রাণীশংকৈলে কিশোরী অপহরণের অভিযোগ, মামলা না নেওয়ার অভিযোগে এসপির দ্বারস্থ পরিবার
- আপডেট সময় : ১০:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলে কিশোরী অপহরণের অভিযোগ, মামলা না নেওয়ার অভিযোগে এসপির দ্বারস্থ পরিবার
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় কিশোরীকে উদ্ধার করা হলেও থানায় মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১ জুলাই গভীর রাতে উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের জওগাঁও গ্রামের প্রবাসী মিলন ইসলামের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান একই এলাকার তিন যুবক। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের তৎপরতায় বাড়ির পাশ থেকে কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর কিশোরীর মা রাণী আক্তার অভিযুক্ত পাভেল, বাদল ও রিমন আলীর বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় লিখিত এজাহার দিয়ে মামলা করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে তিনি মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কিশোরীর মা রাণী আক্তার বলেন, “অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছিল। তাদের পরিবারকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার দিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির টয়লেটের পাশে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মেয়ের জবানবন্দির ভিত্তিতে থানায় গেলে ওসি প্রথমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কয়েকদিন ঘোরানোর পর শেষ পর্যন্ত মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান।”
তিনি আরও জানান, সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশায় তারা ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, ঘটনাটি আমার কাছে মিথ্যা মনে হয়েছে। তাই মামলা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগেরও যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


















