বাগাতিপাড়ায় স্বামীর মৃত্যুর আধা ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ এলাকা!
- আপডেট সময় : ১০:৫৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৮৫০ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় স্বামীর মৃত্যুর আধা ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ এলাকা!
তিন বছর আগে একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছিলেন; এবার একই দিনে না-ফেরার দেশে স্বামী-স্ত্রী
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অসুস্থতাজনিত কারণে স্বামী হায়দার আলীর (৭০) মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে শোকে তার স্ত্রী রহিমা বেগমও মারা গেছেন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের বাটিকামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত হায়দার আলী ওই গ্রামের মৃত আহসান সরকারের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মুদিদোকান পরিচালনা করতেন। রহিমা বেগম ছিলেন তার সহধর্মিণী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হায়দার আলী নিজ দোকানে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পথেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।
পরে স্বজনরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এলে স্ত্রী রহিমা বেগম স্বামীর মরদেহ দেখে ভেঙে পড়েন। গভীর শোকে তিনি মূর্ছা যান এবং স্বামীর মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত হায়দার আলীর শ্যালক মাওলানা আশরাফুল আলম জানান, প্রায় তিন বছর আগে তাদের একমাত্র ছেলে জুয়েল স্ট্রোক করে মারা যান। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই বৃদ্ধ দম্পতি গভীর মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ছিল হায়দার আলীর মুদিদোকান, যেখানে পরবর্তীতে তার পুত্রবধূ সহযোগিতা করতেন।
তিনি আরও জানান, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই হায়দার আলী হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেলে সেই শোক সহ্য করতে না পেরে রহিমা বেগমও অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের বাটিকামারী সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে স্বজনরা জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য না থাকায় মৃত দম্পতির পুত্রবধূ এখন দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। স্থানীয়রা পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।















