রাজশাহী বোর্ডে রাতভর এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, সচিব বললেন জানতেন না
- আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বোর্ডে রাতভর এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, সচিব বললেন জানতেন না
এম এম মামুনঃ
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর আবারও খাতা দেখার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ২৭ জন শিক্ষককে বোর্ডে ডেকে নিয়ে এসব খাতা দেখানো হয় বলে বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বোর্ড সূত্র জানায়, এসএসসির ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এবারও আবেদন করা খাতাগুলো কয়েক ধাপে শিক্ষকদের দিয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। তবে ওই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও আশানুরূপ ফল না আসায় পুনর্নিরীক্ষণ করা খাতাগুলো আবারও পরীক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, একই খাতা দ্বিতীয় দফায় দেখার জন্য রাতে একসঙ্গে এত শিক্ষককে ডেকে কাজ করানোর ঘটনা তাঁদের কাছে নজিরবিহীন।
দ্বিতীয় দফায় খাতা দেখার অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বোর্ডের ভেতরে অবস্থান করছেন। সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় প্রধান ফটক থেকেই তাঁদের ফিরে আসতে হয়।
রাত সাড়ে ১১টার পর প্রধান ফটকের সামনে আসেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন।
এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের কাজ শেষ হয়নি, রেজাল্ট দিতে হবে তাড়াতাড়ি। এই জন্য রাতে কাজ হচ্ছে।”
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা খাতা দেখা শেষ হওয়ার পরও আবার কেন খাতা দেখা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, “খাতা দেখে ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে আরও দেখা দরকার। ভালো করে দেখা দরকার। ইংরেজি আর অঙ্কের খাতা অনেক বেশি ফেল করেছে এবং অনেক খাতা। সেগুলো দেখতে একটু দেরি হয়েছে।”
খাতা দেখে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করানো হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, না, না। আমাদের দেখার কিছু বাকি ছিল। সেগুলো দেখা দরকার, তাই দেখছে। একটা করে দেখা হচ্ছে, ছেড়ে দিচ্ছি। আমাদের বুয়েটের কাছে মার্ক হস্তান্তর করতে হবে, সেই জন্য।”
রাতে খাতা দেখার কারণ ব্যাখ্যা করে চেয়ারম্যান বলেন, “দিনে শিক্ষকেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আমাদের মনে হয়েছে সুবিধামতো সময়ে সন্ধ্যার পরে তাঁদের দিয়ে কাজ করানো যেতে পারে। বুধবার মার্ক হস্তান্তর করতে হবে। সময় একেবারে নেই।”
পরে চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ভেতরে চলে যান। রাত ১২টার দিকে শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষকরা বের হয়ে যান।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন পাস করে। পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়ে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষক ডেকে খাতা দেখানোর বিষয়টি জানতেন না বলে জানিয়েছেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, “আমি পৌনে ৬টার সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গেই অফিস থেকে নেমে গিয়েছিলাম। তারপর রাতে বাসায় ঘুমিয়েও পড়েছিলাম। রাত দেড়টার সময় ছেলে ঘুম থেকে ডেকে তুলে দেখায় যে আমার ফোনে বিভিন্ন ধরনের মেসেজ এসেছে। এটা দেখে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। এগুলো আসলে দুঃখজনক।”
সচিব জানান, তাঁরা পরিকল্পনা করেছিলেন ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা খাতা দেখা শেষ করবেন। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ফলাফল জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তাঁর জানামতে ১ সেপ্টেম্বরই খাতা দেখা শেষ হয়েছিল। এরপর তাঁরা অফিস থেকে চলে যাওয়ার পর রাতে আবার কেন খাতা দেখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁকে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তাই তিনিও নিজ থেকে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেননি।
ঘটনার বিষয়ে বোর্ডের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়ম অনুযায়ী পুনর্নিরীক্ষণ শেষ হওয়ার পর একই খাতা আবার দেখার প্রয়োজন কেন দেখা দিল এবং এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো কীভাবে, এ বিষয়গুলো নিয়ে এখন ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে।




















