দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় রাণীশংকৈলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালবিরোধী অভিযান জোরদার
- আপডেট সময় : ০৬:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ৯০ বার পড়া হয়েছে

দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় রাণীশংকৈলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালবিরোধী অভিযান জোরদার
দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন, জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি ও ঘুপসি জালের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। চলতি জুলাই মাসজুড়ে পরিচালিত একাধিক ভ্রাম্যমাণ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা, বিল, ডোবা এবং সাপ্তাহিক হাটে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ১০৩টি চায়না দুয়ারি, ১১২টি কারেন্ট জাল এবং ১০টি ঘুপসি জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ জালও নিয়মিত ধ্বংস করা হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটে এখনও ট্যাংরা, পুঁটি, পায়া, শিংসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির অপরিণত ও ছোট আকারের মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব মাছ পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগেই ধরা পড়ায় প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশীয় মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাণীশংকৈল পৌরবাজারের মাছের ক্রেতা মওদুদ বলেন, এত ছোট মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে পরিষ্কার করতে গেলেই প্রায় কিছুই থাকে না। চায়না দুয়ারি জালের কারণে মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বিল-ঝিলে দেশীয় মাছের সংকট দেখা দেবে।
রাণীশংকৈল উপজেলা সমবায় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শাহাবুদ্দিন মাস্টার বলেন, “আগের মতো এখন আর দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। মৎস্য অধিদপ্তরের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
রাণীশংকৈল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল জলিল বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। মাছের প্রজনন মৌসুম ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জেলেদের সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে।




















