নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের একাংশের
- আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৯১ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের একাংশের
নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র আন্দোলনের একটি পক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় একটি চাইনিজ রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন সরকার পতন আন্দোলনের মাঠপর্যায়ে থাকা শিক্ষার্থীদের একাংশ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে পূর্নবাসন করা এব প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকার পতন আন্দোলনকারী শিক্ষাথী নাঈম ইসলাম বলেন, বর্তমানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের দুটি গ্রুপ নাটোরে বিদ্যমান রয়েছে। যার একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম এবং শিশির মাহমুদ। নাটোরে কোনো সমন্বয়ক না থাকলেও তারা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। সেই সাথে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা চাচ্ছে।
নাঈম ইসলাম আরো বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মতবিনিময় সভায় মিম-শিশির নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম রেজাকে দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। যা দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। এরপর সিয়াম রেজার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে হাতাহাতি হয়। সেসময় শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম ওই বাহিনী দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারী কলেজ মাঠের ম ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে মিম সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে গনমাধ্যমে বক্তব্যে দেয়। অপর দিকে শিশির গণমাধ্যমে ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপায়। মিম-শিশির ১৮ তারিখের কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকলেও ৪ আগস্টের সরকার পতনের আন্দোলনে তারা ছিলেননা। অথচ ৫ আগস্টের পর থেকেই প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে মিম ও শিশির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পূর্নবাসিত করে নিজস্ব বলয় তৈরি করতে থাকে। তারা টিসিবি,ওএমএস ডিলারশীফের দায়িত্বে থাকা আওয়ামীলীগের তালিকাভুক্ত ডিলারদের কাছে থেকে সুবিধা নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে গিয়ে তদবির করে অর্থ নিয়েছেন।
মো. ইব্রাহীম নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যারা এক দফার কবর দিতে চেয়েছিল। তাদের অনেকেরই এখন সমন্বয়ক হওয়ার সাধ হয়েছে। সমন্বয়ক পরিচয়ে কেউ যদি সরকারি দপ্তর সহ বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক সুবিধা নিতে চায় তাহলে তাদের প্রতিরোধ করার আহ্বান করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রমাণ স্বরূপ প্রিন্ট করা বিভিন্ন স্টিল ছবি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকার পতনের আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী নক্ষত্র, সাদ প্রমুখ।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এবিষয়ে জানতে চাইলে শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথম থেকেই আমি আন্দোলনের সামনে ছিলাম। ৪ তারিখে আমাদের বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে আমি বের হতে পারিনি। তবে আমাদের বন্ধু সহকর্মীরা আন্দোলনে ছিল। ১১ তারিখে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম রেজা একজন আহতের অভিভাবক হিসেবে গিয়েছিলেন। তার ভাই আন্দোলনের সামনে ছিল। সিয়াম রেজা ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের দলবেঁধে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল্লাহ মিম বলেন, আমাদের কাছে বেশ কয়েকজন ফুডগ্রেন্ট লাইসেন্সধারী এসে বলেন যে তারা খাদ্য (চাল) তুলতে পারছেন না। এবিষয়ে জানতেই ওই দপ্তরে গিয়েছিল। আমরা ব্যক্তিগতভাবে লাইসেন্স চাইতে বা কাউকে পাইয়ে দিতে যাইনি বা কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিলনা। সেখানে আওয়ামী লীগের এক কর্মী আগে থেকেই ছিল, যাকে নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছে, আসলে ঘটনাটি কাকতালীয় ছিল।
শিশির মাহমুদও তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকে মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে উল্টো অভিযোগকারীদেরকেই সুবিধাবাদী বলেন। তাদের কেউ কেউ ছাত্রলীগের সাথে রয়েছেন। যা আমাদের কাছে প্রমান রয়েছে। তারাই ছাত্রলীগের দুস্কৃতিদের দিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর অনিমা চৌধুরী অডিটেরিয়ামে কেন্দ্রীয় সমন্বায়কর্দে মতবিনিময় সভায় হট্টোগোল বাধানো সহ এন এস সরকারী কলেজ মাঠের মঞ্চ ভাংচুর করিয়েছে। এসব ঘটনার প্রমান রয়েছে তাদের কাছে বলে তিনি দাবি করেন।



















