ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে বাল্যবিবাহ বন্ধ, ইমাম ও বরপক্ষকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত পঞ্চগড়ে ডিম ব্যবসায়ীকে জরিমানা, অন্যদের সতর্ক বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন মান্দায় স্কুলের সামনে ভটভটির ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত নকলায় মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও অটোভ্যান আটক নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড তামাক-নিকোটিন পণ্য এসডিজি অর্জনে বড় বাধা: গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা

রাণীশংকৈলে ইএসডিওর বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, অসহায় মানুষের চোখে ফিরছে আলো

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

Ranishankail

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলে ইএসডিওর বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, অসহায় মানুষের চোখে ফিরছে আলো

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে না পারা অসহায় মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে সমন্বিত চক্ষুসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও Orbis International-এর সহযোগিতায় উপজেলার সব ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম চলছে।

‘প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে কার্যক্রমের আওতায় চোখের রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দরিদ্র, অসহায়, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ওপর।

ইএসডিও সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত রাণীশংকৈল উপজেলার ৬ হাজার ৫০ জন মানুষের চোখ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে যাঁদের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত ২৭ জন ছানি রোগীর অস্ত্রোপচার দিনাজপুরের গাউসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে চলছে। তাঁদের মধ্যে রাণীশংকৈল উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী মো. সিরাজুল ইসলাম ও হাটখোলা গ্রামের শর্মিলা মোহন রয়েছেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশায় রয়েছেন তাঁরা।

ইএসডিওর হেড অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স মো. আইনুল হক বলেন, “এ পর্যন্ত রাণীশংকৈল উপজেলায় ১৭৬ জন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তাঁরা যখন আবার স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাচ্ছেন, তখন তাঁদের আনন্দ ও আবেগ আমাদেরও গভীরভাবে স্পর্শ করে।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ দীর্ঘদিন চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, সচেতনতার অভাব এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগের অভাবে সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। ফলে সাধারণ চোখের সমস্যাও একপর্যায়ে গুরুতর হয়ে ওঠে। এ বাস্তবতায় মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চক্ষুসেবা ও স্ক্রিনিং পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রেফার করা হচ্ছে।

ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, “দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ। অথচ অর্থের অভাব, সচেতনতার ঘাটতি কিংবা সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার কারণে অনেক দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন।”

তিনি বলেন, পিকেএসএফ ও Orbis International-এর সহযোগিতায় রাণীশংকৈলে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চক্ষুসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র মানুষও সময়মতো চোখ পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাবেন।

ইএসডিও জানিয়েছে, কার্যক্রমের আওতায় শুধু ছানি শনাক্তকরণ ও অস্ত্রোপচার নয়, চোখের যত্ন ও রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চোখের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও রেফারেল সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাণীশংকৈলে একটি কার্যকর ও টেকসই চক্ষুসেবা কাঠামো গড়ে উঠবে। এর সুফল পৌঁছে যাবে প্রত্যন্ত গ্রামের সেই মানুষটির কাছেও, যার কাছে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া শুধু একটি চিকিৎসাসেবা নয়—বরং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার নতুন সম্ভাবনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলে ইএসডিওর বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, অসহায় মানুষের চোখে ফিরছে আলো

আপডেট সময় : ১১:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

রাণীশংকৈলে ইএসডিওর বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, অসহায় মানুষের চোখে ফিরছে আলো

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে না পারা অসহায় মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে সমন্বিত চক্ষুসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও Orbis International-এর সহযোগিতায় উপজেলার সব ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম চলছে।

‘প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে কার্যক্রমের আওতায় চোখের রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দরিদ্র, অসহায়, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ওপর।

ইএসডিও সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত রাণীশংকৈল উপজেলার ৬ হাজার ৫০ জন মানুষের চোখ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে যাঁদের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত ২৭ জন ছানি রোগীর অস্ত্রোপচার দিনাজপুরের গাউসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে চলছে। তাঁদের মধ্যে রাণীশংকৈল উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী মো. সিরাজুল ইসলাম ও হাটখোলা গ্রামের শর্মিলা মোহন রয়েছেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশায় রয়েছেন তাঁরা।

ইএসডিওর হেড অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স মো. আইনুল হক বলেন, “এ পর্যন্ত রাণীশংকৈল উপজেলায় ১৭৬ জন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তাঁরা যখন আবার স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাচ্ছেন, তখন তাঁদের আনন্দ ও আবেগ আমাদেরও গভীরভাবে স্পর্শ করে।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ দীর্ঘদিন চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, সচেতনতার অভাব এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগের অভাবে সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। ফলে সাধারণ চোখের সমস্যাও একপর্যায়ে গুরুতর হয়ে ওঠে। এ বাস্তবতায় মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চক্ষুসেবা ও স্ক্রিনিং পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রেফার করা হচ্ছে।

ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, “দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ। অথচ অর্থের অভাব, সচেতনতার ঘাটতি কিংবা সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার কারণে অনেক দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন।”

তিনি বলেন, পিকেএসএফ ও Orbis International-এর সহযোগিতায় রাণীশংকৈলে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চক্ষুসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র মানুষও সময়মতো চোখ পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাবেন।

ইএসডিও জানিয়েছে, কার্যক্রমের আওতায় শুধু ছানি শনাক্তকরণ ও অস্ত্রোপচার নয়, চোখের যত্ন ও রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চোখের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও রেফারেল সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাণীশংকৈলে একটি কার্যকর ও টেকসই চক্ষুসেবা কাঠামো গড়ে উঠবে। এর সুফল পৌঁছে যাবে প্রত্যন্ত গ্রামের সেই মানুষটির কাছেও, যার কাছে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া শুধু একটি চিকিৎসাসেবা নয়—বরং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার নতুন সম্ভাবনা।