ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই- লালপুরে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল সাপাহারে ৫ মাদ্রাসায় ১ জন করে পাস, একটিতে সবাই ফেল পঞ্চগড়ে সুগন্ধি আতপ চালের দর আকাশছোঁয়া, কমেছে কাঁচামরিচের দাম লালপুরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল শ্রীবরদী সীমান্তে বিজিবির রাতভর অভিযানে ভারতীয় কসমেটিক ও গরু জব্দ নলডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫-এ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাউয়েট বাগাতিপাড়ায় বাউয়েট ক্যাম্পাসে হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন পঞ্চগড়ে দুই স্কুলে ৪ এসএসসি পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ বাগমারায় এসএসসির ফলাফল নিয়ে হতাশায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

সাপাহারে ৫ মাদ্রাসায় ১ জন করে পাস, একটিতে সবাই ফেল

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

sapahar

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাপাহারে ৫ মাদ্রাসায় ১ জন করে পাস, একটিতে সবাই ফেল

৮৩৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ২৮৩, পাসের হার ৩৩.৯৭ শতাংশ

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহারে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে একাধিক মাদ্রাসায় চরম হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি মাদ্রাসা থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে একটি মাদ্রাসার ১৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন সরকার দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এতসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আতাউল্লাহ বলেন, “করোনা দুর্যোগের কারণে পরিবারগুলো অসচ্ছল হয়ে পড়ে। যার কারণে সচেতনতার অভাবে এই ফলাফল হতে পারে।”

সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল কবীর বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে এটা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সতর্ক করা হবে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাপাহারের আরও চারটি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন।

এছাড়া দেওপাড়া শিংপাড়া মাদ্রাসা থেকে ১২ জনের মধ্যে একজন, রসুলপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে একজন এবং ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জনের মধ্যে একজন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

অন্যদিকে, মরাডাঙ্গা ময়নাকুড়ি আলিম মাদ্রাসা থেকেও ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন।

উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ৮৩৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২৮৩ জন। উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৩৩.৯৭ শতাংশ। মাদ্রাসাগুলো থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী।

একাধিক মাদ্রাসায় এমন হতাশাজনক ফলাফল নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার আগে কার্যকর একাডেমিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাপাহারে ৫ মাদ্রাসায় ১ জন করে পাস, একটিতে সবাই ফেল

আপডেট সময় : ১০:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সাপাহারে ৫ মাদ্রাসায় ১ জন করে পাস, একটিতে সবাই ফেল

৮৩৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ২৮৩, পাসের হার ৩৩.৯৭ শতাংশ

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহারে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে একাধিক মাদ্রাসায় চরম হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি মাদ্রাসা থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে একটি মাদ্রাসার ১৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন সরকার দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এতসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আতাউল্লাহ বলেন, “করোনা দুর্যোগের কারণে পরিবারগুলো অসচ্ছল হয়ে পড়ে। যার কারণে সচেতনতার অভাবে এই ফলাফল হতে পারে।”

সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল কবীর বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে এটা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সতর্ক করা হবে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাপাহারের আরও চারটি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন।

এছাড়া দেওপাড়া শিংপাড়া মাদ্রাসা থেকে ১২ জনের মধ্যে একজন, রসুলপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে একজন এবং ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জনের মধ্যে একজন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

অন্যদিকে, মরাডাঙ্গা ময়নাকুড়ি আলিম মাদ্রাসা থেকেও ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন।

উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ৮৩৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২৮৩ জন। উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৩৩.৯৭ শতাংশ। মাদ্রাসাগুলো থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী।

একাধিক মাদ্রাসায় এমন হতাশাজনক ফলাফল নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার আগে কার্যকর একাডেমিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।