ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়াইগ্রামে দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত, তিন কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বাগাতিপাড়ায় জামায়াতের গণমিছিল গোদাগাড়ীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ বাগাতিপাড়ায় নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন বড়াইগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন বাগাতিপাড়ায় বাউয়েটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত মান্দায় প্রধান শিক্ষককে অবরু’দ্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষো’ভ, মোটরসাইকেলে আ/গুন লালপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২ বাগাতিপাড়ায় ভরা বর্ষায়ও পানির সংকট, দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা! বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী, সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ

বাগাতিপাড়ায় ভরা বর্ষায়ও পানির সংকট, দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা!

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

Bagatipara Rice fields have burst due to lack of rain photo

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় ভরা বর্ষায়ও পানির সংকট, দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা!

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভরা বর্ষার বন্যায় জনপদ তলিয়ে গেছে। কোথাও মানুষ পানিবন্দি, কোথাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। অথচ এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায়। বর্ষার মাঝামাঝি সময়েও প্রয়োজনীয় পানির অভাবে শুকিয়ে আছে অনেক কৃষিজমি। এতে রোপা আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

যুগ যুগ ধরে বর্ষার জমে থাকা পানির ওপর নির্ভর করেই এ উপজেলার কৃষকরা রোপা আমন ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত আবাদ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বদলে গেছে সেই চিরচেনা চিত্র। মাঠে পানি না থাকায় রোপা আমন মৌসুমের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষায় এ অঞ্চলের জমিগুলোতে পানি জমে থাকে। সেই পানির ওপর নির্ভর করেই কৃষকরা জমি তৈরি, বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ এবং ধান পাকার আগ পর্যন্ত সেচের প্রয়োজন মেটান। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ জমিতে পানি জমেনি। এমনকি নিচু জমিগুলোতেও এ সময় হাঁটুসমান পানি থাকার কথা থাকলেও সেখানে একফোঁটা পানিও নেই। বিলের নিচু এলাকাগুলোও পানিশূন্য হয়ে রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক খাল-বিল ও জলাশয়েও প্রয়োজনীয় পানি জমেনি। ফলে বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল আমন চাষ শুরু থেকেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক সেচের পানি ব্যবহার করে আমনের চারা তৈরি করলেও বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে অনেক চারাই রোপণের উপযুক্ত বয়স পার করে ফেলছে।

আবার কেউ কেউ সেচ দিয়ে চারা রোপণ করলেও জমিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখতে পারছেন না। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সেচ ব্যয়ের আশঙ্কায় অনেক কৃষক এখনো বৃষ্টির অপেক্ষায় জমি ফেলে রেখেছেন।

কৃষকরা বলেন, দ্রুত বৃষ্টি না হলে সময়মতো চারা রোপণ ব্যাহত হবে। রোপণের পর পর্যাপ্ত পানি না থাকলে জমিতে আগাছার প্রকোপও বাড়তে পারে। এতে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এ মৌসুমে রোপা আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগাতিপাড়া উপজেলায় ৬ হাজার ৩৭৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ১৯ মেট্রিক টন। গত বছরও একই পরিমাণ জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার ১৯ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কৃষি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত বছর কিংবা তার আগের বছরগুলোতে এ সময় যেসব নিচু জমিতে হাঁটুসমান পানি জমে থাকত, সেসব জমিতে এখনো শুকনো মাটির ঢেলা পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে যেসব মাঠ সারি সারি সবুজ আমন চারায় ভরে থাকার কথা, সেসব জমির অনেকগুলোতেই এখনো পাট দাঁড়িয়ে আছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে পানি না থাকায় কৃষকরা পাট কাটতেও সমস্যায় পড়েছেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল পাট কাটার পরপরই ওই জমিতে আমনের চারা রোপণ করবেন। কিন্তু বৃষ্টি ও পানির সংকটের কারণে সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, সেচের মাধ্যমে যেসব কৃষক আমনের চারা রোপণ করেছেন, তারাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে অনেক জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। কৃষকদের মতে, আমন ধানের এ পর্যায়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে গাছের গোড়া থেকে নতুন কুশি (টিলার) গজাতে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ধানের গোছা প্রয়োজনীয়ভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় ফলন কমে যেতে পারে।

