ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আপনাদের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা- বাগাতিপাড়ায় প্রতিমন্ত্রী পুতুল পঞ্চগড়ে চাকলাহাটে শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লালপুরে অটোভ্যান চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার সাংবাদিকদের ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে হবে- প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান শেরপুরে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের পাশের পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে নারীর মৃত্যু বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ল্যাপটপ চুরি

বাঘায় আড়ানী স্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া বৃদ্ধের মৃত্যু কারণ জানা গেলো

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫ ২০২৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাঘায় আড়ানী স্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া বৃদ্ধের মৃত্যু কারণ জানা গেলো

রাজশাহীর বাঘায় আড়ানী স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বৃদ্ধ মীর রুহুল আমিন (৬০) এর মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন পরিবার। পরিবারের দাবি রুহুল আমিন মানসিক প্রতিবন্ধী। এক জেদি মানুষ। তার মনে যা চাই তা করে। কারও কথা শোনে না। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোমড়ের ব্যথায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা অসুস্থতার কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন মীর রুহুল আমিন। তিনি বাউসা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করে। এতে দেখা গেছে, নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করে অনেকে পোস্ট দেন। রুহুল আমিনের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে কথা হয় ছেলে মীর মশিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মানষিক প্রতিবন্ধী। এক জেদি মানুষ। ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি, সে কারও কথা শোনে না। মনে যা চাই সেটা করে। ঘটনার দিন বাবা আড়ানী স্টেশন বাজারে গিয়েছিলেন পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। তারমধ্যে তিনি পেঁয়াজ ঢেকে রাখার জন্য পলিথিনও কিনেছেন।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন ‘বাবার মৃত্যু নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সেখানে বাবাকে না খেতে দিয়ে ছেলের বৌ-দের দ্বারা নির্যাতন, মেয়ে বাবাকে দেখেনা ইত্যাদি। আসলে প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, বাবা-মার আমরা দুই সন্তান। বড় বোন মৌসুমী আক্তারের ২০ বছর আগে বিয়ে হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। বোন শ্বশুর বাড়িতে থাকে। আর আমি চাকরির সুবাদে স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় থাকি।’ তবে মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব না ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার দাবি জানান তিনি। শুধু বাবা-মা থাকতেন বাড়িতে।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক এনামুল হক বলেন, রুহুল আমিন একজন সহজ সরল মানুষ। কম কথা বলেন। এক জেদি মানুষ। তার মৃত্যু নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা কথা রটিয়েছে। এটা ঠিক করেনি। প্রকৃত ঘটনা জানতে হবে। তার পরে না হয় লিখলো। এসব কারণে পরিবারের সম্মান নষ্ট হয়।

বাউসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মলিন বলেন, রুহুল আমিন এলাকায় সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তারা পারিবারিক ভাবে ভালো মানুষ। তার এক ছেলে এক মেয়ে। বিয়ের পরে মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকে। এছাড়া ছেলে চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকে। জানা মতে, সন্তানরা তার বাবা-মাকে দেখেন। এই দিক থেকে কোন সমস্যা নেই। আমার জানা মতে দীর্ঘদিন থেকে তিনি কোমড়-পা ব্যাথায় ভুগছিলেন। যেহেতু বয়স হয়েছে শারিরীক নানা জটিলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে তার মানসিকভাবে বুদ্ধিতে কম। যাকে বলে প্রতিবন্ধী।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, পারিবারিকভাবে জানা গেছে তিনি কিছু ঋণ নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। শুনেছি পেঁয়াজে আশানরূপ ফলন হয়নি। পেঁয়াজে লোকসান হবে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। এছাড়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

April 16, 2025
বাঘায় আড়ানী স্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া বৃদ্ধের মৃত্যু কারণ জানা গেলো
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাঘায় আড়ানী স্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া বৃদ্ধের মৃত্যু কারণ জানা গেলো

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

বাঘায় আড়ানী স্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া বৃদ্ধের মৃত্যু কারণ জানা গেলো

রাজশাহীর বাঘায় আড়ানী স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বৃদ্ধ মীর রুহুল আমিন (৬০) এর মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন পরিবার। পরিবারের দাবি রুহুল আমিন মানসিক প্রতিবন্ধী। এক জেদি মানুষ। তার মনে যা চাই তা করে। কারও কথা শোনে না। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোমড়ের ব্যথায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা অসুস্থতার কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন মীর রুহুল আমিন। তিনি বাউসা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করে। এতে দেখা গেছে, নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করে অনেকে পোস্ট দেন। রুহুল আমিনের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে কথা হয় ছেলে মীর মশিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মানষিক প্রতিবন্ধী। এক জেদি মানুষ। ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি, সে কারও কথা শোনে না। মনে যা চাই সেটা করে। ঘটনার দিন বাবা আড়ানী স্টেশন বাজারে গিয়েছিলেন পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। তারমধ্যে তিনি পেঁয়াজ ঢেকে রাখার জন্য পলিথিনও কিনেছেন।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন ‘বাবার মৃত্যু নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সেখানে বাবাকে না খেতে দিয়ে ছেলের বৌ-দের দ্বারা নির্যাতন, মেয়ে বাবাকে দেখেনা ইত্যাদি। আসলে প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, বাবা-মার আমরা দুই সন্তান। বড় বোন মৌসুমী আক্তারের ২০ বছর আগে বিয়ে হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। বোন শ্বশুর বাড়িতে থাকে। আর আমি চাকরির সুবাদে স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় থাকি।’ তবে মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব না ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার দাবি জানান তিনি। শুধু বাবা-মা থাকতেন বাড়িতে।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক এনামুল হক বলেন, রুহুল আমিন একজন সহজ সরল মানুষ। কম কথা বলেন। এক জেদি মানুষ। তার মৃত্যু নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা কথা রটিয়েছে। এটা ঠিক করেনি। প্রকৃত ঘটনা জানতে হবে। তার পরে না হয় লিখলো। এসব কারণে পরিবারের সম্মান নষ্ট হয়।

বাউসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মলিন বলেন, রুহুল আমিন এলাকায় সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তারা পারিবারিক ভাবে ভালো মানুষ। তার এক ছেলে এক মেয়ে। বিয়ের পরে মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকে। এছাড়া ছেলে চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকে। জানা মতে, সন্তানরা তার বাবা-মাকে দেখেন। এই দিক থেকে কোন সমস্যা নেই। আমার জানা মতে দীর্ঘদিন থেকে তিনি কোমড়-পা ব্যাথায় ভুগছিলেন। যেহেতু বয়স হয়েছে শারিরীক নানা জটিলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে তার মানসিকভাবে বুদ্ধিতে কম। যাকে বলে প্রতিবন্ধী।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, পারিবারিকভাবে জানা গেছে তিনি কিছু ঋণ নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। শুনেছি পেঁয়াজে আশানরূপ ফলন হয়নি। পেঁয়াজে লোকসান হবে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। এছাড়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

April 16, 2025
বাঘায় আড়ানী স্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া বৃদ্ধের মৃত্যু কারণ জানা গেলো
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement