ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেঁতুলিয়ায় শিক্ষকদের নিয়ে ‘পাঠ্যক্রমভিত্তিক নাট্যভাবনা’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেরপুর সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস আটক নলডাঙ্গায় বিষধর সাপের কামড়ে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় কয়েলের আগুনে পুড়ে দুই ষাঁড়ের মৃত্যু, ক্ষতি ৩ লাখ টাকা রাণীশংকৈলে নারী ফুটবলারদের জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার উপহার রাণীশংকৈলে ইএসডিওর বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, অসহায় মানুষের চোখে ফিরছে আলো দেবীগঞ্জে গৃহবধূকে অ/মানবিক নি র্যা ত নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ পঞ্চগড়ে সীমান্তে নবনির্মিত বিওপির কার্যক্রম উদ্বোধন মান্দার প্রসাদপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, তিন মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা মহাদেবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাপাহারের সেনাসদস্য নিহত

বাগাতিপাড়ায় তালগাছ ছেড়ে নারিকেল-খেজুর গাছে বাবুই পাখির বাসা, দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৪৮২ বার পড়া হয়েছে

Bagatipara The nest of the Babui birds hangs on a coconut tree Photo

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় তালগাছ ছেড়ে নারিকেল-খেজুর গাছে বাবুই পাখির বাসা, দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের

পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন; বিরল দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

একসময় গ্রামের আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ আর তাতে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির নিপুণ বাসা ছিল বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির চিরচেনা দৃশ্য। সময়ের পরিবর্তনে তালগাছ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে বাবুই পাখির আবাসও। এখন তারা তালগাছের পরিবর্তে নারিকেল ও খেজুর গাছে বাসা তৈরি করছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হিজলী পাবনাপাড়া গ্রামে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মালঞ্চি বাজার-সোনাপুর সড়কের হিজলী পাবনাপাড়া হাড়িয়ার বিলসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর শেখের বাড়ির একটি নারিকেল গাছ এবং পাশের একটি খেজুর গাছে ঝুলছে অর্ধশতাধিক বাবুই পাখির বাসা। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের যাত্রীরা যানবাহন থামিয়ে বাসাগুলো দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই মাস আগে বাবুই পাখিগুলো গাছ দুটিতে বাসা তৈরি শুরু করে। বর্তমানে পুরো বাগাতিপাড়া উপজেলায় এই দুটি গাছ ছাড়া অন্য কোথাও বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ে না। এমনকি এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারাও আগে কখনো নারিকেল বা খেজুর গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখেননি বলে জানিয়েছেন।

লুৎফর শেখের পুত্রবধূ নদীয়া আক্তার বলেন, আগে জানতাম বাবুই পাখি শুধু তালগাছেই বাসা বাঁধে। প্রায় দুই মাস আগে পাখিগুলো আমাদের বাড়ির নারিকেল গাছে বাসা তৈরি শুরু করে। এখন প্রতিদিন অনেক মানুষ এগুলো দেখতে আসছেন এবং ছবি তুলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, বইয়ে ও ইউটিউবে বাবুই পাখির বাসা দেখেছি, কিন্তু আমাদের এলাকায় নারিকেল বা খেজুর গাছে এমন বাসা কখনো দেখিনি। এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই বিরল দৃশ্য দেখতে আসছেন।

