ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সিংড়ায় নিখোঁজ পল্লী চিকিৎসক ৪ দিন পর হাত-পা বাঁ’ধা অবস্থায় উদ্ধার

নাটোর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৪০ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিংড়ায় নিখোঁজ পল্লী চিকিৎসক ৪ দিন পর হাত-পা বাঁ’ধা অবস্থায় উদ্ধার

নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন; ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে উদ্বেগ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর পল্লী চিকিৎসক বিনোদ কুমার (৪০) জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ধুলিয়াডাঙ্গা বিলের একটি পুকুরপাড় থেকে তাকে হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ ইউনিয়নের শালিখা মণ্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিনোদ কুমার পাশের গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজারে নিজস্ব ফার্মেসিতে চিকিৎসা সেবা দিতেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে স্ত্রীকে ফোন করে তিনি আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “ছেলে-মেয়েদের দেখে রাখিও, আমার ইচ্ছা থাকলেও আমি বাড়িতে যাইতে পারিতেছি না।” এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সিংড়া থানাধীন শালিখা শ্মশানের পশ্চিম পাশে একটি বাঁশঝাড় থেকে তার ব্যবহৃত ওষুধের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের চারদিন পর বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় কৃষকরা ধুলিয়াডাঙ্গা বিলসংলগ্ন একটি পুকুরপাড়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকা ও মানসিক চাপের কারণে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করে আসছিল। উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তিনি এখনো ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিংড়ায় নিখোঁজ পল্লী চিকিৎসক ৪ দিন পর হাত-পা বাঁ’ধা অবস্থায় উদ্ধার

আপডেট সময় : ০১:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিংড়ায় নিখোঁজ পল্লী চিকিৎসক ৪ দিন পর হাত-পা বাঁ’ধা অবস্থায় উদ্ধার

নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন; ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে উদ্বেগ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর পল্লী চিকিৎসক বিনোদ কুমার (৪০) জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ধুলিয়াডাঙ্গা বিলের একটি পুকুরপাড় থেকে তাকে হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ ইউনিয়নের শালিখা মণ্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিনোদ কুমার পাশের গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজারে নিজস্ব ফার্মেসিতে চিকিৎসা সেবা দিতেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে স্ত্রীকে ফোন করে তিনি আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “ছেলে-মেয়েদের দেখে রাখিও, আমার ইচ্ছা থাকলেও আমি বাড়িতে যাইতে পারিতেছি না।” এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সিংড়া থানাধীন শালিখা শ্মশানের পশ্চিম পাশে একটি বাঁশঝাড় থেকে তার ব্যবহৃত ওষুধের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের চারদিন পর বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় কৃষকরা ধুলিয়াডাঙ্গা বিলসংলগ্ন একটি পুকুরপাড়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকা ও মানসিক চাপের কারণে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করে আসছিল। উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তিনি এখনো ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।