ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রীবরদীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লবের বাড়িতে ৭ গরু নিয়ে অভিযান, রসিদ দেখিয়ে ছাড় বাগাতিপাড়ায় ঘুমন্ত ভ্যানচালককে সাপের দংশন, হাসপাতালে মৃত্যু গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল-বৃত্তি, গৃহের চাবি বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের ফের হামলা, এমপি নওশাদ জমিরের দুই সমর্থক আহত পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রী ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু; গ্রেপ্তার ২ দেওয়ানগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজছাত্রীর বিয়ের দাবি, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ পবায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি, জরিমানা ঢাকায় রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যানুয়াল পার্টনার সামিট ‘রেডমিন হরাইজন ২০২৬’ নাটোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শেরপুরে পাঁচ দই কারখানাকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের একাংশের

নাটোর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৯১ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের একাংশের

নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র আন্দোলনের একটি পক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় একটি চাইনিজ রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন সরকার পতন আন্দোলনের মাঠপর্যায়ে থাকা শিক্ষার্থীদের একাংশ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে পূর্নবাসন করা এব প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকার পতন আন্দোলনকারী শিক্ষাথী নাঈম ইসলাম বলেন, বর্তমানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের দুটি গ্রুপ নাটোরে বিদ্যমান রয়েছে। যার একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম এবং শিশির মাহমুদ। নাটোরে কোনো সমন্বয়ক না থাকলেও তারা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। সেই সাথে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা চাচ্ছে।

নাঈম ইসলাম আরো বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মতবিনিময় সভায় মিম-শিশির নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম রেজাকে দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। যা দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। এরপর সিয়াম রেজার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে হাতাহাতি হয়। সেসময় শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম ওই বাহিনী দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারী কলেজ মাঠের ম ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে মিম সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে গনমাধ্যমে বক্তব্যে দেয়। অপর দিকে শিশির গণমাধ্যমে ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপায়। মিম-শিশির ১৮ তারিখের কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকলেও ৪ আগস্টের সরকার পতনের আন্দোলনে তারা ছিলেননা। অথচ ৫ আগস্টের পর থেকেই প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে মিম ও শিশির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পূর্নবাসিত করে নিজস্ব বলয় তৈরি করতে থাকে। তারা টিসিবি,ওএমএস ডিলারশীফের দায়িত্বে থাকা আওয়ামীলীগের তালিকাভুক্ত ডিলারদের কাছে থেকে সুবিধা নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে গিয়ে তদবির করে অর্থ নিয়েছেন।

মো. ইব্রাহীম নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যারা এক দফার কবর দিতে চেয়েছিল। তাদের অনেকেরই এখন সমন্বয়ক হওয়ার সাধ হয়েছে। সমন্বয়ক পরিচয়ে কেউ যদি সরকারি দপ্তর সহ বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক সুবিধা নিতে চায় তাহলে তাদের প্রতিরোধ করার আহ্বান করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রমাণ স্বরূপ প্রিন্ট করা বিভিন্ন স্টিল ছবি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকার পতনের আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী নক্ষত্র, সাদ প্রমুখ।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এবিষয়ে জানতে চাইলে শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথম থেকেই আমি আন্দোলনের সামনে ছিলাম। ৪ তারিখে আমাদের বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে আমি বের হতে পারিনি। তবে আমাদের বন্ধু সহকর্মীরা আন্দোলনে ছিল। ১১ তারিখে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম রেজা একজন আহতের অভিভাবক হিসেবে গিয়েছিলেন। তার ভাই আন্দোলনের সামনে ছিল। সিয়াম রেজা ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের দলবেঁধে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল্লাহ মিম বলেন, আমাদের কাছে বেশ কয়েকজন ফুডগ্রেন্ট লাইসেন্সধারী এসে বলেন যে তারা খাদ্য (চাল) তুলতে পারছেন না। এবিষয়ে জানতেই ওই দপ্তরে গিয়েছিল। আমরা ব্যক্তিগতভাবে লাইসেন্স চাইতে বা কাউকে পাইয়ে দিতে যাইনি বা কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিলনা। সেখানে আওয়ামী লীগের এক কর্মী আগে থেকেই ছিল, যাকে নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছে, আসলে ঘটনাটি কাকতালীয় ছিল।

