ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে বাল্যবিবাহ বন্ধ, ইমাম ও বরপক্ষকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত পঞ্চগড়ে ডিম ব্যবসায়ীকে জরিমানা, অন্যদের সতর্ক বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন মান্দায় স্কুলের সামনে ভটভটির ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত নকলায় মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও অটোভ্যান আটক নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড তামাক-নিকোটিন পণ্য এসডিজি অর্জনে বড় বাধা: গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে

Shribordi news

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মাস্টাররোলে সুইপার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত চেয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মুক্তা হরিজন। অভিযোগের পর রাতেই তাকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও চাকরি ফিরে পাননি তিনি।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ (উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ইনসান আলীর মাধ্যমে ইউএনওর বাংলোতে মাস্টাররোলে সুইপার পদে যোগ দেন মুক্তা হরিজন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সেখানে কাজ করার পর হঠাৎ কাজের গাফিলতির অভিযোগ এনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মুক্তা হরিজনের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার জন্য স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র বিক্রি করে সিএ ইনসানের হাতে চার লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় গত ৬ আগস্ট শেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছানোর খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত সিএ ইনসান তাকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠান বলে জানান মুক্তা। ওই রাতেই চার লাখ টাকার মধ্যে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুক্তা হরিজন বলেন, ইউএনও স্যারের বাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজও করানো হতো। প্রতি মাসে চার দিনের ছুটি চাইলে তা দেওয়া হতো না। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। টাকা ফেরত না পেয়ে বাধ্য হয়ে ডিসি স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। অভিযোগ করার পরই রাতে ডেকে নিয়ে কিছু টাকা ফেরত ও বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়।

তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিএ ইনসান। তিনি বলেন, “কাউকে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। ঘুষের বা চাকরির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পরে ভুল বুঝতে পেরে মুক্তা হরিজন তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘুষের বিনিময়ে চাকরির কোনো বিষয় আমার জানা নেই। বাসভবনে মাস্টাররোলে মুক্তা হরিজনকে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো কাজ না করায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা পরীক্ষা ছাড়াই উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মুক্তা হরিজন এবং মালি পদে আরও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মুক্তা হরিজনের। স্থানীয়দের মতে, চাকরির নামে অর্থ লেনদেন এবং অভিযোগের পর তড়িঘড়ি করে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মাস্টাররোলে সুইপার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত চেয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মুক্তা হরিজন। অভিযোগের পর রাতেই তাকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও চাকরি ফিরে পাননি তিনি।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ (উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ইনসান আলীর মাধ্যমে ইউএনওর বাংলোতে মাস্টাররোলে সুইপার পদে যোগ দেন মুক্তা হরিজন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সেখানে কাজ করার পর হঠাৎ কাজের গাফিলতির অভিযোগ এনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মুক্তা হরিজনের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার জন্য স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র বিক্রি করে সিএ ইনসানের হাতে চার লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় গত ৬ আগস্ট শেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছানোর খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত সিএ ইনসান তাকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠান বলে জানান মুক্তা। ওই রাতেই চার লাখ টাকার মধ্যে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুক্তা হরিজন বলেন, ইউএনও স্যারের বাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজও করানো হতো। প্রতি মাসে চার দিনের ছুটি চাইলে তা দেওয়া হতো না। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। টাকা ফেরত না পেয়ে বাধ্য হয়ে ডিসি স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। অভিযোগ করার পরই রাতে ডেকে নিয়ে কিছু টাকা ফেরত ও বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়।

তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিএ ইনসান। তিনি বলেন, “কাউকে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। ঘুষের বা চাকরির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পরে ভুল বুঝতে পেরে মুক্তা হরিজন তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘুষের বিনিময়ে চাকরির কোনো বিষয় আমার জানা নেই। বাসভবনে মাস্টাররোলে মুক্তা হরিজনকে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো কাজ না করায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা পরীক্ষা ছাড়াই উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মুক্তা হরিজন এবং মালি পদে আরও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মুক্তা হরিজনের। স্থানীয়দের মতে, চাকরির নামে অর্থ লেনদেন এবং অভিযোগের পর তড়িঘড়ি করে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।