বোদায় জমি নিয়ে বিরোধ, ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে জবরদখল ও হয়রানির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

বোদায় জমি নিয়ে বিরোধ, ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে জবরদখল ও হয়রানির অভিযোগ
বড় ভাই ও দুলাভাইয়ের দাবি, জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি ও ১৪টি মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতাঃ
পঞ্চগড়ের বোদায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই মো. আবু জাফরের বিরুদ্ধে বড় ভাই জমির হোসেন (৩৩) ও দুলাভাই মো. আমজাদ হোসেনকে (৬৪) হয়রানি, জমি জবরদখল, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ১৪টি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনাটি উপজেলার ৪ নম্বর কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোতোলডাঙ্গা গ্রামের। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুল হামিদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছোট ছেলে আবু জাফর বাবার কাছ থেকে ২ একর ৭ শতক জমি দলিল করে নেন, যদিও তার প্রাপ্য জমির পরিমাণ ছিল ১ একর ১৯ শতক বলে দাবি করেছেন জমির হোসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আবদুল হামিদ তার তিন মেয়ে শিরিনা, রাবেয়া ও শুমিকে ৪৫ শতক করে এবং মেজ ছেলে জমির হোসেনকে ১ একর ১৯ শতক জমি একই দিনে ৭৯০ নম্বর দলিলে রেজিস্ট্রি করে দেন বলে ভুক্তভোগী পক্ষ জানিয়েছে।
এছাড়া আবদুল হামিদের বড় ছেলে মৃত মো. জাকারিয়ার তিন মেয়ে জান্নাতি, জুই ও জুথিকে ৪২ শতক করে জমি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। জাকারিয়ার স্ত্রী সাহেরা বেগমকেও ১৬ দশমিক ৫০ শতক জমি দেওয়া হয় বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, পরে আবদুল হামিদের স্ত্রী হামিদা বেগমের কাছ থেকে জমির হোসেন ১৬ দশমিক ৫০ শতক জমি ৩০৩ নম্বর দলিলে বৈধভাবে কেনেন। একই দলিলের সূত্রে আবু জাফরও ১৬ দশমিক ৫০ শতক জমি ৩০৪ নম্বর দলিলে কেনেন বলে তাদের দাবি। তবে জমির হোসেনের অভিযোগ, তার কেনা জমিতে রাতের আঁধারে সুপারি গাছ লাগিয়ে জোরপূর্বক দখল নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জমির হোসেনের মা জামিলা বেগম স্থানীয় আবদুল ছামাদের কাছ থেকে ২ বিঘা জমি কেনেন। সেই জমিও আবু জাফর এককভাবে দখল করে ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
অন্যদিকে, জমির হোসেন ও আবু জাফরের দুলাভাই মো. আমজাদ হোসেন তাদের দুই বোন রাবেয়া ও শুমির কাছ থেকে ৫৭ শতক জমি কেনেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩০ শতক জমির দখল দেওয়া হলেও বাকি ২৭ শতক জমি দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ৮৭৩ নম্বর দাগে থাকা রেকর্ডীয় ২৭ শতক জমিতে তাঁদের যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
তাদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব খাটিয়ে কেনা জমি ভোগদখলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জমির দখল নিতে গেলে হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগও করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং মামলা-মোকদ্দমার কারণে তারা আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন।
এ অবস্থায় পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির দখল এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জমির হোসেন ও মো. আমজাদ হোসেন।






















