ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিরাজগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে শি’শুকে দুধ খাওয়ানোর সময় নারীকে কু/পিয়ে হ/ত্যা, যুবক আটক লালপুরে পানিবন্দি মানুষের পাশে প্রতিমন্ত্রী পুতুল, ৪০০ পরিবার পেল ত্রাণ বাঘায় হাঁ’সুয়ার কো/পে গৃহবধূ জুসি খাতুন নিহত, স্বামী পলাতক পঞ্চগড়ে শব্দ দূষণ থেকে শিশুদের রক্ষায় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা পঞ্চগড়ে সাবেক পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আটক গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমস্যা ও সরকারি সেবা নিয়ে মতবিনিময় তিন বছর ধরে শরীরের এক পাশ অবশ, এখনো মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড ঝিনাইগাতীতে মাদক সেবনের অপরাধে তিনজনের কারাদণ্ড রাজশাহীতে অনুমোদন ছাড়া জার পানি উৎপাদন, জরিমানা

তিন বছর ধরে শরীরের এক পাশ অবশ, এখনো মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

Suresh Pic

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিন বছর ধরে শরীরের এক পাশ অবশ, এখনো মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে পড়ে আছে প্রায় তিন বছর। নেই কাজ করার সামর্থ্য, নেই চিকিৎসার অর্থ। স্ত্রী মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার। সহায়-সম্বল বলতে রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ জমি।

এমন পরিস্থিতিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সুরেশ চন্দ্র পাল প্রায় তিন বছর ধরে অপেক্ষা করছেন একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য। সুরেশ চন্দ্র পাল উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কালীপদ পালের ছেলে। স্ত্রী শ্রীমতি চায়না রানী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার।

একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুরেশ। প্রায় তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কাজ করতে পারেন না তিনি। কর্মক্ষমতা হারিয়ে ঘরেই পড়ে থাকতে হচ্ছে তাকে।

সংসারের দায়িত্ব এখন স্ত্রী চায়না রানীর ওপর। তিনি নিজ হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে বিক্রি করেন। সেই সামান্য আয় দিয়ে সংসারের চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে সুরেশের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না পরিবারটি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন সুরেশ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি ভাতার কার্ড পাননি। সরকারি কোনো সহায়তাও পাননি বলে পরিবারের দাবি।

সুরেশ চন্দ্র পাল বলেন, শরীরের এক পাশ অচল। কোনো কাজ করতে পারি না। সংসারে অভাব, চিকিৎসার টাকাও নেই। অনেক আগে ভাতার জন্য আবেদন করেছি। সরকার যদি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়, তাহলে পরিবারটি অন্তত বাঁচার একটা অবলম্বন পাবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সানজা ইসলাম সানীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিন বছর ধরে শরীরের এক পাশ অবশ, এখনো মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড

আপডেট সময় : ০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন বছর ধরে শরীরের এক পাশ অবশ, এখনো মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে পড়ে আছে প্রায় তিন বছর। নেই কাজ করার সামর্থ্য, নেই চিকিৎসার অর্থ। স্ত্রী মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার। সহায়-সম্বল বলতে রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ জমি।

এমন পরিস্থিতিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সুরেশ চন্দ্র পাল প্রায় তিন বছর ধরে অপেক্ষা করছেন একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য। সুরেশ চন্দ্র পাল উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কালীপদ পালের ছেলে। স্ত্রী শ্রীমতি চায়না রানী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার।

একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুরেশ। প্রায় তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কাজ করতে পারেন না তিনি। কর্মক্ষমতা হারিয়ে ঘরেই পড়ে থাকতে হচ্ছে তাকে।

সংসারের দায়িত্ব এখন স্ত্রী চায়না রানীর ওপর। তিনি নিজ হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে বিক্রি করেন। সেই সামান্য আয় দিয়ে সংসারের চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে সুরেশের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না পরিবারটি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন সুরেশ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি ভাতার কার্ড পাননি। সরকারি কোনো সহায়তাও পাননি বলে পরিবারের দাবি।

সুরেশ চন্দ্র পাল বলেন, শরীরের এক পাশ অচল। কোনো কাজ করতে পারি না। সংসারে অভাব, চিকিৎসার টাকাও নেই। অনেক আগে ভাতার জন্য আবেদন করেছি। সরকার যদি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়, তাহলে পরিবারটি অন্তত বাঁচার একটা অবলম্বন পাবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সানজা ইসলাম সানীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।