ঝিনাইগাতীতে জমি বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইগাতীতে জমি বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাবিবুর রহমান হাবি মাস্টার ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরেফিন সোহাগের পক্ষ। পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানি, মামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছে।
রামেরকুড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে জমির রেকর্ড, দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
হাবিবুর রহমান হাবি মাস্টারের পক্ষের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রামেরকুড়া মৌজার ১৩০ ও ১৩১ নম্বর দাগের ৩০ শতাংশ জমিতে নির্মিত মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে বৈধ মালিকানা ও রেকর্ডের ভিত্তিতে তারা ভোগদখল করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরেফিন সোহাগের নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে ওই মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি রাতের আঁধারে মার্কেট দখলের চেষ্টা এবং পাঁচটি দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।
হাবি মাস্টারের পক্ষ দাবি করে, জমি ও মার্কেটের মালিকানা ও ভোগদখলের পক্ষে তাদের কাছে রেকর্ড, দলিল, মামলার ডিক্রি ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। পাশাপাশি ১২৩ নম্বর দাগের আরআর ও বিআরএস রেকর্ডের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরেফিন সোহাগ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১১ সালে তার বাবা মো. শাহ আলম রামেরকুড়া মৌজার বিআরএস ১২৩ নম্বর দাগ থেকে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ জমি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। তার দাবি, জমিটি কেনার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন।
আরেফিন সোহাগ অভিযোগ করেন, তিনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হওয়ার পর থেকেই হাবিবুর রহমান হাবি মাস্টারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার দাবি, একটি অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মামলা তাঁদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ডাকাতি মামলায় তিনি ও তার পরিবারের ১০ সদস্য সাত দিন কারাগারে ছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্ত হন।
তিনি আরও বলেন, হাবি মাস্টারদের দাবিকৃত ১৩০ ও ১৩১ নম্বর দাগের ৩০ শতাংশ জমির ওপর তাঁদের কোনো দাবি নেই। বরং বৈধভাবে ক্রয় করা ১২৩ নম্বর দাগের জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরেফিন সোহাগ তার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কারও সম্পত্তি দখলের অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে দলিল, খতিয়ান, নামজারি, রেকর্ড ও প্রকৃত দখল যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের বাইরে থেকে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমি সরেজমিনে পরিমাপ, দলিল-রেকর্ড যাচাই এবং প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে।
উভয় পক্ষই সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কোনো এক পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে উভয় পক্ষের দলিলপত্র, রেকর্ড ও বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
জমি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি করে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



















