বিছানাই ১০ বছরের ঠিকানা, অন্ধকার ঘরে অসহায় ঝমেলার দিন কাটে
- আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

বিছানাই ১০ বছরের ঠিকানা, অন্ধকার ঘরে অসহায় ঝমেলার দিন কাটে
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
বয়স ৭০ পেরিয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর একাকীত্বের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ঝমেলা। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিছানাই তার ঠিকানা। কোমর থেকে নিচের অংশ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় নিজের শক্তিতে চলাফেরা তো দূরের কথা, বিছানা থেকে ওঠা-বসাও সম্ভব হয় না তার।
প্রস্রাব-পায়খানাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলোও করতে হয় বিছানায় শুয়েই। বয়সের ভার আর দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছেন এই বৃদ্ধা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার দশকেরও বেশি আগে মারা যান ঝমেলার স্বামী। একমাত্র ছেলে বেঁচে থাকলেও নিয়মিত খোঁজখবর নেন না বলে জানান স্থানীয়রা। প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন তার একমাত্র মেয়েও। এরপর থেকেই অনেকটা একাকী জীবন কাটছে তার।
অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়ে একসময় নিজের ভিটার মাটিও বিক্রি করতে হয়েছে ঝমেলাকে। তাতেও সুস্থতা ফেরেনি। এখন অর্থের অভাবে প্রায় বিনা চিকিৎসায় দিন কাটছে তার।
শুধু অসুস্থতাই নয়, ঝমেলার জীবনে অন্ধকারও যেন নিত্যসঙ্গী। তার বাড়িতে এখনো বিদ্যুতের সংযোগ নেই। ফলে বিদ্যুৎহীন অন্ধকার ঘরেই কষ্টে কাটে দিনের পর দিন।
একসময় জুসনা নামে একটি মেয়েকে নাতনি হিসেবে লালন-পালন করেছিলেন ঝমেলা। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জুসনার বিয়ে হয়। কিন্তু অভাব-অনটনের কারণে সেই পরিবারও বর্তমানে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও ঝমেলার নিয়মিত দেখাশোনা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে খাবারের ব্যবস্থা হয়। তবে চিকিৎসা, ওষুধ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝমেলা কোনো সরকারি ভাতা পান না। ফলে বয়স ও অসুস্থতার কারণে কাজ করার সামর্থ্য হারানো এই বৃদ্ধার জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ঝমেলার দিন কাটে এখন একটি ছোট্ট আশায়, কেউ যদি তার পাশে দাঁড়ায়, যদি আবার চিকিৎসার সুযোগ মেলে, যদি অন্ধকার ঘরে আলো জ্বলে। জীবনের শেষ সময়ে বড় কোনো চাওয়া নেই তার; প্রয়োজন শুধু একটু চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় সেবা, নিরাপদে মাথা গোঁজার জায়গা এবং মানুষের সামান্য সহমর্মিতা।
ঝিনাইগাতীর দীঘিরপাড় গ্রামের এই অসহায় বৃদ্ধার গল্প তাই শুধু দারিদ্র্যের নয়; এটি সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দায়বদ্ধতারও একটি প্রশ্ন।



















