আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, হয়রানির শিকার জমির মালিকরা
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, হয়রানির শিকার জমির মালিকরা
মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য ও সেবা নিতে আসা জমির মালিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জমির পর্চা, আপিল মামলা, রায়ের নকল কপি ও বিভিন্ন রেকর্ড-সংক্রান্ত কাজে সেবা নিতে গিয়ে অনেককে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জমির মালিকরা।
স্থানীয় কয়েকজন জমির মালিকের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে গেলেও অনেক সময় সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দালালদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে জটিলতার আশঙ্কায় অনেকে হয়রানির কথা প্রকাশ্যে বলতে চান না।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের জমি-সংক্রান্ত কাজে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজনকে জমির মালিকদের কাগজপত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। দুলাল নামে এক ব্যক্তি জমির মালিকদের কাছ থেকে কাগজপত্র নিচ্ছিলেন বলে দেখা যায়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই অফিসে জমি-সংক্রান্ত কাজে তিনি আসা-যাওয়া করেন।
আরেক ব্যক্তি নিজেকে ‘পাবলিক সার্ভেয়ার’ পরিচয় দিয়ে একজনের পর্চা দেখছিলেন। অফিস প্রাঙ্গণে তার উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদকের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসের ভেতর-বাইরে এমন কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত ঘোরাফেরা করেন, যারা জমির মালিকদের হয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ ও কাজ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেন।
উপজেলার লক্ষ্মীপুর মৌজার জমির মালিক শমসের আলী ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জমি কেনেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও নিজের নামে পর্চা নেওয়ার সুযোগ পাননি।
সম্প্রতি তিনি এ বিষয়ে অফিসে গেলে একজন সার্ভেয়ার তাকে পরিবারের কোনো একটি পর্চা নিয়ে আসতে বলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বাবার একটি পর্চা নিয়ে অফিসে আসেন তিনি। তবে সাংবাদিকের উপস্থিতিতে তাঁকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হয় বলে জানান শমসের আলী। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরস্পরের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, শমসের আলীর বিষয়টি ৪২(ক) ধারার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সংশ্লিষ্ট কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কথা জানানো হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আটোয়ারী সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন সরকারের কাছে অফিসে দালালের উপস্থিতি ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অফিসে কোনো দালাল নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, অফিসে অনুমোদিত পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই কাজ করেন।
অফিসের সার্ভেয়ার জুলফিকার আলী ভূট্রোর বিরুদ্ধেও জমির মালিকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অফিসে নতুন নিয়োগ পাওয়া আল আমিন নামে এক কর্মচারী প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘ভুয়া সংবাদ’ প্রকাশের আশঙ্কার কথা বলেন। এ বক্তব্যের কারণ জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
জমির মালিকদের অভিযোগ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ-সংক্রান্ত কাজে জটিলতা থাকায় তারা অনেক সময় দালালনির্ভর হয়ে পড়েন। এতে প্রকৃত সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সরকারি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কাঠামোতে উপজেলা পর্যায়ের সেটেলমেন্ট অফিসে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার, সার্ভেয়ারসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সরাসরি ও হয়রানিমুক্তভাবে জমির মালিকদের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।



















