সামান্য বৃষ্টিতেই ধস, গোদাগাড়ীর সরমংলা ইকো পার্কের ওয়াকওয়ে নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০৯:১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

সামান্য বৃষ্টিতেই ধস, গোদাগাড়ীর সরমংলা ইকো পার্কের ওয়াকওয়ে নিয়ে প্রশ্ন
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র সরমংলা খাড়ি এলাকার ইকো পার্কে নির্মিত ওয়াকওয়ে ও গাইডওয়ালের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। বর্ষার প্রথম দফার টানা বৃষ্টিতেই প্রায় ২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, খাড়ির পাড়সংলগ্ন ওয়াকওয়ের প্রায় ২০ মিটার অংশ দেবে গেছে। গাইডওয়ালের একটি অংশ খাড়ির দিকে হেলে পড়ায় ওপরের টাইলস বসানো ওয়াকওয়ে ভেঙে ধসে পড়ে। আশপাশের অংশেও বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা আরও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা তৈরি করেছে। নিরাপত্তা রেলিং ও বসার বেঞ্চগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পদ্মা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে সরমংলা খাড়িকে কেন্দ্র করে একটি ইকো পার্ক গড়ে তোলে। প্রায় এক বছর আগে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে খাড়ির পাশে গাইডওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। তবে এ কাজের জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প বা বরাদ্দ ছিল না। বিএমডিএর একটি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের আওতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্তভাবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় প্রকৌশল মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। ভারী কাঠামো নির্মাণের আগে মাটি যথাযথভাবে কম্প্যাক্ট না করে আলগা মাটির ওপর ইট বিছিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া খাড়ির পাড় রক্ষায় প্রয়োজনীয় আরসিসি পাইলিং বা শক্তিশালী রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সামান্য বৃষ্টিতে ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-১-এর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে মাটির নিচের অংশ নরম হয়ে গাইডওয়াল কিছুটা হেলে পড়েছে এবং ওয়াকওয়ে দেবে গেছে। কাজটি এখনো ঠিকাদারের জামানত (ডিফেক্ট লাইয়াবিলিটি) মেয়াদের মধ্যে রয়েছে। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নিজস্ব ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করবে।



