বাবুই পাখির বাসা দেখতে আসা দর্শনার্থী সুইট বলেন, এলাকায় তালগাছ দেখলেই বাবুই পাখির বাসা খুঁজতাম, কিন্তু পাওয়া যেত না। এখানে এসে নারিকেল ও খেজুর গাছে এতগুলো বাসা দেখে খুব ভালো লাগছে। তাই ছবি তুলে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মদল শেখ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে পাখিগুলো এখানে বাসা তৈরি করেছে। আগে তালগাছেই তাদের বাসা দেখা যেত। নারিকেল ও খেজুর গাছে বাসা তৈরি করাটা সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। স্থানীয়দের বাসাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেতন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, পরিবেশগত পরিবর্তন ও আবাসস্থলের সংকটের কারণে বাবুই পাখি তালগাছের বিকল্প হিসেবে নারিকেল ও খেজুর গাছ বেছে নিয়েছে। এটি তাদের অভিযোজন ক্ষমতারই উদাহরণ। তিনি সবাইকে পাখি ও তাদের বাসা বিরক্ত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বাবুই পাখির মতো বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় তালগাছ ছেড়ে নারিকেল-খেজুর গাছে বাবুই পাখির বাসা, দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের

আপডেট সময় : ০২:২৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় তালগাছ ছেড়ে নারিকেল-খেজুর গাছে বাবুই পাখির বাসা, দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের

পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন; বিরল দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

একসময় গ্রামের আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ আর তাতে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির নিপুণ বাসা ছিল বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির চিরচেনা দৃশ্য। সময়ের পরিবর্তনে তালগাছ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে বাবুই পাখির আবাসও। এখন তারা তালগাছের পরিবর্তে নারিকেল ও খেজুর গাছে বাসা তৈরি করছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হিজলী পাবনাপাড়া গ্রামে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মালঞ্চি বাজার-সোনাপুর সড়কের হিজলী পাবনাপাড়া হাড়িয়ার বিলসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর শেখের বাড়ির একটি নারিকেল গাছ এবং পাশের একটি খেজুর গাছে ঝুলছে অর্ধশতাধিক বাবুই পাখির বাসা। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের যাত্রীরা যানবাহন থামিয়ে বাসাগুলো দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই মাস আগে বাবুই পাখিগুলো গাছ দুটিতে বাসা তৈরি শুরু করে। বর্তমানে পুরো বাগাতিপাড়া উপজেলায় এই দুটি গাছ ছাড়া অন্য কোথাও বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ে না। এমনকি এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারাও আগে কখনো নারিকেল বা খেজুর গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখেননি বলে জানিয়েছেন।

লুৎফর শেখের পুত্রবধূ নদীয়া আক্তার বলেন, আগে জানতাম বাবুই পাখি শুধু তালগাছেই বাসা বাঁধে। প্রায় দুই মাস আগে পাখিগুলো আমাদের বাড়ির নারিকেল গাছে বাসা তৈরি শুরু করে। এখন প্রতিদিন অনেক মানুষ এগুলো দেখতে আসছেন এবং ছবি তুলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, বইয়ে ও ইউটিউবে বাবুই পাখির বাসা দেখেছি, কিন্তু আমাদের এলাকায় নারিকেল বা খেজুর গাছে এমন বাসা কখনো দেখিনি। এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই বিরল দৃশ্য দেখতে আসছেন।

বাবুই পাখির বাসা দেখতে আসা দর্শনার্থী সুইট বলেন, এলাকায় তালগাছ দেখলেই বাবুই পাখির বাসা খুঁজতাম, কিন্তু পাওয়া যেত না। এখানে এসে নারিকেল ও খেজুর গাছে এতগুলো বাসা দেখে খুব ভালো লাগছে। তাই ছবি তুলে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মদল শেখ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে পাখিগুলো এখানে বাসা তৈরি করেছে। আগে তালগাছেই তাদের বাসা দেখা যেত। নারিকেল ও খেজুর গাছে বাসা তৈরি করাটা সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। স্থানীয়দের বাসাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেতন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, পরিবেশগত পরিবর্তন ও আবাসস্থলের সংকটের কারণে বাবুই পাখি তালগাছের বিকল্প হিসেবে নারিকেল ও খেজুর গাছ বেছে নিয়েছে। এটি তাদের অভিযোজন ক্ষমতারই উদাহরণ। তিনি সবাইকে পাখি ও তাদের বাসা বিরক্ত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বাবুই পাখির মতো বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা জরুরি।