ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাদেবপুরে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহাদেবপুরে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

ধান পুড়ে যাওয়ার দাবির ভিডিও ঘিরে বিতর্ক; তদন্তে কৃষি বিভাগ

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক স্বনামধন্য ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভাটা মালিক সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার দাবি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে “বরুণ মজুমদার” নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দাবি করা হয়, ইটভাটা থেকে গ্যাস ছেড়ে দেওয়ার ফলে ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। ভিডিওতে কয়েকজন কৃষক এ অভিযোগ তুললেও সেখানে ধান পুড়ে যাওয়ার কোনো স্পষ্ট দৃশ্য দেখানো হয়নি।

ভাটা মালিক ইব্রাহীম সরকার জানান, তার “মেসার্স সরকার এন্ড সন্স” ইটভাটা একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থাপনা। এর ১৩০ ফুট উঁচু চিমনি দিয়ে ধোঁয়া উপরে উঠে বাতাসে মিশে যায়। “এখান থেকে আলাদা করে গ্যাস ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওতে যেসব কৃষকের বক্তব্য দেখানো হয়েছে, তাদের জমি ভাটা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাংতৈড় মৌজায় অবস্থিত। ভাটার পাশেই তার নিজের ৩৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং ফলন ভালো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভাটা মালিক প্রশ্ন তোলেন, কৃষকরা সরাসরি কোনো অভিযোগ না করলেও কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও প্রচার করা হলো। তিনি এটিকে চাঁদাবাজির একটি কৌশল বলে অভিযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

অন্যদিকে সরেজমিনে রাংতৈড় গ্রামের মাঠে গিয়ে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বললে খাজুর গ্রামের দুলালের ছেলে কাঞ্চন দাবি করেন, ভাটা থেকে দূরে থাকা তার জমিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি ক্ষতির নির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং দূরত্ব সত্ত্বেও কীভাবে ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি।

এদিকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাংতৈড় এলাকার ২৭ জন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে ওই অভিযোগে কার কত জমির ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর স্থানীয় কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মহাদেবপুরে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মহাদেবপুরে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

ধান পুড়ে যাওয়ার দাবির ভিডিও ঘিরে বিতর্ক; তদন্তে কৃষি বিভাগ

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক স্বনামধন্য ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভাটা মালিক সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার দাবি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে “বরুণ মজুমদার” নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দাবি করা হয়, ইটভাটা থেকে গ্যাস ছেড়ে দেওয়ার ফলে ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। ভিডিওতে কয়েকজন কৃষক এ অভিযোগ তুললেও সেখানে ধান পুড়ে যাওয়ার কোনো স্পষ্ট দৃশ্য দেখানো হয়নি।

ভাটা মালিক ইব্রাহীম সরকার জানান, তার “মেসার্স সরকার এন্ড সন্স” ইটভাটা একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থাপনা। এর ১৩০ ফুট উঁচু চিমনি দিয়ে ধোঁয়া উপরে উঠে বাতাসে মিশে যায়। “এখান থেকে আলাদা করে গ্যাস ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওতে যেসব কৃষকের বক্তব্য দেখানো হয়েছে, তাদের জমি ভাটা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাংতৈড় মৌজায় অবস্থিত। ভাটার পাশেই তার নিজের ৩৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং ফলন ভালো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভাটা মালিক প্রশ্ন তোলেন, কৃষকরা সরাসরি কোনো অভিযোগ না করলেও কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও প্রচার করা হলো। তিনি এটিকে চাঁদাবাজির একটি কৌশল বলে অভিযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

অন্যদিকে সরেজমিনে রাংতৈড় গ্রামের মাঠে গিয়ে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বললে খাজুর গ্রামের দুলালের ছেলে কাঞ্চন দাবি করেন, ভাটা থেকে দূরে থাকা তার জমিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি ক্ষতির নির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং দূরত্ব সত্ত্বেও কীভাবে ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি।

এদিকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাংতৈড় এলাকার ২৭ জন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে ওই অভিযোগে কার কত জমির ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর স্থানীয় কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।