রাজশাহীতে বিয়ের চার দিনের মাথায় চলন্ত বাস থেকে ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু- নববধূর মেহেদী শুকানোর আগেই ঘরে নেমে এলো শোক
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৬৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে বিয়ের চার দিনের মাথায় চলন্ত বাস থেকে ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু- নববধূর মেহেদী শুকানোর আগেই ঘরে নেমে এলো শোক
চলন্ত বাস থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ, কাশিয়াডাঙ্গায় হত্যা মামলা- পলাতক চালক–হেলপার
রাজশাহীতে বিয়ের মাত্র চার দিনের মাথায় চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে আলাউদ্দিন ইসলাম টগর (৩৫) হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাসের স্টাফদের বিরুদ্ধে। নিহতের ভাই দুলাল হোসেন বাদী হয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। আকস্মিক মৃত্যুর শোক মানতে পারছেন না পরিবারের কেউই।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রামের বাড়িতে টগরের জানাজা ও দাফনের সময় সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
মরদেহ বহনের খাটলির সামনে স্বজনদের সহায়তায় আসেন নববধূ ইলমা খাতুন। টগরের ভাই তাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন- “তুমি টগরকে মাফ করে দাও… মাফ করে দিলা টগরকে?” এই কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইলমা। স্বজনরাও আবেগে ভেঙে পড়েন।
নিহত টগর পবা উপজেলার হরিপুরের কুলপাড়ার আবু সাইদের ছেলে ও পেশায় কৃষিকাজ করতেন। মাত্র ৪ দিন আগে, ২৬ নভেম্বর, দারুশার তেতলাডাঙ্গার ইলমা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লিলিহলের বাঁশের আড্ডা এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বাসে বোন রুমিকে তুলে দিতে যান টগর।
হেলপার জানান- সিট আছে। কিন্তু বাসে উঠে টগর ও তার বোন দেখেন সিট নেই। এ নিয়ে হেলপার ও সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্ক হয়।
পরিবারের দাবি- চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় টগরকে, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরদিন সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
কুলপাড়ায় টগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মরদেহের পাশে বাবা আবু সাইদ, মা, ভাইবোনসহ সবাই আহাজারি করছেন। কিছুক্ষণ পর শান্তিনগর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, টগর সবার প্রিয় মানুষ ছিলেন, তার মৃত্যু সবাইকে ব্যথিত করেছে।
বন্ধু সাইদুর রহমান বলেন, “টগর খুব ভালো ছেলে ছিল, বিয়ের রাতে বউকে এনে দেখিয়েছিল। ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে।”
স্থানীয় জয়া বেগম বলেন, “মেয়েটার হাতের মেহেদী এখনো শুকায়নি… তার আগেই বিধবা হয়ে গেল।”
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি দাবি করেন, টগর নাকি হেলপারকে মারেন, পরে বাস থেকে লাফ দিয়ে নামেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, “এমন ঘটনা কারও কাম্য নয়, দুঃখজনক।”
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি আজিজুল বারী জানান, নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাস জব্দ করা হয়েছে। বাসের চালক ও হেলপার পলাতক, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।























