ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, থানায় মামলা ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন পঞ্চগড় হাসপাতালের বেডে শি/শুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগীকে গ্রেপ্তার সিংড়ায় ৭ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে কু’পিয়ে হ/ত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক মান্দায় এতিমখানার উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা সামান্য বৃষ্টিতেই ধস, গোদাগাড়ীর সরমংলা ইকো পার্কের ওয়াকওয়ে নিয়ে প্রশ্ন তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে রাজশাহী চিনিকল শ্রমিকরা, শুরু ফটক সভা বরেন্দ্রকে স্মার্ট কৃষি অঞ্চলে গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বিএমডিএ চেয়ারম্যানের উত্তরাঞ্চলে প্রথমবার শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্তে বিশেষ উদ্যোগ, রাজশাহীতে তিন দিন বিনামূল্যে স্ক্রিনিং বাগাতিপাড়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে এসএসএসের ১,২৫০টি গাছের চারা বিতরণ

১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন বন্যা খাতুনের

এস ইসলাম, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন বন্যা খাতুনের

বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি, সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্কে দিনরাত—সরকারি সহায়তার দাবি

নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামে ১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বন্যা খাতুন ও তার পরিবার। চার কন্যা সন্তান নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

স্বামী রেজাউল করিম ভ্যান চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালালেও প্রতিনিয়ত অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর বন্যা খাতুনের প্রথম সন্তান হিসেবে জন্ম নেয় আয়তাল কুরসি (৭)। এরপর তিন বছর পর যমজ তিন কন্যা—আমেনা, ফাতেমা ও সুরাইয়া জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে চার সন্তানসহ ছয় সদস্যের এই পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

Collected

অভাবের কারণে সন্তানদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ধর্মীয় উৎসবেও নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই তাদের।

ঝুপড়ি ঘরটিতে কয়েক টুকরো পলিথিন ও বাঁশের খুঁটির ওপর কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছে পরিবারটি। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। রাতে সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক নিয়ে থাকতে হয়।

বন্যা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। রাতে সাপ-বিচ্ছুর ভয় নিয়ে থাকতে হয়। চার মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সরকারের কাছে অনুরোধ—আমাদের যেন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।”

প্রতিবেশীরা জানান, বর্তমান সময়ে এমন মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সরকারি সহায়তায় তাদের জন্য একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন বন্যা খাতুনের

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন বন্যা খাতুনের

বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি, সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্কে দিনরাত—সরকারি সহায়তার দাবি

নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামে ১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বন্যা খাতুন ও তার পরিবার। চার কন্যা সন্তান নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

স্বামী রেজাউল করিম ভ্যান চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালালেও প্রতিনিয়ত অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর বন্যা খাতুনের প্রথম সন্তান হিসেবে জন্ম নেয় আয়তাল কুরসি (৭)। এরপর তিন বছর পর যমজ তিন কন্যা—আমেনা, ফাতেমা ও সুরাইয়া জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে চার সন্তানসহ ছয় সদস্যের এই পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

Collected

অভাবের কারণে সন্তানদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ধর্মীয় উৎসবেও নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই তাদের।

ঝুপড়ি ঘরটিতে কয়েক টুকরো পলিথিন ও বাঁশের খুঁটির ওপর কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছে পরিবারটি। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। রাতে সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক নিয়ে থাকতে হয়।

বন্যা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। রাতে সাপ-বিচ্ছুর ভয় নিয়ে থাকতে হয়। চার মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সরকারের কাছে অনুরোধ—আমাদের যেন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।”

প্রতিবেশীরা জানান, বর্তমান সময়ে এমন মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সরকারি সহায়তায় তাদের জন্য একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”