উপজেলার পৌরসভা এলাকার সোনাপাতিল মহল্লার কৃষক সোহেল রানা (৪৭) বলেন, আমাদের এলাকায় রোপা আমন চাষের প্রাণই হলো বর্ষার পানি। এই পানি থাকলে আলাদা করে বেশি সেচ দিতে হয় না। কিন্তু এবার মাঠে পানি নেই। এখন পর্যন্ত ভালো বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে বীজ থেকে চারা তৈরি করতে পারিনি। এখন ভালো বৃষ্টি না হলে সময়মতো চারা লাগানো কঠিন হবে।

পাঁকা ইউনিয়নের ছোট চিথলিয়া এলাকার কৃষক মো. মকুল হোসেন (৫০) বলেন, ভরা বর্ষায় মাঠে পানি নেই। এমন অবস্থা আগে খুব একটা দেখিনি। সেচ দিয়ে আবাদ করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। সব কৃষকের সেই সামর্থ্য নেই। সেচ দিয়ে রোপণ করলেও পরে পানির অভাবে জমিতে আগাছা বেশি জন্মাবে, যা দমন করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। পানি না পেলে অনেক জমি হয়তো অনাবাদি থেকে যাবে। তিনি আরও বলেন, একদিকে সময় চলে যাচ্ছে, এখনো বৃষ্টির দেখা নেই। আবার পানির অভাবে অধিকাংশ কৃষকের পাটও পুরোপুরি কাটা হয়নি। তাই খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. ভবসিন্ধু রায় বলেন, এ বছর প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিতেও পর্যাপ্ত পানি জমেনি। এতে রোপা আমনের চারা রোপণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কৃষকদের জমির অবস্থা বিবেচনা করে সেচের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা নিশ্চিত করে সময়মতো চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে বলে আমরা আশা করছি। বৃষ্টি হলে সমস্যা থাকবে না। যেটুকু ধান রোপণে বিলম্ব হয়েছে, তা কৃষকরা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় ভরা বর্ষায়ও পানির সংকট, দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা!

আপডেট সময় : ০১:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় ভরা বর্ষায়ও পানির সংকট, দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা!

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভরা বর্ষার বন্যায় জনপদ তলিয়ে গেছে। কোথাও মানুষ পানিবন্দি, কোথাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। অথচ এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায়। বর্ষার মাঝামাঝি সময়েও প্রয়োজনীয় পানির অভাবে শুকিয়ে আছে অনেক কৃষিজমি। এতে রোপা আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

যুগ যুগ ধরে বর্ষার জমে থাকা পানির ওপর নির্ভর করেই এ উপজেলার কৃষকরা রোপা আমন ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত আবাদ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বদলে গেছে সেই চিরচেনা চিত্র। মাঠে পানি না থাকায় রোপা আমন মৌসুমের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষায় এ অঞ্চলের জমিগুলোতে পানি জমে থাকে। সেই পানির ওপর নির্ভর করেই কৃষকরা জমি তৈরি, বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ এবং ধান পাকার আগ পর্যন্ত সেচের প্রয়োজন মেটান। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ জমিতে পানি জমেনি। এমনকি নিচু জমিগুলোতেও এ সময় হাঁটুসমান পানি থাকার কথা থাকলেও সেখানে একফোঁটা পানিও নেই। বিলের নিচু এলাকাগুলোও পানিশূন্য হয়ে রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক খাল-বিল ও জলাশয়েও প্রয়োজনীয় পানি জমেনি। ফলে বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল আমন চাষ শুরু থেকেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক সেচের পানি ব্যবহার করে আমনের চারা তৈরি করলেও বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে অনেক চারাই রোপণের উপযুক্ত বয়স পার করে ফেলছে।

