শাকিল হ/ত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হতে হবে- প্রতিমন্ত্রী পুতুল
- আপডেট সময় : ০৮:২২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

শাকিল হ/ত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হতে হবে- প্রতিমন্ত্রী পুতুল
নিহতের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ; হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি, ভাঙচুর না করার আহ্বান
এম এম মামুনঃ
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিহত শাকিলের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শাকিল হত্যার বিচার হতেই হবে বাংলার মাটিতে। তাকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। অপরাধী যেই হোক, তার সাজা হতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয়, সে চেষ্টা থাকবে আমাদের।
তিনি আরও বলেন, হত্যার ঘটনায় কোনো ভাঙচুর করা যাবে না। আমি শাকিলকে ঢাকায় হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। কবর জিয়ারতের সময় ওর ছবি শুধু চোখের সামনে ভাসছিল।
কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী শাকিলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় নাটোর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও মিজানুল হক ডিউক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল মালুম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাকিল হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার বাবা রবিউল বলেন, আমি আমার ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই। কিন্তু পুলিশ আমার দেওয়া আসামিদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামে মামলা দিয়েছে। এজন্য শাকিল হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটির তদন্ত থানা-পুলিশ থেকে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। এ মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তাধীন; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না।
এদিকে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব এবং শাকিলের করা জীবননাশের আশঙ্কাসংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা।
শাকিলের কবর জিয়ারতের আগে ও পরে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘শাকিল কবরে-খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই দিতে হবে’-এমন স্লোগান দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে শাকিলের ওপর হামলা চালায় হেলমেট পরা দুই যুবক। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে তাকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজশাহী এবং পরে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শাকিল হত্যার ঘটনায় বিচার দাবি করে আসছেন তার পরিবার ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তারা।






















