ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে পিস্তল ঠেকিয়ে ও কুপিয়ে এরিয়া ম্যানেজারের টাকা ছিনতাই সিংড়ায় স্বামীর থাপ্পড়ে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম আর নেই! চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের সিদ্ধান্ত রাণীশংকৈলে পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ ভারতে মুসলিম নিপীড়নের অভিযোগে পঞ্চগড়ে জাগপার বিক্ষোভ প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা লেবেল নিয়ে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু শিবগঞ্জ সীমান্তে ৩৫ তরুণকে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিজিবি শেরপুরে ধ/র্ষণ মামলার প্রধান আসামিসহ দুই পলাতক গ্রেপ্তার দিনাজপুরে পূর্ণভবা নদীতে নৌকা ডুবে কৃষকের মৃত্যু

ঈদুল আজহা সামনে: রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদুল আজহা সামনে: রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু

চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার বেশি পশু; গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দামের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি থাকায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে স্বস্তি থাকলেও গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পশুর দামে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাজশাহীতে কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। সে হিসেবে অতিরিক্ত পশু রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। প্রতি বছরই কিছু পশু উদ্বৃত্ত থাকে এবং তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি জানান, জেলায় এবার মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৩ হাজার ৪২৫টি, ছাগল ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে পশুর বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য ঘাস, ভুট্টা, খৈল ও ভুসিসহ পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার খামারি আবদুল কাদের বলেন, “আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করেছি। খরচ বেড়েছে, তাই বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।”

একইভাবে বাপ্পি ইসলাম জানান, “ছয় মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করে পশু পালন করছি। গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।”

মোহনপুর উপজেলার খামারি মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “প্রতি বছর গরু পালন করি। এবারও ৬টি ষাঁড় গরু রয়েছে। তবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসান হবে।”

একই উপজেলার সেলিনা বেগম বলেন, “ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকে। তাই গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছি।”

দুর্গাপুর উপজেলার খামারি রাফিউল বলেন, “দেশীয় গরুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভারতীয় গরু যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এদিকে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট ‘সিটি হাট’-এ সপ্তাহে দুইদিন—রোববার ও বুধবার হাট বসে। কোরবানির হাট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী সপ্তাহ থেকে হাটে ব্যাপক বেচাকেনা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান কর্মসূচি ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ফলে সুস্থ ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবারও চাহিদার তুলনায় বেশি পশু রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। ভারতীয় গরু না এলে খামারিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।”

May 2, 2026
ঈদুল আজহা সামনে: রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈদুল আজহা সামনে: রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু

আপডেট সময় : ১১:৫১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা সামনে: রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু

চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার বেশি পশু; গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দামের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি থাকায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে স্বস্তি থাকলেও গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পশুর দামে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাজশাহীতে কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। সে হিসেবে অতিরিক্ত পশু রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। প্রতি বছরই কিছু পশু উদ্বৃত্ত থাকে এবং তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি জানান, জেলায় এবার মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৩ হাজার ৪২৫টি, ছাগল ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে পশুর বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য ঘাস, ভুট্টা, খৈল ও ভুসিসহ পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার খামারি আবদুল কাদের বলেন, “আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করেছি। খরচ বেড়েছে, তাই বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।”

একইভাবে বাপ্পি ইসলাম জানান, “ছয় মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করে পশু পালন করছি। গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।”

মোহনপুর উপজেলার খামারি মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “প্রতি বছর গরু পালন করি। এবারও ৬টি ষাঁড় গরু রয়েছে। তবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসান হবে।”

একই উপজেলার সেলিনা বেগম বলেন, “ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকে। তাই গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছি।”

দুর্গাপুর উপজেলার খামারি রাফিউল বলেন, “দেশীয় গরুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভারতীয় গরু যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এদিকে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট ‘সিটি হাট’-এ সপ্তাহে দুইদিন—রোববার ও বুধবার হাট বসে। কোরবানির হাট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী সপ্তাহ থেকে হাটে ব্যাপক বেচাকেনা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান কর্মসূচি ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ফলে সুস্থ ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবারও চাহিদার তুলনায় বেশি পশু রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। ভারতীয় গরু না এলে খামারিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।”

May 2, 2026
ঈদুল আজহা সামনে: রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement