বাগাতিপাড়ায় চুলার আগুনে কৃষকের ৬ ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫-৭ লাখ টাকা
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় চুলার আগুনে কৃষকের ৬ ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫-৭ লাখ টাকা
ফজলুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চুলার আগুনে আব্দুর রশীদ নামের এক কৃষকের ছয়টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা নগদ টাকা, ধান, রসুন, চাল, পোশাক, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে বাগাতিপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মুরাদপুর মহল্লায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রশীদ ওই এলাকার মৃত চাঁদ মোল্লার ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রশীদ ও তার স্ত্রী জানান, তারা দুজনই নিয়মিত অন্যের বাড়ি ও জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে রশীদ কৃষিকাজের জন্য পাশের একটি ক্ষেতে যান। তার স্ত্রীও অন্যের বাড়িতে কাজে যাওয়ার আগে স্বামীর জন্য রান্না করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পর দূর থেকে নিজের বাড়িতে আগুন দেখতে পান রশীদ। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দেখেন, ততক্ষণে আগুন ছয়টি ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরগুলোতে থাকা নগদ টাকা, ধান, রসুন, চাল, প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে।
রশীদের ছেলে সুমন জানান, তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে একটি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় পাশের বাড়ির ভাবি আগুন লাগার কথা জানিয়ে ডাকাডাকি করলে তিনি স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সুমন আরও জানান, তাদের ঘরে রাখা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আগুনে পুড়ে গেছে। সবমিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে রান্না শেষে চুলার অবশিষ্ট জ্বালানি কাঠে সামান্য পানি দিয়ে চুলার পাশে থাকা খড়ির ঘরে রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দয়ারামপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ফজলুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডে কৃষক আব্দুর রশীদের পরিবারটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।



















