প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা লেবেল নিয়ে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা লেবেল নিয়ে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি এবং এ-সংক্রান্ত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগকে সহায়তা করাই এ প্রচারণার লক্ষ্য।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। যৌথভাবে এর আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, কোয়ালিশন ফর হেলদি ফুড এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ)।
আয়োজকেরা জানান, বাংলাদেশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ক্রমবর্ধমান বোঝার প্রেক্ষাপটে এ প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস এসব রোগের মধ্যে অন্যতম।
এছাড়া, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার হারও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে কি না, তা সহজে শনাক্ত করতে পারবেন ভোক্তারা। বিশেষ করে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বুঝতে এবং সচেতনভাবে খাবার বেছে নিতে সহায়তা করতে পারে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের লেবেলিং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্যপরিবেশ উন্নয়ন ও খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রচারণার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা (এফওপিএল) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।”
আয়োজকেরা জানান, দুই মাসব্যাপী এ প্রচারণায় ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব উপকরণ প্রচার করা হবে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হবে।
সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়তে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি সম্পর্কে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশে এফওপিএল-সংক্রান্ত প্রবিধানমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সিএলপিএর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।






