আবার কেউ কেউ সেচ দিয়ে চারা রোপণ করলেও জমিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখতে পারছেন না। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সেচ ব্যয়ের আশঙ্কায় অনেক কৃষক এখনো বৃষ্টির অপেক্ষায় জমি ফেলে রেখেছেন।

কৃষকরা বলেন, দ্রুত বৃষ্টি না হলে সময়মতো চারা রোপণ ব্যাহত হবে। রোপণের পর পর্যাপ্ত পানি না থাকলে জমিতে আগাছার প্রকোপও বাড়তে পারে। এতে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এ মৌসুমে রোপা আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগাতিপাড়া উপজেলায় ৬ হাজার ৩৭৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ১৯ মেট্রিক টন। গত বছরও একই পরিমাণ জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার ১৯ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কৃষি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত বছর কিংবা তার আগের বছরগুলোতে এ সময় যেসব নিচু জমিতে হাঁটুসমান পানি জমে থাকত, সেসব জমিতে এখনো শুকনো মাটির ঢেলা পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে যেসব মাঠ সারি সারি সবুজ আমন চারায় ভরে থাকার কথা, সেসব জমির অনেকগুলোতেই এখনো পাট দাঁড়িয়ে আছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে পানি না থাকায় কৃষকরা পাট কাটতেও সমস্যায় পড়েছেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল পাট কাটার পরপরই ওই জমিতে আমনের চারা রোপণ করবেন। কিন্তু বৃষ্টি ও পানির সংকটের কারণে সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, সেচের মাধ্যমে যেসব কৃষক আমনের চারা রোপণ করেছেন, তারাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে অনেক জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। কৃষকদের মতে, আমন ধানের এ পর্যায়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে গাছের গোড়া থেকে নতুন কুশি (টিলার) গজাতে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ধানের গোছা প্রয়োজনীয়ভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় ফলন কমে যেতে পারে।

উপজেলার পৌরসভা এলাকার সোনাপাতিল মহল্লার কৃষক সোহেল রানা (৪৭) বলেন, আমাদের এলাকায় রোপা আমন চাষের প্রাণই হলো বর্ষার পানি। এই পানি থাকলে আলাদা করে বেশি সেচ দিতে হয় না। কিন্তু এবার মাঠে পানি নেই। এখন পর্যন্ত ভালো বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে বীজ থেকে চারা তৈরি করতে পারিনি। এখন ভালো বৃষ্টি না হলে সময়মতো চারা লাগানো কঠিন হবে।

পাঁকা ইউনিয়নের ছোট চিথলিয়া এলাকার কৃষক মো. মকুল হোসেন (৫০) বলেন, ভরা বর্ষায় মাঠে পানি নেই। এমন অবস্থা আগে খুব একটা দেখিনি। সেচ দিয়ে আবাদ করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। সব কৃষকের সেই সামর্থ্য নেই। সেচ দিয়ে রোপণ করলেও পরে পানির অভাবে জমিতে আগাছা বেশি জন্মাবে, যা দমন করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। পানি না পেলে অনেক জমি হয়তো অনাবাদি থেকে যাবে। তিনি আরও বলেন, একদিকে সময় চলে যাচ্ছে, এখনো বৃষ্টির দেখা নেই। আবার পানির অভাবে অধিকাংশ কৃষকের পাটও পুরোপুরি কাটা হয়নি। তাই খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. ভবসিন্ধু রায় বলেন, এ বছর প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিতেও পর্যাপ্ত পানি জমেনি। এতে রোপা আমনের চারা রোপণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কৃষকদের জমির অবস্থা বিবেচনা করে সেচের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা নিশ্চিত করে সময়মতো চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে বলে আমরা আশা করছি। বৃষ্টি হলে সমস্যা থাকবে না। যেটুকু ধান রোপণে বিলম্ব হয়েছে, তা কৃষকরা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।