শিশির মাহমুদও তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকে মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে উল্টো অভিযোগকারীদেরকেই সুবিধাবাদী বলেন। তাদের কেউ কেউ ছাত্রলীগের সাথে রয়েছেন। যা আমাদের কাছে প্রমান রয়েছে। তারাই ছাত্রলীগের দুস্কৃতিদের দিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর অনিমা চৌধুরী অডিটেরিয়ামে কেন্দ্রীয় সমন্বায়কর্দে মতবিনিময় সভায় হট্টোগোল বাধানো সহ এন এস সরকারী কলেজ মাঠের মঞ্চ ভাংচুর করিয়েছে। এসব ঘটনার প্রমান রয়েছে তাদের কাছে বলে তিনি দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের একাংশের

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের একাংশের

নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নামে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র আন্দোলনের একটি পক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় একটি চাইনিজ রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন সরকার পতন আন্দোলনের মাঠপর্যায়ে থাকা শিক্ষার্থীদের একাংশ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে পূর্নবাসন করা এব প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকার পতন আন্দোলনকারী শিক্ষাথী নাঈম ইসলাম বলেন, বর্তমানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের দুটি গ্রুপ নাটোরে বিদ্যমান রয়েছে। যার একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম এবং শিশির মাহমুদ। নাটোরে কোনো সমন্বয়ক না থাকলেও তারা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। সেই সাথে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা চাচ্ছে।

নাঈম ইসলাম আরো বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মতবিনিময় সভায় মিম-শিশির নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম রেজাকে দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। যা দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। এরপর সিয়াম রেজার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে হাতাহাতি হয়। সেসময় শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম ওই বাহিনী দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারী কলেজ মাঠের ম ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে মিম সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে গনমাধ্যমে বক্তব্যে দেয়। অপর দিকে শিশির গণমাধ্যমে ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপায়। মিম-শিশির ১৮ তারিখের কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকলেও ৪ আগস্টের সরকার পতনের আন্দোলনে তারা ছিলেননা। অথচ ৫ আগস্টের পর থেকেই প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে মিম ও শিশির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পূর্নবাসিত করে নিজস্ব বলয় তৈরি করতে থাকে। তারা টিসিবি,ওএমএস ডিলারশীফের দায়িত্বে থাকা আওয়ামীলীগের তালিকাভুক্ত ডিলারদের কাছে থেকে সুবিধা নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে গিয়ে তদবির করে অর্থ নিয়েছেন।

মো. ইব্রাহীম নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যারা এক দফার কবর দিতে চেয়েছিল। তাদের অনেকেরই এখন সমন্বয়ক হওয়ার সাধ হয়েছে। সমন্বয়ক পরিচয়ে কেউ যদি সরকারি দপ্তর সহ বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক সুবিধা নিতে চায় তাহলে তাদের প্রতিরোধ করার আহ্বান করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রমাণ স্বরূপ প্রিন্ট করা বিভিন্ন স্টিল ছবি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকার পতনের আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী নক্ষত্র, সাদ প্রমুখ।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এবিষয়ে জানতে চাইলে শেখ ওবায়দুল্লাহ মিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথম থেকেই আমি আন্দোলনের সামনে ছিলাম। ৪ তারিখে আমাদের বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে আমি বের হতে পারিনি। তবে আমাদের বন্ধু সহকর্মীরা আন্দোলনে ছিল। ১১ তারিখে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম রেজা একজন আহতের অভিভাবক হিসেবে গিয়েছিলেন। তার ভাই আন্দোলনের সামনে ছিল। সিয়াম রেজা ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের দলবেঁধে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল্লাহ মিম বলেন, আমাদের কাছে বেশ কয়েকজন ফুডগ্রেন্ট লাইসেন্সধারী এসে বলেন যে তারা খাদ্য (চাল) তুলতে পারছেন না। এবিষয়ে জানতেই ওই দপ্তরে গিয়েছিল। আমরা ব্যক্তিগতভাবে লাইসেন্স চাইতে বা কাউকে পাইয়ে দিতে যাইনি বা কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিলনা। সেখানে আওয়ামী লীগের এক কর্মী আগে থেকেই ছিল, যাকে নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছে, আসলে ঘটনাটি কাকতালীয় ছিল।

শিশির মাহমুদও তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকে মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে উল্টো অভিযোগকারীদেরকেই সুবিধাবাদী বলেন। তাদের কেউ কেউ ছাত্রলীগের সাথে রয়েছেন। যা আমাদের কাছে প্রমান রয়েছে। তারাই ছাত্রলীগের দুস্কৃতিদের দিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর অনিমা চৌধুরী অডিটেরিয়ামে কেন্দ্রীয় সমন্বায়কর্দে মতবিনিময় সভায় হট্টোগোল বাধানো সহ এন এস সরকারী কলেজ মাঠের মঞ্চ ভাংচুর করিয়েছে। এসব ঘটনার প্রমান রয়েছে তাদের কাছে বলে তিনি দাবি করেন।