রাজশাহীর পদ্মার চরে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’, গ্রেপ্তার ৬৭
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫ ৩০৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর পদ্মার চরে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’, গ্রেপ্তার ৬৭
রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার পদ্মার চরাঞ্চলে দাপিয়ে বেড়ানো সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএন। রবিবার ভোর থেকে সারাদিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয় রাজশাহীর বাঘা, পাবনার আমিনপুর ও ঈশ্বরদী, এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বিভিন্ন চর এলাকায়।
অভিযান শেষে রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযানে ১১টি সন্ত্রাসী বাহিনীর ৬৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই কুখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার হাসিনুজ্জামান কাকনের নেতৃত্বাধীন ‘কাকন বাহিনী’র সদস্য।
অভিযানে অস্ত্র, মোটরসাইকেল, মাদকদ্রব্য, নৌকা, স্পিডবোটসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর সীমান্তবর্তী মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার নিচ খানপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এরপর কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়, যা পরবর্তীতে এই ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ অভিযানের সূত্রপাত ঘটায়।
এই চরাঞ্চলে মোট ১১টি সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে রয়েছে—কাকন বাহিনী, মণ্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ ও নাহারুল বাহিনী।
এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র পাচার, অবৈধ দখল, সর্বহারা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সহযোগিতা, এমনকি চাষী ও জেলেদের হত্যার অভিযোগ।
অভিযানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, র্যাব ও এপিবিএনের প্রায় ১,২০০ সদস্য অংশ নেন। রাজশাহী রেঞ্জের তিন জেলা (রাজশাহী, পাবনা ও নাটোর) থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৫৮ জন, আর পুলিশের খুলনা রেঞ্জের কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ৯ জন।
অভিযানে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়—১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ রাউন্ড গুলি ও ২টি খোসা, ২৪টি হাসুয়া, ৬টি ডোসার, ২টি ছোরা, ৪টি চাকু, ৩টি রামদা, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি লোহার পাইপ, ১টি টিউবওয়েল, ৫টি মোটরসাইকেল, ২০ বোতল ফেনসিডিল, ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৫০ পিস ইয়াবা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে- ১টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ১টি স্পিডবোট, অস্ত্র রাখার সিলিন্ডার, ২টি তাবু, ৫টি মোটরসাইকেল।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “এই অভিযানই শেষ নয়, এটি কেবল শুরু। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চলবে। সন্ত্রাসী বাহিনীর কার্যক্রম পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।”




















