ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে আসামি করার অভিযোগ, প্রত্যাহার দুই পুলিশ সদস্য লালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু রামগঞ্জে বিআরটিসি বাসের চাপায় আলিম উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নিহত রাণীশংকৈলে জাতীয় যুব দিবস পালিত, উদ্যোক্তাদের পণ্য নিয়ে মেলা সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশি শিশু আটক বাগাতিপাড়ায় অনুমোদন ছাড়াই চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, বন্ধ করল স্বাস্থ্য বিভাগ বাগাতিপাড়ায় জাতীয় যুব দিবস পালিত, ১১ জন পেলেন ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকার ঋণ জাতীয় যুব পুরস্কারে দেশজুড়ে দ্বিতীয় লালপুরের রায়হান ভারতের আসামে আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৬ জন, কাজের সন্ধানে যাওয়ার তথ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭৫ অসহায় নারী পেলেন সেলাই মেশিন

লালপুরে মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে আসামি করার অভিযোগ, প্রত্যাহার দুই পুলিশ সদস্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

Two police personnel withdrawn in Lalpu

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালপুরে মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে আসামি করার অভিযোগ, প্রত্যাহার দুই পুলিশ সদস্য

৮৭ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর আসামিকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ; পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

এস ইসলাম, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুরে ৮৭ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটকের পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং পরে ওই ঘটনায় পুলিশের তথ্যদাতা মামুন আলী (মুন্নী)কে মাদক মামলার আসামি করার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই রায়হান ফেরদৌস ও এসআই মিন্টুকে নাটোর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার কার্যালয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লালপুর উপজেলার কুজিপুকুর এলাকার বাচ্চুর পরিত্যক্ত ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে আজমল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ৮৭ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। আজমল উপজেলার অর্জুনপুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, জমিসংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়ে এএসআই রায়হান ফেরদৌস ও এসআই মিন্টু দুই পুলিশ সোর্স মিঠু ও মামুন আলী (মুন্নী)র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অভিযান চালান।

পুলিশের তথ্যদাতা মামুন আলী (মুন্নী)র দাবি, আটকের পর আজমলকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এক লাখ টাকার চুক্তি হয়। আজমলের স্ত্রী তৃষা খাতুন ও তার ভাসুর রহমান টাকা নিয়ে বাচ্চুর পরিত্যক্ত ইটভাটায় যান। তৃষা খাতুনের দাবি, তিনি মামুন আলী (মুন্নী)র হাতে এক লাখ টাকা দেন এবং পরে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামুন আলী বলেন, “আজমলের স্ত্রী আমার হাতে এক লাখ টাকা দেন। সেই টাকা আমি এসআই মিন্টুকে গুনে দিই। পরে তিনি এএসআই রায়হানকে টাকা দেন। রায়হান টাকা পকেটে রেখে আজমলের হাতকড়া খুলে তাকে ছেড়ে দেন।”

তবে টাকা লেনদেন ও ঘুষ গ্রহণের এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামুন আলী (মুন্নী)র ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর ওই রাতেই প্রায় ২টার দিকে আজমলের বাড়িতে আবার অভিযান চালানো হয়। এ সময় আজমল ও পুলিশের আরেক তথ্যদাতা মিঠুকে আটক করা হয়। পরদিন এসআই মিন্টুর করা মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামুন আলীর দাবি, অভিযানের পুরো সময় তিনি এএসআই রায়হানের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু দুই দিন পর তিনি জানতে পারেন, মাদক মামলায় আজমলের পলাতক সহযোগী হিসেবে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহায়তা করতে গিয়ে এখন আমি মাদক মামলার আসামি হয়ে গেছি। এভাবে পুলিশ যদি উল্টো ফাঁসিয়ে দেয়, তাহলে মাদক নির্মূল হবে কীভাবে? আমার মা বাদী হয়ে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

আজমলের স্ত্রী তৃষা খাতুন বলেন, “আমার স্বামীকে পুলিশ মাদকসহ আটক করেছিল। পরে আমার স্বামীকে দিয়ে ফোন করিয়ে এক লাখ টাকা নিয়ে বাচ্চুর পরিত্যক্ত ইটভাটায় যেতে বলা হয়। আমি আমার ভাসুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে মামুন আলী (মুন্নী)র হাতে টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনি। কিন্তু ওই দিন রাত ২টার দিকে পুলিশ আবার আমার স্বামীর বাড়ি ঘিরে তাকে আটক করে।”

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, অভিযান চলাকালে মামুন আলীকে পুলিশের সঙ্গে দেখা গেছে। তাদের প্রশ্ন, তিনি পুলিশের সঙ্গে থাকলে তাকে মাদক মামলায় আসামি করা হলো কেন। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই রায়হান ফেরদৌস বলেন, তিনি জুনিয়র কর্মকর্তা এবং এসআই মিন্টুর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলার বিষয়ে জানতে হলে মামলার বাদী এসআই মিন্টুর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

