ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি; দুই দিন পর বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার লালপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু, অপমৃত্যু মামলা রুজু লালপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, ওঝার ঝাড়ফুঁকে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ ঝিনাইগাতীতে ভাতিজার হামলায় চাচি নিহত, হত্যা মামলার প্রস্তুতি ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে কিশোরী ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন লালপুরে ওয়ার্কশপ ও লেদ মেশিনের শব্দদূষণে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, ইউএনওর কাছে অভিযোগ রাণীশংকৈলে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভা, তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান  লালপুরে পৃথক ঘটনায় দুই কিশোরী নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আবেদন

ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হলো না ৯৬ বছরের বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ২১৬ বার পড়া হয়েছে

pic collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হলো না ৯৬ বছরের বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের

চৌদ্দগ্রামে ৯৬ বছরের বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, মেয়ের বাড়িতে মানবেতর জীবন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৯৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। একমাত্র ছেলে বিদেশে চলে যাওয়ার পর বৃদ্ধা মায়ের আশ্রয় জোটেনি ছেলের নতুন নির্মিত বাড়িতেও। বর্তমানে তিনি মেয়ের জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের। ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। তাঁর স্বামী আবদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ছামেনা খাতুনের দুর্দশা শুরু হয়। ২০১১ সালে ছেলে ফয়েজ আহমেদ তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে থাকা মেয়ে রোকেয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি মেয়ের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। রোকেয়া বেগম নিজেও স্বামীহারা। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার চালালেও মায়ের দেখভাল করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে ফয়েজ আহমেদ নতুন একটি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি তাঁর মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে গত ৪ মে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে ছামেনা খাতুনকে তাঁর মালামালসহ আবার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ছামেনা খাতুনের মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ভাই ও ভাবি দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি অবহেলা করে আসছেন। আমাদের অভাবের সংসার হলেও আমরা মায়ের ভরণপোষণ চালিয়ে যাচ্ছি। ভাই দেশে এসে মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু তিনি বিদেশে যাওয়ার পরদিনই ভাবি মাকে ঘর থেকে বের করে দেন।

ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুন বলেন, আমাকে অনেক বছর আগে ছেলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না। আমার মেয়েরাই আমাকে দেখাশোনা করে।

লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, গ্রামবাসীর অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তাঁর মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরদিনই তাঁর স্ত্রী বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে যে মেয়ের বাড়িতে তিনি থাকছেন, সেই পরিবারও খুবই অসচ্ছল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা বেগম সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বৃদ্ধা মায়ের নিরাপদ আবাসন ও যথাযথ ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হলো না ৯৬ বছরের বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হলো না ৯৬ বছরের বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের

চৌদ্দগ্রামে ৯৬ বছরের বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, মেয়ের বাড়িতে মানবেতর জীবন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৯৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। একমাত্র ছেলে বিদেশে চলে যাওয়ার পর বৃদ্ধা মায়ের আশ্রয় জোটেনি ছেলের নতুন নির্মিত বাড়িতেও। বর্তমানে তিনি মেয়ের জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের। ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। তাঁর স্বামী আবদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ছামেনা খাতুনের দুর্দশা শুরু হয়। ২০১১ সালে ছেলে ফয়েজ আহমেদ তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে থাকা মেয়ে রোকেয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি মেয়ের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। রোকেয়া বেগম নিজেও স্বামীহারা। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার চালালেও মায়ের দেখভাল করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে ফয়েজ আহমেদ নতুন একটি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি তাঁর মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে গত ৪ মে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে ছামেনা খাতুনকে তাঁর মালামালসহ আবার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ছামেনা খাতুনের মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ভাই ও ভাবি দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি অবহেলা করে আসছেন। আমাদের অভাবের সংসার হলেও আমরা মায়ের ভরণপোষণ চালিয়ে যাচ্ছি। ভাই দেশে এসে মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু তিনি বিদেশে যাওয়ার পরদিনই ভাবি মাকে ঘর থেকে বের করে দেন।

ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুন বলেন, আমাকে অনেক বছর আগে ছেলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না। আমার মেয়েরাই আমাকে দেখাশোনা করে।

লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, গ্রামবাসীর অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তাঁর মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরদিনই তাঁর স্ত্রী বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে যে মেয়ের বাড়িতে তিনি থাকছেন, সেই পরিবারও খুবই অসচ্ছল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা বেগম সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বৃদ্ধা মায়ের নিরাপদ আবাসন ও যথাযথ ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।