বাগাতিপাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে ৫টি অননুমোদিত চক্ষু ক্যাম্প বন্ধ
- আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে ৫টি অননুমোদিত চক্ষু ক্যাম্প বন্ধ
অনুমোদনপত্র দেখাতে না পারায় অভিযান; বিনামূল্যে চিকিৎসার নামে টাকা আদায় ও অপারেশনের অগ্রিম অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
ফজলুর রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়মনীতি অনুসরণ না করে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার দুটি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও দুটি ক্যাম্প বন্ধ করা হয়। বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের যোগীপাড়া মোড় এলাকায় সাদিয়া মেডিক্যাল হলে রাজশাহীর আমচত্বর এলাকার আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের দুই কর্মী ক্যাম্প পরিচালনা করছিলেন। অন্যদিকে, ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়ায় রিয়াজুল জান্নাত মাদ্রাসায় বনপাড়া ডিজিটাল চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে অপর ক্যাম্পটি চলছিল।
এর আগে গত কয়েক দিনে আরও তিনটি ক্যাম্প বন্ধ করা হয়। জামনগর ইউনিয়নে বগুড়ার গাক চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে পরিচালিত একটি ক্যাম্প বন্ধ করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর পাকা ইউনিয়নের চকগোয়াশ বেগুনিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ভিশন কেয়ার চক্ষু হাসপাতালের ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতির খবর পেয়ে সেটি শুরুর আগেই বন্ধ করা হয়। এ ছাড়া ১ নভেম্বর বাগাতিপাড়া পৌর এলাকার প্রি-ক্যাডেট স্কুলে মদিনা চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারের পরিচয়ে দুই ব্যক্তি ক্যাম্প পরিচালনা করছিলেন। সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালের পরিচয়ে দুইজন করে ব্যক্তি এসব ক্যাম্পে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন। তবে তাদের কেউ চক্ষু বিশেষজ্ঞ নন বলে জানা গেছে। এছাড়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ক্যাম্প থেকেই বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ, ট্যাবলেট ও চশমা বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ায় মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি হাসপাতালের নামে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। মাইকিং করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার কথা প্রচার করা হলেও বাস্তবে রোগীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। এসব ক্যাম্পে চোখ পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র দেওয়া এবং ওষুধ ও চশমা বিক্রির কার্যক্রম চলে।
এমনকি চোখে ছানি রয়েছে, এমন রোগীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়ার পাশাপাশি চক্ষু অপারেশনের কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট দিনে অন্যত্র নিয়ে অপারেশনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। বিনামূল্যে চিকিৎসার আড়ালে অসহায় ও সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প পরিচালনাকারীদের কাছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদনপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, ক্যাম্প পরিচালনাকারীরা ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ক্যাম্প আয়োজন করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে দাপ্তরিক কাগজ পাঠিয়ে অনুমোদন ছাড়া ক্যাম্প পরিচালনার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, বাগাতিপাড়ায় কোথাও এ ধরনের চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদন থাকতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো ক্যাম্প পরিচালিত হতে দেখলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করার জন্য তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।


