মামলার বাদী এসআই মিন্টুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এএসপি ইফতেখার আলম জানান, অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে নাটোর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

November 2, 2026
লালপুরে মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে আসামি করার অভিযোগ, প্রত্যাহার দুই পুলিশ সদস্য
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লালপুরে মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে আসামি করার অভিযোগ, প্রত্যাহার দুই পুলিশ সদস্য

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

লালপুরে মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে আসামি করার অভিযোগ, প্রত্যাহার দুই পুলিশ সদস্য

৮৭ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর আসামিকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ; পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

এস ইসলাম, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুরে ৮৭ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটকের পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং পরে ওই ঘটনায় পুলিশের তথ্যদাতা মামুন আলী (মুন্নী)কে মাদক মামলার আসামি করার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই রায়হান ফেরদৌস ও এসআই মিন্টুকে নাটোর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার কার্যালয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লালপুর উপজেলার কুজিপুকুর এলাকার বাচ্চুর পরিত্যক্ত ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে আজমল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ৮৭ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। আজমল উপজেলার অর্জুনপুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, জমিসংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়ে এএসআই রায়হান ফেরদৌস ও এসআই মিন্টু দুই পুলিশ সোর্স মিঠু ও মামুন আলী (মুন্নী)র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অভিযান চালান।

পুলিশের তথ্যদাতা মামুন আলী (মুন্নী)র দাবি, আটকের পর আজমলকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এক লাখ টাকার চুক্তি হয়। আজমলের স্ত্রী তৃষা খাতুন ও তার ভাসুর রহমান টাকা নিয়ে বাচ্চুর পরিত্যক্ত ইটভাটায় যান। তৃষা খাতুনের দাবি, তিনি মামুন আলী (মুন্নী)র হাতে এক লাখ টাকা দেন এবং পরে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামুন আলী বলেন, “আজমলের স্ত্রী আমার হাতে এক লাখ টাকা দেন। সেই টাকা আমি এসআই মিন্টুকে গুনে দিই। পরে তিনি এএসআই রায়হানকে টাকা দেন। রায়হান টাকা পকেটে রেখে আজমলের হাতকড়া খুলে তাকে ছেড়ে দেন।”

তবে টাকা লেনদেন ও ঘুষ গ্রহণের এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামুন আলী (মুন্নী)র ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর ওই রাতেই প্রায় ২টার দিকে আজমলের বাড়িতে আবার অভিযান চালানো হয়। এ সময় আজমল ও পুলিশের আরেক তথ্যদাতা মিঠুকে আটক করা হয়। পরদিন এসআই মিন্টুর করা মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামুন আলীর দাবি, অভিযানের পুরো সময় তিনি এএসআই রায়হানের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু দুই দিন পর তিনি জানতে পারেন, মাদক মামলায় আজমলের পলাতক সহযোগী হিসেবে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহায়তা করতে গিয়ে এখন আমি মাদক মামলার আসামি হয়ে গেছি। এভাবে পুলিশ যদি উল্টো ফাঁসিয়ে দেয়, তাহলে মাদক নির্মূল হবে কীভাবে? আমার মা বাদী হয়ে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

আজমলের স্ত্রী তৃষা খাতুন বলেন, “আমার স্বামীকে পুলিশ মাদকসহ আটক করেছিল। পরে আমার স্বামীকে দিয়ে ফোন করিয়ে এক লাখ টাকা নিয়ে বাচ্চুর পরিত্যক্ত ইটভাটায় যেতে বলা হয়। আমি আমার ভাসুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে মামুন আলী (মুন্নী)র হাতে টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনি। কিন্তু ওই দিন রাত ২টার দিকে পুলিশ আবার আমার স্বামীর বাড়ি ঘিরে তাকে আটক করে।”

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, অভিযান চলাকালে মামুন আলীকে পুলিশের সঙ্গে দেখা গেছে। তাদের প্রশ্ন, তিনি পুলিশের সঙ্গে থাকলে তাকে মাদক মামলায় আসামি করা হলো কেন। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই রায়হান ফেরদৌস বলেন, তিনি জুনিয়র কর্মকর্তা এবং এসআই মিন্টুর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলার বিষয়ে জানতে হলে মামলার বাদী এসআই মিন্টুর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

মামলার বাদী এসআই মিন্টুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এএসপি ইফতেখার আলম জানান, অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে নাটোর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

November 2, 2026
লালপুরে মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে আসামি করার অভিযোগ, প্রত্যাহার দুই পুলিশ সদস্য
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement