শ্রীবরদীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লবের বাড়িতে ৭ গরু নিয়ে অভিযান, রসিদ দেখিয়ে ছাড়
- আপডেট সময় : ১২:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

শ্রীবরদীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লবের বাড়িতে ৭ গরু নিয়ে অভিযান, রসিদ দেখিয়ে ছাড়
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা গরু রাখার অভিযোগে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি। অভিযানে তাঁর খামারের শেড থেকে সাতটি গরু উদ্ধার করা হয়। তবে গরুগুলো স্থানীয় বাজার থেকে কেনার রসিদ দেখানো হলে ভারতীয় উৎসের বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ না থাকায় সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী ১ নম্বর সিংগাবর্না ইউনিয়নের মাটিভাটা এলাকায় বিপ্লবের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গরু চোরাচালানের বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ফুল মিয়া ওই এলাকায় যান। একপর্যায়ে গরুগুলো বিপ্লবের খামারের শেডে রাখা হয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদকে জানানো হলে তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
অভিযানে খামারের শেড থেকে সাতটি গরু পাওয়া যায়। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে গরুগুলো ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে ইউএনও গরুগুলো জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তবে গরু জব্দের সময় বিপ্লবের স্বজন ও অনুসারীরা বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন বলে বিজিবি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ সময় বিপ্লবের অনুসারীরা দাবি করেন, গরুগুলো স্থানীয় বাজার থেকে কেনা। এর সমর্থনে তারা গরু কেনার রসিদও দেখান। পরে গরুগুলোর ভারতীয় উৎসের বিষয়ে শক্ত কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ইউএনওর নির্দেশে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
কর্ণঝোড়া বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ফুল মিয়া বলেন, গরুগুলোর বিষয়ে সকালে তাঁরা তথ্য পান। ধাওয়া করে গরুগুলো আটক করা সম্ভব না হলেও পরে জানতে পারেন, সেগুলো বিপ্লবের খামারের শেডে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে গরুগুলো ভারতীয় বলে শনাক্ত করা হয়। পরে ইউএনও ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে গরুগুলো জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, গরু জব্দের সময় বিপ্লবের অনুসারীরা ব্যাপক বাধা ও মারমুখী আচরণ করেন। পরে তাঁরা স্থানীয় বাজার থেকে গরু কেনার রসিদ দেখান। শক্ত কোনো প্রমাণ না থাকায় ইউএনওর নির্দেশে গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও মারমুখী আচরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, তথ্যের ভিত্তিতে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিজিবির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে গরুগুলো জব্দ করে থানার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেখানে বিপ্লবের অনুসারীরা বাধা দেন এবং গরুগুলো নিজেদের বলে দাবি করে স্থানীয় বাজার থেকে কেনার রসিদ দেখান। এ কারণে গরুগুলোর ভারতীয় উৎসের বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ না থাকায় সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও আরও বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও মব সৃষ্টির বিষয়ে প্রশাসন চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিপ্লবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মাদক, গরু ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্বজনরা এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।




















