পঞ্চগড়ে শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি, সার সংকট নিয়ে অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:২৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি, সার সংকট নিয়ে অভিযোগ
ভালো ফলন ও শুরুর দিকে বেশি দাম পেয়ে লাভের আশা; রবি মৌসুমে শিম চাষের জমি ২৪০ হেক্টর ছাড়ানোর সম্ভাবনা
মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
কৃষিতেই সমৃদ্ধি, কৃষিতেই পরিবারের অর্থনীতি-এমন প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন পঞ্চগড়ের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিমসহ নানা ফসলের আবাদে সবুজ হয়ে উঠেছে মাঠ। ভালো ফলন ও লাভের আশায় কেউ নিজের জমিতে, আবার কেউ বর্গা নেওয়া জমিতে চাষাবাদ করছেন। তবে শিমের ভালো ফলনের পাশাপাশি সার সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষের কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন কৃষক।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দেবীযাদু এলাকার শিমচাষি আনারুল ইসলাম আধা বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, এবার তার জমিতে শিমের ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। খরচ বাদে এ জমি থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
তবে সার সংকটের কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন পাননি বলে অভিযোগ করে আনারুল বলেন, সার সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সময় প্রয়োজনমতো সার পাওয়া যায় না। সার ও কীটনাশক সহজলভ্য হলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।
একই এলাকার আরেক কৃষক জানান, ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১৮ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন তিনি। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শিম ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তার মতে, বীজ রোপণের প্রায় দুই মাস পর ফলন আসতে শুরু করে। এরপর প্রায় তিন মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে শিম সংগ্রহ করা যায়। তিনি সাধারণত সপ্তাহে একবার শিম তোলেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ডোলোপাড়া এলাকার কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমির শিম বিক্রি করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। শুরুতে তুলনামূলক কম শিম পাওয়া গেলেও পরে উৎপাদন বাড়তে থাকে। পর্যায়ক্রমে এক বিঘা জমি থেকে ২০ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত শিম সংগ্রহ করা যায় বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের মেহেরপাড়া এলাকার কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিমের ফলন ভালো হয়েছে এবং শুরুর দিকে দামও ভালো পেয়েছেন। তবে বর্তমানে তার টিএসপি সার প্রয়োজন হলেও তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। কৃষকদের দাবি, প্রয়োজনীয় সার সময়মতো ও সহজে পাওয়া গেলে শিমের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে পঞ্চগড়ে ১৭০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। অন্যদিকে, শীতকালীন শিমের আবাদ রবি মৌসুমে শুরু হচ্ছে। এ মৌসুমে শিম চাষের জমির পরিমাণ ২৪০ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, জেলায় কোনো সার সংকট নেই। শিমের ফলনও ভালো হয়েছে। রবি মৌসুমে শিমের আবাদ চলবে আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ সময়ে উৎপাদনও বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ভালো ফলন ও বাজারদরের কারণে শিম চাষে লাভের প্রত্যাশা করছেন পঞ্চগড়ের কৃষকরা। তবে কৃষকদের একাংশের সারপ্রাপ্তি নিয়ে অভিযোগ এবং কৃষি বিভাগের সার সংকট না থাকার বক্তব্য-দুই বিষয়েই মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।






















