ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেঁতুলিয়ায় শিক্ষকদের নিয়ে ‘পাঠ্যক্রমভিত্তিক নাট্যভাবনা’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেরপুর সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস আটক নলডাঙ্গায় বিষধর সাপের কামড়ে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় কয়েলের আগুনে পুড়ে দুই ষাঁড়ের মৃত্যু, ক্ষতি ৩ লাখ টাকা রাণীশংকৈলে নারী ফুটবলারদের জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার উপহার রাণীশংকৈলে ইএসডিওর বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, অসহায় মানুষের চোখে ফিরছে আলো দেবীগঞ্জে গৃহবধূকে অ/মানবিক নি র্যা ত নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ পঞ্চগড়ে সীমান্তে নবনির্মিত বিওপির কার্যক্রম উদ্বোধন মান্দার প্রসাদপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, তিন মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা মহাদেবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাপাহারের সেনাসদস্য নিহত

মোহনপুরে শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে, প্লাবনের শঙ্কায় বিস্তীর্ণ জনপদ

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

Mohonpur road news

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহনপুরে শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে, প্লাবনের শঙ্কায় বিস্তীর্ণ জনপদ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পশ্চিম সীমান্তে শিব নদীর ওপর নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণে বাঁধের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে শিব নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ফলে প্রতিবছর বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মোহনপুর ও পাশের উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অকাল বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে কৃষকের ফসল ও মাছের খামারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাংহাটি, মেলান্দী ও বেলনাসহ কয়েকটি এলাকায় বাঁধের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে একটি সাবেক ইউপি সদস্যের দোকান ও একটি বসতবাড়ির কথাও উল্লেখ করেন তারা। তাদের দাবি, এসব অবৈধ স্থাপনার কারণেও বাঁধের ঝুঁকি বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের, আব্দুল লতিফ ও আশরাফ আলী জানান, কয়েকদিন ধরে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে বেলনা, মেলান্দী, গোছা, দেওপুর, ঘাসিগ্রাম, শ্যামপুর, ভীমনগর ও পালশাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। তাই দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান তারা।

সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে বেলনা থেকে ভীমনগর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেলনা, তুলসিক্ষেত্র ও স্লুইসগেট এলাকায় ইতোমধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি টাকার ফসল ও মাছের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

গত সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল মালেক মণ্ডল। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বাঁধের জরুরি সংস্কারের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, “আবদুল মালেক মণ্ডল নামে একজন লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য লোক পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোহনপুরে শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে, প্লাবনের শঙ্কায় বিস্তীর্ণ জনপদ

আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মোহনপুরে শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে, প্লাবনের শঙ্কায় বিস্তীর্ণ জনপদ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পশ্চিম সীমান্তে শিব নদীর ওপর নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণে বাঁধের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে শিব নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ফলে প্রতিবছর বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মোহনপুর ও পাশের উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অকাল বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে কৃষকের ফসল ও মাছের খামারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাংহাটি, মেলান্দী ও বেলনাসহ কয়েকটি এলাকায় বাঁধের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে একটি সাবেক ইউপি সদস্যের দোকান ও একটি বসতবাড়ির কথাও উল্লেখ করেন তারা। তাদের দাবি, এসব অবৈধ স্থাপনার কারণেও বাঁধের ঝুঁকি বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের, আব্দুল লতিফ ও আশরাফ আলী জানান, কয়েকদিন ধরে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে বেলনা, মেলান্দী, গোছা, দেওপুর, ঘাসিগ্রাম, শ্যামপুর, ভীমনগর ও পালশাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। তাই দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান তারা।

সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে বেলনা থেকে ভীমনগর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেলনা, তুলসিক্ষেত্র ও স্লুইসগেট এলাকায় ইতোমধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি টাকার ফসল ও মাছের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

গত সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল মালেক মণ্ডল। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বাঁধের জরুরি সংস্কারের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, “আবদুল মালেক মণ্ডল নামে একজন লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য লোক পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”