ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৫’

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৫’

বোমা হুমকির পরিস্থিতিতে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া—বেবিচক চেয়ারম্যান: দক্ষতা থাকলে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আয়োজিত পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দরের এপ্রোন এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

প্রধান অতিথি বলেন, বিমানবন্দরের দুর্বলতা শনাক্ত, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন—“সমন্বিত দক্ষতা থাকলে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি খুব দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।”

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৮ অক্টোবরের অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন এভসেক, বিমানবাহিনী টাস্কফোর্স, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, এপিবিএন, পুলিশ ও আনসার—সব বাহিনীর সমন্বিত ও পেশাদার ভূমিকার কারণে বৃহৎ ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

মহড়ায় দেখানো হয়—যশোর বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে বোমা থাকার হুমকি আসে। শাহ মখদুম বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে তথ্য পৌঁছালে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক এসএসএম (Security Management System) সক্রিয় করেন। পরে রিস্ক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (RAG)–এর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা যৌথভাবে জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিচালনা করে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র‍্যাব, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ইসলামী মেডিকেল কলেজসহ আরও কয়েকটি সংস্থা।

অন-সিন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক মোসা. দিলারা পারভীন। চিফ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। উপস্থিত ছিলেন—বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান, সদস্য (অর্থ) মোহাম্মাদ নাজমুল হক, সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক মোসা. দিলারা পারভীন জানান, ICAO Annex–14 ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর এমন মহড়া আয়োজন বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, “রাজশাহীর একমাত্র বিমানবন্দর হিসেবে শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে ইউএস বাংলা ও বাংলাদেশ বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী হুমকি, হাইজ্যাক, বোমা হামলা ও ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করতেই এ মহড়া করা হয়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৫’

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৫’

বোমা হুমকির পরিস্থিতিতে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া—বেবিচক চেয়ারম্যান: দক্ষতা থাকলে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আয়োজিত পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দরের এপ্রোন এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

প্রধান অতিথি বলেন, বিমানবন্দরের দুর্বলতা শনাক্ত, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন—“সমন্বিত দক্ষতা থাকলে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি খুব দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।”

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৮ অক্টোবরের অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন এভসেক, বিমানবাহিনী টাস্কফোর্স, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, এপিবিএন, পুলিশ ও আনসার—সব বাহিনীর সমন্বিত ও পেশাদার ভূমিকার কারণে বৃহৎ ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

মহড়ায় দেখানো হয়—যশোর বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে বোমা থাকার হুমকি আসে। শাহ মখদুম বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে তথ্য পৌঁছালে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক এসএসএম (Security Management System) সক্রিয় করেন। পরে রিস্ক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (RAG)–এর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা যৌথভাবে জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিচালনা করে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র‍্যাব, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ইসলামী মেডিকেল কলেজসহ আরও কয়েকটি সংস্থা।

অন-সিন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক মোসা. দিলারা পারভীন। চিফ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। উপস্থিত ছিলেন—বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান, সদস্য (অর্থ) মোহাম্মাদ নাজমুল হক, সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক মোসা. দিলারা পারভীন জানান, ICAO Annex–14 ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর এমন মহড়া আয়োজন বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, “রাজশাহীর একমাত্র বিমানবন্দর হিসেবে শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে ইউএস বাংলা ও বাংলাদেশ বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী হুমকি, হাইজ্যাক, বোমা হামলা ও ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করতেই এ মহড়া করা হয়।”