স্বামীর ভিটে থেকেও বঞ্চিত বৃদ্ধা বিমলা রানী, পুকুরপাড়ের ভাঙা কুঁড়েঘরেই মৃত্যুর প্রহর
- আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

স্বামীর ভিটে থেকেও বঞ্চিত বৃদ্ধা বিমলা রানী, পুকুরপাড়ের ভাঙা কুঁড়েঘরেই মৃত্যুর প্রহর
স্বামীহারা, নিঃসন্তান ও অসুস্থ ৮০ বছরের বৃদ্ধার মানবেতর জীবন; চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি স্থানীয়দের
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন একজন মানুষের প্রয়োজন হয় নিরাপদ আশ্রয়, সেবা-যত্ন ও একটু মানবিক সহানুভূতি, ঠিক তখনই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা বিমলা রানী। স্বামীর মৃত্যুর পর ন্যায্য আশ্রয়টুকুও হারিয়ে তিনি এখন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার রামদেবপুর গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি উপজেলার ২ নম্বর কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে ন্যুব্জ বিমলা রানী নানা জটিল রোগে ভুগছেন। চোখে ঝাপসা দেখেন, কোমরের তীব্র ব্যথায় ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারেন না। ভাঙা টিন ও বেড়ার তৈরি জীর্ণ কুঁড়েঘরের সামনে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বসেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে তার।
ঘরের চালের ভাঙা টিন ও বেড়ার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি অনায়াসেই ভেতরে পড়ে। মেঝেতে নেই কোনো বিছানা। একটি ছেঁড়া বস্তা ও পুরোনো কাপড়ের ওপর কোনোমতে রাত কাটান তিনি। প্রতিটি বর্ষার রাত যেন তার কাছে নতুন এক দুর্ভোগের নাম।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসন্তান হওয়ায় স্বামীর ভিটেমাটিতে তার আর জায়গা হয়নি। এরপর বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরপাড়ের এই নির্জন স্থানে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর তৈরি করে বসবাস করছেন।
নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিমলা রানী। তিনি বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার আর কেউ খোঁজ রাখেনি। বাধ্য হয়ে এই পুকুরপাড়ে খুপরি ঘরটি তুলেছি। আগে মানুষের কাছে হাত পেতে যা পেতাম, তা দিয়ে আধপেটা খেয়ে বেঁচে ছিলাম। এখন তো উঠতেই পারি না, খাব কী? চিকিৎসাও করাতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম ও রমেছা বেগম জানান, বিমলা রানীর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এলাকাবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাঝে-মধ্যে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করলেও তার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় সার্বক্ষণিক দেখভাল ও চিকিৎসার প্রয়োজন।
তারা বলেন, “উনার ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ে, ঘুমানোর মতো পরিবেশ নেই। আমরা গরিব মানুষ, যতটুকু পারি সহযোগিতা করি। কিন্তু এখন সরকারি ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের দাবি, বৃদ্ধা বিমলা রানীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা, খাদ্য, নিরাপদ বাসস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। তাদের মতে, জীবনের শেষ সময়ে একজন অসহায় বৃদ্ধার জন্য সামান্য মানবিক সহায়তাই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।



















