ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রাখতে রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ রাজশাহী বোর্ডে রাতভর এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, সচিব বললেন জানতেন না ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ, মতামত নিল ইউএনডিপি পঞ্চগড়ে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: র‍্যালি, আলোচনা সভা ও ৪৮ পাউন্ডের কেক শেরপুর সীমান্তে ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবন, চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু গোদাগাড়ীতে ডিলারের গুদামে ৮১৭ বস্তা সার, এক মাসের কারাদণ্ড দুপচাঁচিয়ায় বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা ১৫ বছর ধরে অসুস্থ জুঁই, থেমে গেছে স্কুলে যাওয়া; চিকিৎসার জন্য আকুতি বগুড়ায় মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোর সুগার মিলকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ, আখ চলে যাওয়ার পেছনে ভিন্ন বাস্তবতা

নাটোর অফিসঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৪২ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোর সুগার মিলকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ, আখ চলে যাওয়ার পেছনে ভিন্ন বাস্তবতা

নাটোর সুগার মিলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন নাটোর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ, আখচাষী, ক্রয় কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা ও পরিবহন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল থেকে নাটোর সুগার মিল এলাকায় আখ পাচার বা দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ আখ সংগ্রহের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

সরেজমিনে অনুসন্ধান ও আখচাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাটোর সুগার মিল চালু হওয়ার প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল চালু হওয়ায় ওই সময়টাতে নাটোর সুগার মিল এলাকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আখ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে সরবরাহ করা হয়। এর মূল কারণ ছিল—নাটোর সুগার মিল দেরিতে চালু হওয়া এবং আখচাষীদের রবি শস্য চাষের প্রস্তুতি।

একাধিক আখচাষী জানান, মিল দেরিতে চালু হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মাধ্যমে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আখ দেন। একই সঙ্গে লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর এলাকার অবৈধ আখ মাড়াই কল মালিক জনৈক জামালসহ কয়েকজনের কাছে নগদ টাকায় আখ বিক্রি করেন তারা।

নাটোর সুগার মিলের অধিভুক্ত বাগাতিপাড়া উপজেলার জয়ন্তীপুর, বাটিকামারী, মুরাদপুর, টুনীপাড়া, ফাগুয়ারদিয়াড়, যোগীপাড়া, কোয়ালীপাড়া, বড়পুকুরিয়া, তমালতলা ও মালঞ্চি এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, এখনো প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে আখ দণ্ডায়মান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আখচাষী জানান, ওই আখগুলোর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ মাড়াই কলে বিক্রি হয়ে গেছে এবং কিছু আখের দরদাম চলছে। নাটোর সুগার মিল বন্ধ হলেই এসব আখ কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে মাড়াই কল মালিকদের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কারণেই নাটোর সুগার মিলের নির্ধারিত আখ সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অথচ এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে মিল কর্তৃপক্ষকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাটোর সুগার মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রের আখচাষী ও পরিবহন শ্রমিকরা এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল এলাকায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল এলাকায় বেশকিছু শ্যালো শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ মাড়াই চললেও সেগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যার্থ হয়ে রাজশাহীর হরিয়ান সুগার মিল এবং নাটোর সুগার মিলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। “নাটোর সুগার মিলের বিরুদ্ধে আখ পাচার ও দালালচক্রের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তারা আরও বলেন, প্রকৃত সমস্যার জায়গা হলো—মিল দেরিতে চালু হওয়া এবং অবৈধ আখ মাড়াই কলের দৌরাত্ম্য। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আখচাষী ও মিল—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নাটোর সুগার মিলকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ, আখ চলে যাওয়ার পেছনে ভিন্ন বাস্তবতা

আপডেট সময় : ১২:০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নাটোর সুগার মিলকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ, আখ চলে যাওয়ার পেছনে ভিন্ন বাস্তবতা

নাটোর সুগার মিলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন নাটোর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ, আখচাষী, ক্রয় কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা ও পরিবহন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল থেকে নাটোর সুগার মিল এলাকায় আখ পাচার বা দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ আখ সংগ্রহের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

সরেজমিনে অনুসন্ধান ও আখচাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাটোর সুগার মিল চালু হওয়ার প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল চালু হওয়ায় ওই সময়টাতে নাটোর সুগার মিল এলাকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আখ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে সরবরাহ করা হয়। এর মূল কারণ ছিল—নাটোর সুগার মিল দেরিতে চালু হওয়া এবং আখচাষীদের রবি শস্য চাষের প্রস্তুতি।

একাধিক আখচাষী জানান, মিল দেরিতে চালু হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মাধ্যমে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আখ দেন। একই সঙ্গে লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর এলাকার অবৈধ আখ মাড়াই কল মালিক জনৈক জামালসহ কয়েকজনের কাছে নগদ টাকায় আখ বিক্রি করেন তারা।

নাটোর সুগার মিলের অধিভুক্ত বাগাতিপাড়া উপজেলার জয়ন্তীপুর, বাটিকামারী, মুরাদপুর, টুনীপাড়া, ফাগুয়ারদিয়াড়, যোগীপাড়া, কোয়ালীপাড়া, বড়পুকুরিয়া, তমালতলা ও মালঞ্চি এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, এখনো প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে আখ দণ্ডায়মান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আখচাষী জানান, ওই আখগুলোর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ মাড়াই কলে বিক্রি হয়ে গেছে এবং কিছু আখের দরদাম চলছে। নাটোর সুগার মিল বন্ধ হলেই এসব আখ কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে মাড়াই কল মালিকদের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কারণেই নাটোর সুগার মিলের নির্ধারিত আখ সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অথচ এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে মিল কর্তৃপক্ষকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাটোর সুগার মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রের আখচাষী ও পরিবহন শ্রমিকরা এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল এলাকায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল এলাকায় বেশকিছু শ্যালো শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ মাড়াই চললেও সেগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যার্থ হয়ে রাজশাহীর হরিয়ান সুগার মিল এবং নাটোর সুগার মিলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। “নাটোর সুগার মিলের বিরুদ্ধে আখ পাচার ও দালালচক্রের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তারা আরও বলেন, প্রকৃত সমস্যার জায়গা হলো—মিল দেরিতে চালু হওয়া এবং অবৈধ আখ মাড়াই কলের দৌরাত্ম্য। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আখচাষী ও মিল—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।