেলাল হুসাইন বলেন, মোজাফ্ফর হোসেনের বিরুদ্ধে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এরপরও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বেলাল হুসাইনের সঙ্গে তার ছোট ভাই জালাল আহমেদ ও ছেলে ইমামুল মুত্তাকিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তবে বেলাল হুসাইনের অভিযোগ অস্বীকার করে মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ২০১১ সাল থেকে বেলাল হুসাইন যা করেছেন এবং করছেন, সবই অবৈধ। বেলালের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্টে অর্ডারসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তাঁর আপিল চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।




















