ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নলডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫-এ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাউয়েট বাগাতিপাড়ায় বাউয়েট ক্যাম্পাসে হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন পঞ্চগড়ে দুই স্কুলে ৪ এসএসসি পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ বাগমারায় এসএসসির ফলাফল নিয়ে হতাশায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লালপুরে এসএসসির ফলাফলে বিপর্যয়: পাসের হার ৪৪.৭৬%, শতভাগ ফেল দুই মাদ্রাসায় সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পর ৫৪ বছর বয়সে জিপিএ ৪.৩৫ পেয়ে এসএসসিতে উত্তীর্ণ বাগাতিপাড়ার আলী আকবর শেরপুরে ধ/র্ষ/ণ মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেপ্তার সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নলডাঙ্গার তিন প্রবাসী নিহত রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এসএসসির পাসের হার ৬৩.৬৭%

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

Shribordi news

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মাস্টাররোলে সুইপার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত চেয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মুক্তা হরিজন। অভিযোগের পর রাতেই তাকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও চাকরি ফিরে পাননি তিনি।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ (উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ইনসান আলীর মাধ্যমে ইউএনওর বাংলোতে মাস্টাররোলে সুইপার পদে যোগ দেন মুক্তা হরিজন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সেখানে কাজ করার পর হঠাৎ কাজের গাফিলতির অভিযোগ এনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মুক্তা হরিজনের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার জন্য স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র বিক্রি করে সিএ ইনসানের হাতে চার লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় গত ৬ আগস্ট শেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছানোর খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত সিএ ইনসান তাকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠান বলে জানান মুক্তা। ওই রাতেই চার লাখ টাকার মধ্যে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুক্তা হরিজন বলেন, ইউএনও স্যারের বাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজও করানো হতো। প্রতি মাসে চার দিনের ছুটি চাইলে তা দেওয়া হতো না। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। টাকা ফেরত না পেয়ে বাধ্য হয়ে ডিসি স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। অভিযোগ করার পরই রাতে ডেকে নিয়ে কিছু টাকা ফেরত ও বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়।

তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিএ ইনসান। তিনি বলেন, “কাউকে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। ঘুষের বা চাকরির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পরে ভুল বুঝতে পেরে মুক্তা হরিজন তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘুষের বিনিময়ে চাকরির কোনো বিষয় আমার জানা নেই। বাসভবনে মাস্টাররোলে মুক্তা হরিজনকে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো কাজ না করায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা পরীক্ষা ছাড়াই উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মুক্তা হরিজন এবং মালি পদে আরও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মুক্তা হরিজনের। স্থানীয়দের মতে, চাকরির নামে অর্থ লেনদেন এবং অভিযোগের পর তড়িঘড়ি করে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ, ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পাননি মুক্তা

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মাস্টাররোলে সুইপার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত চেয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মুক্তা হরিজন। অভিযোগের পর রাতেই তাকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও চাকরি ফিরে পাননি তিনি।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ (উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ইনসান আলীর মাধ্যমে ইউএনওর বাংলোতে মাস্টাররোলে সুইপার পদে যোগ দেন মুক্তা হরিজন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সেখানে কাজ করার পর হঠাৎ কাজের গাফিলতির অভিযোগ এনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মুক্তা হরিজনের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার জন্য স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র বিক্রি করে সিএ ইনসানের হাতে চার লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় গত ৬ আগস্ট শেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছানোর খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত সিএ ইনসান তাকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠান বলে জানান মুক্তা। ওই রাতেই চার লাখ টাকার মধ্যে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুক্তা হরিজন বলেন, ইউএনও স্যারের বাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজও করানো হতো। প্রতি মাসে চার দিনের ছুটি চাইলে তা দেওয়া হতো না। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। টাকা ফেরত না পেয়ে বাধ্য হয়ে ডিসি স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। অভিযোগ করার পরই রাতে ডেকে নিয়ে কিছু টাকা ফেরত ও বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়।

তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিএ ইনসান। তিনি বলেন, “কাউকে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। ঘুষের বা চাকরির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পরে ভুল বুঝতে পেরে মুক্তা হরিজন তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘুষের বিনিময়ে চাকরির কোনো বিষয় আমার জানা নেই। বাসভবনে মাস্টাররোলে মুক্তা হরিজনকে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো কাজ না করায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা পরীক্ষা ছাড়াই উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মুক্তা হরিজন এবং মালি পদে আরও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মুক্তা হরিজনের। স্থানীয়দের মতে, চাকরির নামে অর্থ লেনদেন এবং অভিযোগের পর তড়িঘড়ি করে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।