ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নালিতাবাড়ীতে চিরকুট রেখে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আ/ত্ম/হ/ত্যা গোদাগাড়ীতে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল রাণীশংকৈলে কুলিক নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন ডেঙ্গু প্রতিরোধে পঞ্চগড়ে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পঞ্চগড়ে জাতিসংঘের আদলে দুই দিনব্যাপী ছায়া সম্মেলন রাজশাহীতে সর্প দংশন সচেতনতা দিবসে প্রশিক্ষণ কর্মশালা লালপুরে সদ্য খনন করা ডোবায় ডুবে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় স্ত্রীর কাছে মাদক কেনার টাকা না পেয়ে স্বামীর আ/ত্ম/হ/ত্যা বাগাতিপাড়ায় পুকুরপাড়ে শার্ট-স্যান্ডেল, পানিতে মিলল আনসার ভিডিপি সদস্যের মরদেহ

মাধনগর স্টেশন সড়কের পাশে অসুস্থ বৃদ্ধ, শেষ ভরসা যেন কেউ একজন

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে

Naldanga

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাধনগর স্টেশন সড়কের পাশে অসুস্থ বৃদ্ধ, শেষ ভরসা যেন কেউ একজন

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নলডাঙ্গার মাধনগর স্টেশন রোডের পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পরিবেশ ও সংবাদকর্মী ফজলে রাব্বীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পরে অসুস্থ ব্যক্তিকে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

তবে বিপাকে পড়ে যায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি। ওই ব্যক্তির বাড়ি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায়। সঙ্গে ছিলেন না কোনো স্বজন। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের একটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে এক নারী ফোনটি ধরেন। তিনি জানান, ফোনটি তার ভাইয়ের। তার ভাইয়ের স্ত্রী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তবে দুই ছেলে বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নেননি বলে ওই নারী জানান। বর্তমানে তিনি তাঁর বোনের সঙ্গে থাকেন বলেও জানা যায়।

অসুস্থ ব্যক্তির অবস্থার কথা তার বোনকে জানানো হলে পারিবারিক অসচ্ছলতার কথা জানিয়ে প্রথমে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। পরে অনুরোধ ও বোঝানোর পর তিনি আসার কথা জানান।

হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা মানুষটির পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, জীবনের শেষ সময়ে একজন মানুষের পাশে থাকার মতো আপনজন কি কেউ থাকবে?

যে মানুষটি একদিন নিজের সামর্থ্য ও শ্রম দিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিরই যদি অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে হয়, তাহলে এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?

তবে তার পারিবারিক পরিস্থিতির পুরো বাস্তবতা এখনো জানা যায়নি। স্বজনরা এলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাধনগর স্টেশন সড়কের পাশে অসুস্থ বৃদ্ধ, শেষ ভরসা যেন কেউ একজন

আপডেট সময় : ১১:১৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাধনগর স্টেশন সড়কের পাশে অসুস্থ বৃদ্ধ, শেষ ভরসা যেন কেউ একজন

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নলডাঙ্গার মাধনগর স্টেশন রোডের পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পরিবেশ ও সংবাদকর্মী ফজলে রাব্বীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পরে অসুস্থ ব্যক্তিকে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

তবে বিপাকে পড়ে যায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি। ওই ব্যক্তির বাড়ি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায়। সঙ্গে ছিলেন না কোনো স্বজন। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের একটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে এক নারী ফোনটি ধরেন। তিনি জানান, ফোনটি তার ভাইয়ের। তার ভাইয়ের স্ত্রী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তবে দুই ছেলে বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নেননি বলে ওই নারী জানান। বর্তমানে তিনি তাঁর বোনের সঙ্গে থাকেন বলেও জানা যায়।

অসুস্থ ব্যক্তির অবস্থার কথা তার বোনকে জানানো হলে পারিবারিক অসচ্ছলতার কথা জানিয়ে প্রথমে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। পরে অনুরোধ ও বোঝানোর পর তিনি আসার কথা জানান।

হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা মানুষটির পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, জীবনের শেষ সময়ে একজন মানুষের পাশে থাকার মতো আপনজন কি কেউ থাকবে?

যে মানুষটি একদিন নিজের সামর্থ্য ও শ্রম দিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিরই যদি অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে হয়, তাহলে এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?

তবে তার পারিবারিক পরিস্থিতির পুরো বাস্তবতা এখনো জানা যায়নি। স্বজনরা এলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।