গোদাগাড়ীর খেতুরীধামে তিন দিনব্যাপী মহোৎসব শুরু, ভক্তদের ঢল
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ীর খেতুরীধামে তিন দিনব্যাপী মহোৎসব শুরু, ভক্তদের ঢল
ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব ঘিরে প্রেমতলীতে দেশ-বিদেশের ভক্তদের সমাগম, নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর প্রেমতলীর ঐতিহাসিক খেতুরীধামে শুরু হয়েছে সনাতন বৈষ্ণব ধর্মের মহান সাধক ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব। তিন দিনব্যাপী এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের ভক্ত, সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পদ্মাপাড়ের খেতুরীধাম। উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রথম দিনে ঠাকুর নরোত্তম দাস রচিত ভজন-কীর্তন, সন্ধ্যা আরতি, দামোদর আরতি, নরোত্তম চরিতকথা ও অধিবাস কীর্তনের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনে ভোর থেকে মঙ্গল আরতি, হরিনাম সংকীর্তন, খেতুরীধাম পরিক্রমা, দর্শন আরতি ও শ্রীল প্রভুপাদের গুরুপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অষ্টপ্রহর কীর্তন ও প্রসাদ গ্রহণেও অংশ নিচ্ছেন ভক্তরা।
তিন দিনব্যাপী এ মহোৎসব উপলক্ষে খেতুরীধামে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মেলা। মেলায় ধর্মীয় উপকরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী, কারুশিল্পের পণ্য এবং কামার-কুমারের তৈরি মৃৎ ও লৌহজাত সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, খেতুরীর এ মেলা সন্ন্যাসী ও ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব হলেও সম্প্রীতির বন্ধনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে অংশ নেন।
খেতুরীধাম ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল বলেন, শত শত বছর ধরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষও সম্প্রীতির টানে এখানে আসেন। ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এবারও উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উৎসবের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন মিয়া জানান, উৎসবে আগত ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসব প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে নজরদারি রাখা হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সহযোগিতাও রয়েছে।
ঠাকুর নরোত্তম দাসের স্মৃতিবিজড়িত খেতুরীধাম
ঠাকুর নরোত্তম দাস গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম বিশিষ্ট সাধক ও পদকর্তা। খেতুরীধাম তার সাধনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তার স্মরণে প্রতিবছর এখানে তিরোভাব মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উৎসব বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কীর্তন ও ঐতিহ্যবাহী মেলার মধ্য দিয়ে প্রতিবছর খেতুরীধামে ভক্তদের মিলন ঘটে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের অংশগ্রহণে উৎসবটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।






















