ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান রাজশাহীতে অনুমোদনহীন বিদেশি চকলেট-লজেন্স বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বাগাতিপাড়ায় হত্যা-ডাকাতি মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন, একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে পবা হাইওয়ে থানা-সওজের যৌথ অভিযান সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাউয়েটে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন বাগাতিপাড়ায় অসহায় শাহাদাতের পরিবারের পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাগাতিপাড়ায় টিভির প্লাগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু লালপুরে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, থানায় মামলা ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন পঞ্চগড় হাসপাতালের বেডে শি/শুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগীকে গ্রেপ্তার

১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও তালিকা স্থগিত, নতুন করে যাচাই-বাছাই

নিউজ ডেস্ক"
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২১৭ বার পড়া হয়েছে

Collected pic

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও তালিকা স্থগিত, নতুন করে যাচাই-বাছাই

পুরোনো-নতুন আবেদন একত্রে মূল্যায়ন; ২০২৬-২৭ বাজেট সাপেক্ষে চূড়ান্ত তালিকা, অনিয়মের অভিযোগে কড়াকড়ি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চূড়ান্ত করা ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির তালিকা স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার। তালিকাটি বাতিল না করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং পুরোনো ও নতুন আবেদন একত্রে পুনর্মূল্যায়ন করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগের তালিকাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। তবে নতুন আবেদনগুলোর সঙ্গে একত্রে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের তালিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং শিক্ষকপ্রতি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই অঙ্ক অর্ধকোটি টাকারও বেশি বলে তথ্য মিলেছে।

মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন যাচাই-বাছাই করতে মাত্র আট কর্মদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গড়ে প্রতিদিন ৪৫২টি প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, এত অল্প সময়ে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নজিরবিহীন এবং এতে অনেক শিক্ষার্থীশূন্য বা দুর্বল অবকাঠামোর প্রতিষ্ঠানও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এদিকে বেসরকারি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দীর্ঘদিনের দাবিও আপাতত স্থগিত রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও বর্তমান সরকার নতুন তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী অর্থবছরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন হলে প্রথম ধাপে সরকারের ব্যয় হতো প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা, যদিও সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

নতুন সিদ্ধান্তে এমপিও তালিকায় নাম ওঠা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন ছাড়া পাঠদান করা অনেক শিক্ষক দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণে আর দেরি না করে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

তথ্য সূত্র: সমকাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও তালিকা স্থগিত, নতুন করে যাচাই-বাছাই

আপডেট সময় : ০৯:১৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও তালিকা স্থগিত, নতুন করে যাচাই-বাছাই

পুরোনো-নতুন আবেদন একত্রে মূল্যায়ন; ২০২৬-২৭ বাজেট সাপেক্ষে চূড়ান্ত তালিকা, অনিয়মের অভিযোগে কড়াকড়ি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চূড়ান্ত করা ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির তালিকা স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার। তালিকাটি বাতিল না করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং পুরোনো ও নতুন আবেদন একত্রে পুনর্মূল্যায়ন করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগের তালিকাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। তবে নতুন আবেদনগুলোর সঙ্গে একত্রে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের তালিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং শিক্ষকপ্রতি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই অঙ্ক অর্ধকোটি টাকারও বেশি বলে তথ্য মিলেছে।

মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন যাচাই-বাছাই করতে মাত্র আট কর্মদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গড়ে প্রতিদিন ৪৫২টি প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, এত অল্প সময়ে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নজিরবিহীন এবং এতে অনেক শিক্ষার্থীশূন্য বা দুর্বল অবকাঠামোর প্রতিষ্ঠানও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এদিকে বেসরকারি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দীর্ঘদিনের দাবিও আপাতত স্থগিত রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও বর্তমান সরকার নতুন তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী অর্থবছরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন হলে প্রথম ধাপে সরকারের ব্যয় হতো প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা, যদিও সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

নতুন সিদ্ধান্তে এমপিও তালিকায় নাম ওঠা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন ছাড়া পাঠদান করা অনেক শিক্ষক দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণে আর দেরি না করে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

তথ্য সূত্র: সমকাল।