রাণীশংকৈলে কুলিক নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলে কুলিক নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ
নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে লেহেম্বা ইউনিয়নের বিরাশি বাজার কবরস্থানসংলগ্ন কুলিক নদীর এলাকায় নদীর পাড় ও ফসলি জমি কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী মাটি ও প্রতিরোধ বাঁধ কেটে ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের আবাদি জমি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দাবি করেছেন, নিজের জমি সমান করার জন্যই মাটি কাটা হচ্ছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি লেহেম্বা ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আলী। তার দাবি, ওই এলাকায় তার প্রায় ৮ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ কাঠা জমি উঁচু হওয়ায় ভেকু দিয়ে মাটি কেটে জমি সমান করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উত্তোলিত মাটি নিজের জমিতেই ব্যবহার করা হচ্ছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরাশি বাজার থেকে বাগানবাড়ী হয়ে কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় যাওয়ার সড়কের বিভিন্ন অংশে খালখন্দ তৈরি হয়েছে। কবরস্থানের নিচের দিকে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং তার কিছু দূরেই কুলিক নদীর অংশ। নদীর তীরের পাশে একটি ভেকু পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভেকুটির আশপাশে মাটি কাটার চিহ্ন রয়েছে এবং নদীর পাড়ের একটি অংশ কয়েক ফুট গভীর করে কাটা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় মাটি কাটার কাজ বন্ধ থাকলেও রাতে আবার তা শুরু হয়। তাদের আশঙ্কা, এভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি সরানো হলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন তীব্র হতে পারে এবং আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা আরও অভিযোগ করেন, এর আগে প্রশাসনের লোকজন ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে এসে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পরে কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মাটি কাটার বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের জমির মালিকদের মধ্যে ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভেকুর মালিক দেলোয়ার বলেন, ওই এলাকার হাসান ও সাদেকুল তাকে মাটি কাটার কাজের জন্য চুক্তি করেছেন। রাতে মাটি কাটা হয় এবং দিনে কাজ বন্ধ থাকে।
তবে হাসান ও সাদেকুল ইসলাম মাটি কাটার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যার জমি, তিনিই মাটি কাটছেন।
লেহেম্বা ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আলী বলেন, জমি সমান করার জন্য মাটি কাটছি। এতে কারও ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। মাটি বিক্রি করছি না। রাতে মাহেন্দ্র-ট্রাক্টরে করে মাটি সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যাদের চুক্তি দিয়েছি, তারা হয়তো মাঝে মাঝে নিয়ে যান।”
রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতাম না। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকেও উর্বর কৃষিজমি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা পরিবেশ ও পার্শ্ববর্তী জমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।


















