ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮৫ একর সম্পত্তি, তবু জরাজীর্ণ মসজিদ; আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে বিএসএফের ফাঁকা গুলি, নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৬৪ রাজশাহীর জুয়েলার্সে বড় চুরিঃ খুলনা-ঢাকায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৮ যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রাখতে রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ রাজশাহী বোর্ডে রাতভর এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, সচিব বললেন জানতেন না ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ, মতামত নিল ইউএনডিপি পঞ্চগড়ে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: র‍্যালি, আলোচনা সভা ও ৪৮ পাউন্ডের কেক শেরপুর সীমান্তে ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ, মতামত নিল ইউএনডিপি

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

Thakungone

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ, মতামত নিল ইউএনডিপি

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
আইনি সহায়তা সেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সেবা পাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

এ সময় লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন, আবেদন থেকে আইনজীবীর সহযোগিতা পাওয়া পর্যন্ত কোনো জটিলতা বা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে কি না এবং সেবার জন্য কোথাও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে সরাসরি তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন ইউএনডিপির সদস্যরা।

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়া প্রায় অর্ধশত মানুষের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান সেবাব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের মতামত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং সেবার অগ্রগতি জানার সুযোগ তৈরি হলে তা কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়েও তাঁদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান পাওয়া শেফালী বেগম বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়ায় আমার অনেক উপকার হয়েছে। আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পরে লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দিলে তারা দুই পক্ষকে ডেকে আপস-মীমাংসা করে দেন। এতে আমার ভাগের ৩৫ শতক জমি আমি বুঝে পেয়েছি।

তিনি বলেন, আগে মনে করতেন আইনি সহায়তা নিতে অনেক টাকা-পয়সা খরচ হবে এবং নানা ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে। কিন্তু লিগ্যাল এইড থেকে সহযোগিতা পাওয়ার পর তার সেই ধারণা বদলে গেছে।

মেরিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে অনেক আগে। শিশু সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছিল। স্বামী কোনোভাবেই ভরণপোষণ দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দিলে এখন সন্তান বাবদ ভরণপোষণ পাচ্ছি।

রমজান আলী, ইসলাম, হুমায়ুন রেজা ও বিপ্লব বলেন, তাঁদের মতো সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। তবে সেবাটি আরও সহজ ও দ্রুত করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে আইনি সহায়তার জন্য বারবার জেলা শহরে আসতে হয়। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে ঘরে বসেই প্রাথমিকভাবে আবেদন করা, প্রয়োজনীয় তথ্য জানা এবং আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া সম্ভব হবে। এতে মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে।

ইউএনডিপির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও সাথী আক্তার বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড সেবা কতটা সহজ ও কার্যকর হয়েছে, তা জানতে প্রায় অর্ধশত সেবা পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হচ্ছে। সেবা নিতে গিয়ে কেউ জটিলতা, হয়রানি বা আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন কি না, সেসব বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হচ্ছে।

তারা বলেন, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সেবা পরিকল্পনা করা হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সহজে আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দ্রুত পান, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইউএনডিপির সদস্যরা আরও বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে মানুষের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি লিগ্যাল এইড সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো সম্ভব হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, লিগ্যাল এইডের মূল উদ্দেশ্য হলো অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের কাছে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই লিগ্যাল এইডের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আলোচনায় সাধারণ মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে সেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।

মজনু মিয়া আরও বলেন, বর্তমানে মানুষ সরাসরি লিগ্যাল এইড অফিসে এসেও সহজেই সেবা পাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে দূরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরে বসে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সেবার পরিধিও আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ, মতামত নিল ইউএনডিপি

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ, মতামত নিল ইউএনডিপি

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
আইনি সহায়তা সেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সেবা পাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

এ সময় লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন, আবেদন থেকে আইনজীবীর সহযোগিতা পাওয়া পর্যন্ত কোনো জটিলতা বা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে কি না এবং সেবার জন্য কোথাও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে সরাসরি তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন ইউএনডিপির সদস্যরা।

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়া প্রায় অর্ধশত মানুষের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান সেবাব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের মতামত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং সেবার অগ্রগতি জানার সুযোগ তৈরি হলে তা কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়েও তাঁদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান পাওয়া শেফালী বেগম বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়ায় আমার অনেক উপকার হয়েছে। আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পরে লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দিলে তারা দুই পক্ষকে ডেকে আপস-মীমাংসা করে দেন। এতে আমার ভাগের ৩৫ শতক জমি আমি বুঝে পেয়েছি।

তিনি বলেন, আগে মনে করতেন আইনি সহায়তা নিতে অনেক টাকা-পয়সা খরচ হবে এবং নানা ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে। কিন্তু লিগ্যাল এইড থেকে সহযোগিতা পাওয়ার পর তার সেই ধারণা বদলে গেছে।

মেরিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে অনেক আগে। শিশু সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছিল। স্বামী কোনোভাবেই ভরণপোষণ দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দিলে এখন সন্তান বাবদ ভরণপোষণ পাচ্ছি।

রমজান আলী, ইসলাম, হুমায়ুন রেজা ও বিপ্লব বলেন, তাঁদের মতো সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। তবে সেবাটি আরও সহজ ও দ্রুত করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে আইনি সহায়তার জন্য বারবার জেলা শহরে আসতে হয়। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে ঘরে বসেই প্রাথমিকভাবে আবেদন করা, প্রয়োজনীয় তথ্য জানা এবং আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া সম্ভব হবে। এতে মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে।

ইউএনডিপির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও সাথী আক্তার বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড সেবা কতটা সহজ ও কার্যকর হয়েছে, তা জানতে প্রায় অর্ধশত সেবা পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হচ্ছে। সেবা নিতে গিয়ে কেউ জটিলতা, হয়রানি বা আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন কি না, সেসব বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হচ্ছে।

তারা বলেন, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সেবা পরিকল্পনা করা হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সহজে আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দ্রুত পান, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইউএনডিপির সদস্যরা আরও বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে মানুষের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি লিগ্যাল এইড সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো সম্ভব হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, লিগ্যাল এইডের মূল উদ্দেশ্য হলো অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের কাছে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই লিগ্যাল এইডের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আলোচনায় সাধারণ মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে সেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।

মজনু মিয়া আরও বলেন, বর্তমানে মানুষ সরাসরি লিগ্যাল এইড অফিসে এসেও সহজেই সেবা পাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে দূরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরে বসে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সেবার পরিধিও আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।