বাগাতিপাড়ায় অসহায় শাহাদাতের পরিবারের পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় অসহায় শাহাদাতের পরিবারের পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রতারণার শিকার হয়ে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত ভ্যান হারানো কিশোর শাহাদাত ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক।
বুধবার (২২ জুলাই) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে শাহাদাতের পরিবারের জন্য চাল, ডাল, তেল, চিনি ও লবণসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যসামগ্রীর একটি প্যাকেট প্রদান করা হয়। এ সময় ইউএনও দেবাশীষ বসাক পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, পিতৃহারা ১৩ বছর বয়সী শাহাদাত দীর্ঘদিন ধরে মা ও ছোট ভাইয়ের সংসারের হাল ধরতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে তার আয়েই চলছিল সংসার এবং একটি এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের মাসিক কিস্তিও পরিশোধ করা হচ্ছিল।
শাহাদাতের বাবা সবুজ হোসেনের বাড়ি বরিশালে। প্রায় পাঁচ বছর আগে ঢাকায় পাইপমিস্ত্রীর কাজ করার সময় একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে শাহাদাত তার মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা শালাইনগর গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করছে। আর্থিক সংকটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক বছর আগে একটি এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৮০ হাজার টাকায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি কেনা হয়েছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে মালঞ্চি এলাকা থেকে দুই ব্যক্তি যাত্রীবেশে ৭০০ টাকা ভাড়ায় বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় যান। পরে বনপাড়া গীর্জা রোড এলাকায় একজন ভ্যানে বসে থাকেন এবং অন্যজন শাহাদাতকে সঙ্গে নিয়ে একটি গলি থেকে কার্টন আনার কথা বলে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শাহাদাতকে ভ্যানটি সেখানে নিয়ে যেতে বলা হলে সে ফিরে এসে দেখে ভ্যানটি এবং তাতে বসে থাকা ব্যক্তি—কেউই নেই। পরে কার্টন আনার কথা বলা ব্যক্তিকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এভাবেই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে হারিয়ে যায় তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের সম্বল।
ভ্যান হারিয়ে অসহায় শাহাদাত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান পাননি। পরে খবর পেয়ে বনপাড়ায় ছুটে আসেন শাহাদাতের মা জোসনা খাতুন।
উপজেলা প্রশাসনের এ মানবিক সহায়তায় পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পেলেও তাদের দাবি, পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানটি উদ্ধার হলে তবেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে তারা।


















